সাকিবকে ছাড়া এশিয়া কাপে খেলতে চান না বোর্ড সভাপতি

ক্রীড়া প্রতিবেদক

শুক্রবার , ১০ আগস্ট, ২০১৮ at ৮:০৬ পূর্বাহ্ণ
28

সাকিব আল হাসান এশিয়া কাপে খেলতে পারবে কিনা তা নির্ভর করছে তার আঙ্গুলে অপারেশনের উপর। এশিয়া কাপের আগে যদি অপারেশন করাত চান সাকিব তাহলে তাকে বাদ দিতে হবে এশিয়া কাপে খেলার ইচ্ছা। আর যদি এশিয়া কাপে খেলতে চান তাহলে এরপর অপারেশন করাতে হবে। এদিকে গতকাল সকালে দেশে ফিরে সাকিব আল হাসান যা বলেছিলেন, তাতে এশিয়া কাপে তার খেলা নিয়ে ছিল শঙ্কা। কিন্তু গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান জানালেন ভিন্ন মত। তার চাওয়া, এশিয়া কাপ খেলে অন্য সময় হোক সাকিবের আঙুলে অস্ত্রোপচার। সেটি হতে পরে জিম্বাবুয়ে সিরিজের সময়।

বাঁহাতের কনিষ্ঠায় ইনজুরির কারণে গত কিছু দিন ধরে ব্যথানাশক ইনজেকশন নিয়ে খেলেছেন সাকিব। চাইলে এভাবে ইনজেকশন নিয়ে আপাতত খেলা চালিয়ে যাওয়া যায়। তবে ইনজুরি থেকে মুক্তি পেতে হলে অস্ত্রোপচারের বিকল্প নেই। সেক্ষেত্রে তার মাঠের বাইরে থাকতে হবে ছয় থেকে আট সপ্তাহ। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে সাকিব জানান, পুরো ফিট হয়েই তিনি মাঠে নামতে চান। অস্ত্রোপচার করাতে চান যত দ্রুত সম্ভব। সেক্ষেত্রে তাকে এশিয়া কাপে বাইরে থাকতে হবে।

গতকাল দুপুরে প্রধান কোচ স্টিভ রোডসের সঙ্গে বৈঠক করেন বোর্ড সভাপতি ও বোর্ড পরিচালকরা। তার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিসিবি সভাপতি জানালেন, সাকিবের অস্ত্রোপচারের সম্ভাব্য সময় নিয়ে তার ভাবনা। সাকিব আমাকে বলেছিল যে হাতে অপারেশন করাতে হবে। হেড কোচও ওখান থেকে ফোন করেছিল। কারণ যে স্ট্রেংথ ওর দরকার, সেটা পাচ্ছে না ব্যাটিংয়ে। ইনজেকশন নিয়ে খেলছে। কিন্তু অপারেশন হলে অন্তত ছয় সপ্তাহের বিরতি দরকার। এত লম্বা বিরতি পাওয়াটা কঠিন। চেষ্টা করা হচ্ছে যদি কোনো খেলার মাঝখানে করা যায়। আর তা না হলে একটা সিরিজই বাদ দিতে হবে। কিন্তু ওকে ছাড়া খেলা আমরা চিন্তাই করতে পারছি না।

তিনি বলেন সাকিবের অপারেশন এশিয়া কাপের আগেও হতে পারে আবার পরেও হতে পারে। আজকে কোচের সঙ্গে যে কথা হয়েছে। আর কোচ বলেছে এশিয়া কাপের কথাই। আমি বলেছি, এশিয়া কাপের চেয়ে ভালো হয় আমরা জিম্বাবুয়ে সিরিজের সময় করি। নতুন কিছু ক্রিকেটারও দেখতে পারব আমরা। এশিয়া কাপ এমনিতেই এবার কঠিন হবে। তার ওপর সাকিবের মতো একজন ক্রিকেটার না খেললে দলের মনোবল দুর্বল হয়ে যেতে পারে। তার পরও আরও কথা হবে। সাকিবের সঙ্গে কথা বলব। তবে আমার মনে হয়, অন্য সময় করাটাই ভালো হবে। কারন সাকিব দলের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ন সেটা দেখা গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে। ওয়ানডে এবং টিটোয়েন্টি সিরিজে সাকিবের কারনে দল জিতেছে সেটা ভুলে গেলে চলবেনা। কাজেই এশিয়া কাপের মত কঠিন আসরে সাকিবকে ছাড়া খেলাটা বেশি ঝুকিপূর্ন হয়ে যাবে। সেদিক থেকে চিন্তা করলে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজটি উপযুক্ত সময় হিসেবে দেখছেন বিসিবি সভাপতি।

গত জানুয়ারিতে দেশের মাটিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে এই আঙ্গুলে আঘাত পেয়েছিলন সাকিব। পরে সেই ইনজুরি কাটিয়ে ফিরেন মাঠে। কিন্তু ব্যথা ফিরে আসে আবারও। তার কনিষ্ঠার দুটি হাড় একসঙ্গে লেগে যাচ্ছে।

যেকারণে ব্যাটিংয়ে তাই দিতে পারছেন না শতভাগ। বল করতে খুব একটা সমস্যা হচ্ছেনা। কিন্তু ব্যাট নকরার সময় পুরো সামর্থ দিতে পারছেননা তিনি। যে কারণে অপারেশন করে নিজের পুরো ফিটনেসটা ফিরে পেতে চাইছেন সাকিব। আর সে টা কখন হবে সেটাই বড় একটা প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

x