সাঈদুল আরেফীন-এর কবিতাগুচ্ছ

শুক্রবার , ৫ জুলাই, ২০১৯ at ৭:১৭ পূর্বাহ্ণ
35

প্রিয়তম কবিতার খেলা

কবিতার নগরে আমার ছুটোছুটি, তোমারও
বেদনা বিলাসী কোন রচনা আজ
সৃষ্টি হতে চলেছে ; উন্মুখ হয়ে থেকেছো তুমি
দিনেরও পরে, সন্ধ্যে গড়িয়েছে,
নগর পরিক্রমায় জলোৎসব দেখেছো, কান্না আর জলে
পাহাড়ি ঢলে বৃষ্টি ধোয়া নগর ছুঁয়েছে তোমাকে,
আমাকেও কবিতাময় করেছে
লাজুক ইচ্ছের ভেতর। জীবন রঙের খেলায় উথাল পাথাল
ঢেউয়ের ভেতর ভেসেছি, আনমনা দুপুরে কেঁদেছি
কখনো কংক্রিট,পলেস্তারা ওঠা ক্ষয়িষ্ণু মনে চাপ রেখেছি,
সবুজাভ নগরে উদ্বাস্তু সময়ের প্রহরী হয়েছি,
হেঁটেছি। ঘুরেছি। কবিতার শব্দ বুনেছি,
শিল্পরূপ গীতিময় জীবনছবি এঁকেছি এই নগরে,
নগর এবড়ো থেবড়ো হয়েছে বুকের সীমান্তে ক্ষতরেখায়,
সবুজ দ্বীপে উষ্ণ মরুভূমি হয়েছো, তবু তুমি আছো
টানাপোড়েনের মানবিক খেলায়, আছি আমিও।
জলজলে নদী ও ভাসমান জনজোয়ারে চলছে মানুষ রিক্সা,
চলছে মোটরগাড়ি যেনো জলযান হয়ে তুমুল বৃষ্টি আর
খোলাকাশের মধ্যিখানে অন্যরূপে নাগরিক জলছবি এক
ভেসে আছি, নগরের কোলাহলে প্রিয়তম কবিতার খেলায়।

বৃষ্টি বিদ্রোহী

বৃষ্টির সাথে বিদ্রোহের সংযোগ দেখি, দেখি আনমনা মুখ
আকাশের সীমানায় রঙের এক পেলবতা নির্মাণ
ফিরে আসে রিমঝিম শব্দনূপুরের বিষণ্ন আবেগ
প্রশান্ত দুপুরে ঝরা বকুলেই খুঁজি সুখ,
অশ্রুতে নেমে আসে ভরা জোছনাদ্বীপ
জলের ওপর জল ভেসে যায় ভরপূর পাহাড়ি হ্রদ
উল্টোপথে ঘুরে আসে সেই মাহেন্দ্র সকাল
আবারও চোখের ওপর থোকা থোকা বৃষ্টির দুফোটা
জল এলোমেলো কাজল, কপালের টিপ
বৃষ্টির বিদ্রোহী ঝংকারে আঁটোসাটো সীমানায়
পাড়ি দেইআমি। দুঃসহ বিরহে কাটে সহস্র রাত
অজানা অচেনা বিকেল কোন বৃষ্টি সুন্দরীর;

জলসিঞ্চিত ধারা বেয়ে আসে বুকের ওপর
যমুনা গঙ্গা বয়ে চলে অজস্র স্রোতোলয় অসীমের পরতে
বিরহ মিলনে আবেগের জলসাায় ঝরে জল,
সৃষ্টির উন্মাদনায় হেঁটে চলে প্রেম, কবিতার ছন্দ
ঘনঘোর বরিষায় কাঁদে চোখ, কাঁদে হৃদয়
কখনো শিল্পের উঠোনে চিত্রিত জোড়া মুখ
একাকার করে সুবজাভ উপত্যকায় ওঠে
ঢেউ, আর লোকালয়ের প্রান্তর ছুঁয়ে আঁকি এক
অনুপম মানচিত্র; জলজলের আহবানে বেদনা ও বিরহের
বন্দরে ছুটতে থাকি বৃষ্টি বিদ্রোহী দুই মুখ।

ভিন্ন পথের যাত্রী
কেমন আছো বলতে পারলেই ভালো লাগতো
অভিশাপ নিইনি। অভিশাপ দিইনি। চেয়েছিলাম
প্রগাঢ় ভালোবাসা।
তুমি নেই; শূন্য আমি অচেনা আপন আলোয়,
সুখী হতে চেয়েও পারোনি, পারলে না তুমি?
শৈশবের জমানো কষ্টগুলো এখনো আঁকড়ে আছো তুমি,

যদি জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে পড়ো, তাহলে প্রশ্ন রাখি মনের ভেতর-
কোথায় তুমি আজ? শূন্যতার প্রহরগুলো কেটে গেছে,
দুষ্টু কতো মেঘ উড়ে চলে গেছে, দুঃখের গহীন দহনে
পুড়ে ছাই হয়েছে কতো,তবুও-
হৃদয় সীমান্তের দখিন দুয়ার খোলা রেখেছি কতোকাল
বেদনাশ্রয়ী কষ্টগুলো মাঝে মাঝেই টোকা দিয়ে গেছে,

এখানো অলীক সময়ে ঝিরঝির হাওয়া বইছে শুধু,
বাধাহীন গতিপথ পাড়ি দিচ্ছি অবিরত আমি তুমি দু’জন
তুমি নেই; তুমি নেই ; শুধু তুমি নেই, নেই??
অভিশাপের আগুনে জ্বলতে ও জ্বালাতে চাইনি কেউই,
বাঁধা-বন্ধনহীন উল্টোপথের যাত্রী ছিলাম, আছি।
অভিশাপ দিইনি, অবিচারের নেশায় ছুটিনি, তুমি আমি
ভিন্ন পথের যাত্রী ছিলাম, জীবন যন্ত্রণাটুকু নিয়েছি,
নেবো কষ্ট্‌,কষ্ট আরো কষ্ট হৃদয়ে রক্তক্ষরণের মতো
এ অঙ্গীকার করে গেলাম ।

মা যায়, ছুটে যায়

সেদিনও আকাশ কেঁদেছিলো
শুকনো মরুভূমির মতো।
কাঁপছিলো বুক,
নক্ষত্র মাঝে আলোর ঝলকানি,
এতো আলো এতো আয়োজনে ভড়কে গেছি।
ভাসছিলো চোখে শৈশব কৈশোর- চোখ রাঙানি,
মায়ের বকুনি। যেনো এই তো সেদিনই
সব কিছু হাতের মুঠোয় ছিলো, রঙধনু রঙ
বিকেল ছিলো। অমাবস্যা আর পূর্ণিমার চাঁদ ছিলো হাতে।

সন্ধ্যে পেরিয়ে রাত ভোর হয় হয়
সকাল হলেই নিরব নিথর থরো থরো বুক
পৃথিবীর সকল মায়া নিঃশেষ হয়
অস্থিমজ্জা কাঁপিয়ে হাস্যস্পন্দিত বুকে
শেষ স্মৃতিচিহ্নটুকু ও আঁকে মা!
হাতের রেখায় চেপে চোখে মুখে
তীব্র যন্ত্রণার ক্ষত রেখে পাড়ি জমায়
সেই দূর নক্ষত্র মাঝে,
মা যায়, ছুটে যায়
যোজন যোজন দূরে ——–

x