সাইবার অপরাধ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে

মঙ্গলবার , ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ
33

সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশন সাইবার অপরাধ বিষয়ক এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। তাতে বলা হয়েছে, দেশে সংঘটিত সাইবার অপরাধের আখড়া হয়ে উঠছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। আর এতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী মেয়েরা। ভুক্তভোগীদের মধ্যে ১৮ বছরের কম ১০.৫২%, ১৮ থেকে ৩০ বছরের কম ৭৩.৭১%, ৩০ থেকে ৪৫ বছর ১২.৭৭% এবং ৪৫ বছরের বেশী ৩%। কিন্তু প্রতিকারের উপায় নিয়ে স্বচ্ছ ধারণার অভাব এবং লোকলজ্জা ও ভয়-ভীতির কারণে সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়, লিঙ্গ ভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেশে সাইবার অপরাধের শিকার ভুক্তভোগীদের ৫১.১৩ শতাংশ নারী এবং ৪৮.৮৭ শতাংশ পুরুষ। অপরাধের ধরণ ব্যাখ্যায় ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যাকাউন্ট জাল ও হ্যাক করে তথ্য চুরির মাধ্যমে অনলাইনে সবচেয়ে বেশি অনিরাপদ বাংলাদেশের নারীরা। গড়ে অনলাইনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া অ্যাকাউন্টে অপপ্রচারের শিকার হন ১৪.২৯ শতাংশ নারী। একই ধরনের অপরাধের শিকার হন ১২.৭৮ শতাংশ পুরুষ। অবশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আইডি হ্যাকিং/ তথ্য চুরির শিকার নারী- পুরুষের অনুপাতে পুরুষের অবস্থান দ্বিগুণের চেয়ে বেশি। এক্ষেত্রে ১৩.৫৩ শতাংশ পুরুষ আক্রান্ত হলেও নারী আক্রান্তের হার ৫.২৬ শতাংশ। অপরাধের ধরনে তৃতীয় অবস্থানে থাকা ছবি বিকৃতির মাধ্যমে অনলাইনে অপপ্রচারে নারী-পুরুষের এই অনুপাত অনেকটাই বিপ্রতীপ বলা চলে। এই অপরাধে আক্রান্ত নারীর হার ১২.০৩% হলেও পুরুষের বেলায় তা ৩.৭৬%। অনলাইনে হুমকিমূলক বার্তা প্রাপ্তির হার নারী ৯.৭৭% এবং পুরুষ ভুক্তভোগী ৩.৭৬%। তবে হয়রানির শিকার হলেও ভুক্তভোগীদের ৩০ শতাংশই এর বিরুদ্ধে কীভাবে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয় সে বিষয়ে জানেন না। বাকিদের মধ্যে ২৫ শতাংশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ করেও কোনো লাভ হবে না ভেবে অভিযোগ করেন না।
১০ সেপ্টেম্বর ‘বাড়ছে সাইবার অপরাধ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে দৈনিক আজাদীতে। এতে বলা হয়েছে, ফেসবুকে পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে খুনের ঘটনা ঘটছে হরহামেশা। ঘটছে আত্মহত্যা, মানহানি, গুজবকে কেন্দ্র করে গণপিটুনি, গ্রুপিং, সংঘর্ষসহ নানা অপরাধ। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের দাবি, এ সংক্রান্ত আইন আছে, আইনের প্রয়োগও চলছে। তবু নিত্যনতুন প্রক্রিয়ায় যে যেভাবে পারছে স্ট্যাটাস দিচ্ছে। কখনো ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে, কখনো আবার মনের অজান্তে এমন কোনো স্ট্যাটাস দিচ্ছে, যা বিপদের কারণ হয়ে উঠছে। এতে আরো বলা হয়েছে, বাড়ছে কম্পিউটার, বাড়ছে মোবাইল ফোন। সেই সঙ্গে বাড়ছে ইন্টারনেট, এসএমএসসহ অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহারকারীর সংখ্যা। একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে এটির অন্ধকার জগতের ঝুঁকি। বাড়ছে সাইবার অপরাধের মামলাও। অংকের হিসাবে গত বছর এ অপরাধের মামলা বেড়েছে প্রায় ২০০ গুণ। আর এসব মামলার বেশিরভাগই করা হচ্ছে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায়।
আর ৫৭ ধারায় বলা আছে, ‘৫৭ (এক) কোনো ব্যক্তি যদি ওয়েবসাইটে বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সমপ্রচার করেন, যাহা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেহ পড়িলে, দেখিলে বা শুনিলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হইতে উদ্বুদ্ধ হইতে পারেন অথবা যাহার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করিতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উসকানি প্রদান করা হয়, তাহা হইলে তাহার এই কার্য হইবে একটি অপরাধ। (দুই) কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন অপরাধ করিলে তিনি অনধিক চৌদ্দ বছর এবং অন্যূন সাত বৎসর কারাদণ্ডে এবং অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।’
ফেসবুক এখন সবার হাতের নাগালে। খুব কম খরচে ফেসবুক ব্যবহার করা যায় আমাদের দেশে এখন। প্রযুক্তির এই ছোঁয়ায় আমাদের দেশ বদলেছে অনেক। কিন্তু এই ফেসবুকের মাধ্যমে করা ক্রাইম এখন বেড়েই চলেছে। সহজলভ্য হয়ে পড়ায় ফেসবুকে সাইবার ক্রাইম এখন আমাদের দেশে অনেক বড় একটি সমস্যা। দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এই ক্রাইম আমাদের দেশে। এই অবস্থা চলতে থাকলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হবে। তাই সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মীদের তৎপরতা বাড়াতে হবে।

x