সাংবাদিক সন্তোষ গুপ্ত : সর্বকালীন ও কালোত্তীর্ণ

বুধবার , ৯ জানুয়ারি, ২০১৯ at ২:২২ পূর্বাহ্ণ
9

সন্তোষ গুপ্ত – বরেণ্য সাংবাদিক, লেখক এবং সাহিত্যিক। দীর্ঘদিন তিনি দৈনিক সংবাদ-এ জ্যেষ্ঠ সহকারী সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন। স্বনামের পাশাপাশি ‘অনিরুদ্ধ’ ছদ্মনামেও লিখতেন। আজ তাঁর ৯৪তম জন্মবার্ষিকী।
সন্তোষ গুপ্তের জন্ম ১৯২৫ সালের ৯ জানুয়ারি ঝালকাঠি জেলার রুনসী গ্রামে। ছাত্রজীবন থেকেই অসাধারণ মেধাবী সন্তোষ ঝালকাঠি পি. কে. ইনস্টিটিউট থেকে মাধ্যমিক পাস করে কলকাতার সিটি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক-এ অধ্যয়ন করেন। ১৯৪৪ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে চাকরি নেন কলকাতার রাইটার্স বিল্ডিং-এ আইজি প্রিজন অফিসে। এখানেই তাঁর কর্মজীবনের শুরু। ১৯৪৭ সালে দেশবিভাগের পর ঢাকায় বদলি হয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। ছাত্রজীবন থেকেই সন্তোষ গুপ্ত বাম রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। কলকাতা কমিউনিস্ট পার্টিও সাথে তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল। ঢাকায় এসেও কমিউনিস্ট পার্টিতেই যোগ দেন। তাঁর সাংবাদিকতা জীবনের শুরু ১৯৫৭ সালে দৈনিক সংবাদ-এ। দৈনিক আজাদ-এও কিছুকাল কাজ করেছেন। তবে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত দৈনিক সংবাদ-এর সাথে যুক্ত ছিলেন। এই পত্রিকায় ‘অনিরুদ্ধের কলাম’ শিরোনামে তাঁর নিয়মিত কলাম ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সন্তোষ গুপ্ত প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য বিভাগে কাজ করেছেন। সাংবাদিকতা ও রাজনৈতিক জীবনে বহুবার তাঁকে জেলজুলুম সহ্য করতে হয়েছে। কিন্তু বরাবরই তিনি ছিলেন নির্ভিক ও আপোষহীন।
সাংবাদিকতা, রাজনীতি, শিল্প, সাহিত্য, কবিতা, চিত্রকলা প্রভৃতি বিষয়ে তাঁর বেশ কিছু গ্রন্থ রয়েছে। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য : ‘অনুত্তম বক্তব্য’, ‘স্মৃতি-বিস্মৃতির অতলে’, ‘ইতিহাসের ছায়াচ্ছন্ন প্রহর ও বঙ্গবন্ধু’, ‘ইতিহাস আমাদের দিকে’, ‘বাংলাদেশে চিত্রশিল্প : স্বরূপের সন্ধান’ ইত্যাদি। সাংবাদিকতা ও সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য সন্তোষ গুপ্ত একুশে পদক, শেরে বাংলা পদক, মাওলানা তর্কবাগীশ পদক, জহুর হোসেন স্মৃতি পদক সহ বহু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। আমৃত্যু তিনি লেখালেখি করে গেছেন। তাঁর রচনা সমকালীন হয়েও সর্বকালীন, সাম্প্রতিক হয়েও কালোত্তীর্ণ। ২০০৪ সালের ৬ আগস্ট তিনি প্রয়াত হন।

Advertisement