সাংবাদিক বা সংবাদকর্মীরা হচ্ছেন গণমাধ্যমের প্রাণ

বুধবার , ১২ জুন, ২০১৯ at ৫:৩১ পূর্বাহ্ণ
27

৩রা মে দিনটি ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ডে বা বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস হিসাবে পালন করা হয়। প্রতিটি দিবসের মতো এটিও পালন করা হয় তবে -এর স্বাধীনতা কতটুকু! প্রতিটি গণমাধ্যম সমাজ ও দেশের দর্পণ। গণমাধ্যমের ভাষা প্রকাশিত হয় প্রিন্ট মিডিয়া ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে। গণমাধ্যমের কর্মীরা বিভিন্ন সংবাদপত্র ও বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে সংবাদ উপস্থাপন করে থাকে। সাংবাদিক বা সংবাদকর্মীরা হচ্ছেন গণমাধ্যমের প্রাণ। সমাজের অন্যায় অবিচার দুর্নীতির প্রতিবাদের একমাত্র হাতিয়ার সংবাদপত্র। গণমাধ্যমের সাথে দুটি পথ যুক্ত; একটি হচ্ছে গণমাধ্যম মালিক এবং অন্যটি হচ্ছে গণমাধ্যম কর্মী অর্থাৎ পরিষ্কার ভাষায় সাংবাদিক। এখানে গণমাধ্যমকর্মীর স্বাধীনতা থাকাটাই বাঞ্ছনীয়। আরো পরিষ্কার করে বললে, সংবাদকে বস্তুনিষ্ঠ ও অবিকৃতরূপে, কোনোরকম ভয়-ভীতি ছাড়া প্রকাশ ও প্রচারের স্বাধীনতা। কিন্তু একটা সময় দেখা যায় এটি আসলে গণমাধ্যম মালিকের স্বাধীনতা। যদিও করপোরেট পুঁজির দাপটে মালিকের স্বাধীনতাও এখন বিজ্ঞাপনদাতা ও রাজনীতিবিদদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এখানে মালিক-সাংবাদিক কেউই স্বাধীন নন। কিন্তু প্রেস ফ্রিডমের মানে আরো ব্যাপক। বিশেষ করে সাংবাদিকের কর্মের নিশ্চয়তা বা জব সিকিউরিটি, তার বেতন কাঠামো বা ওয়েজবোর্ড ইত্যাদি নিয়ে সাংবাদিক নেতারাও বেশি কথা বলতে আগ্রহী নন। অনেক আন্দোলন-সংগ্রামের পর সংবাদপত্রে ওয়েজবোর্ড চালু হলেও হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তা মানে। এখনো কোনো টেলিভিশনে ওয়েজবোর্ড চালু হয়নি। প্রতিটি টেলিভিশন তাদের নিজস্ব কাঠামোতে চলে। প্রেস ফ্রিডম মানে শুধু মুক্তভাবে সাংবাদিকতা করা নয়; বরং আপনি পাঠক-দর্শককে কী দিচ্ছেন, সেটি কতটা মানসম্মত, সেটি কতটা বিশ্বাসযোগ্য এবং কতটা তথ্যনির্ভর-সেটিও আলোচনায় থাকতে হবে। গণমাধ্যমে এখন প্রচুর নারীকর্মী কাজ করেন। নারীদের ছয় মাস মাতৃত্বকালীন ছুটির বিধান থাকলেও কয়টি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান এই ছুটি দেয় এবং বিবাহিত বা ছোট সন্তান আছে জানার পর কয়টি প্রতিষ্ঠান ওই নারীকে চাকরি দিতে উৎসাহ বোধ করে-সেটি নিয়েও আলোচনা হওয়া দরকার। কয়টি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের কর্মপরিবেশ নারীবান্ধব- সেটি নিয়েও কথা বলতে হবে, যদি আপনি সত্যি সত্যি প্রেস ফ্রিডম নিয়ে কথা বলতে চান। গণমাধ্যমের স্বাধীনতার অর্থ যদি হয় বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ ও প্রচারের স্বাধীনতা তাহলে এই বস্তুনিষ্ঠতার সংজ্ঞা নির্ধারণ করাও এখন জরুরি। কেননা আপনি যেটিকে বস্তুনিষ্ঠ বলছেন, সরকার বা সরকারি দলের নেতারা সেটিকে ‘নাশকতায় উসকানি’ বলে অভিহিত করতে পারে। বিভিন্ন গণমাধ্যম আজ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের দ্বারা পরিচালিত। গণমাধ্যম মালিকের যেমন স্বাধীনতা নাই; ঠিক তেমনি গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীরাও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না।
শ্রীধর দত্ত

x