সহজেই জিতল বাংলাদেশ

নজরুল ইসলাম

বৃহস্পতিবার , ১৬ মে, ২০১৯ at ৩:১৭ পূর্বাহ্ণ
130

আবু জায়েদ রাহির ক্যারিয়ারের আলো ছড়ানো বোলিং এর পর তামিম- লিটনের সৌরভ ছড়ানো ব্যাটিং। সব মিলিয়ে পরীক্ষা নীরিক্ষার ম্যাচটাতেও অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টানা দুই ম্যাচে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করা বাংলাদেশের জন্য আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল কেবলই আনুষ্ঠানিকতার। আর সে ম্যাচে টাইগাররা পরখ করে নিল তাদের বিশ্বকাপের রিজার্ভ বেঞ্চ। যদিও এ ম্যাচেও আলো ছড়িয়েছেন নিয়মিতরাই। দলে চারটি পরিবর্তন এনে গতকাল মাঠে নেমেছিল টাইগাররা। অবশ্য এতদিন বসে থাকারা খুব বেশি আলো ছড়াতে পারেনি। লিটন দাশ যদিও ছিলেন আলো ঝলমলে। তারপরও আনুষ্ঠানিকতার ম্যাচটিও উৎরে গেছে বাংলাদেশ একেবারে সহজেই। ফাইনালের অনুশীলনটা ভালই সারল বাংলাদেশ। স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়ে টুর্নামেন্টে অজেয় থাকল মাশরাফির দল। বল হাতে রাহি ভেল্কির পর ব্যাট হাতে তামিম-লিটনদের দৃঢ় সূচনা, মাঝখানে সাকিবের ক্যামিও এবং মাহমুদউল্লাহর দায়িত্বশীলতা সব মিলিয়ে দারুণ এক প্যাকেজ যেন এই জয়। ইনজুরিতে পড়ার আগে সাকিবের হাফ সেঞ্চুরিটাও হয়ে গেল। পুরো টুর্নামেন্টে দারুণ ধারাবাহিক সাকিব ৫০ রান করে ফিরেন পাজরের ব্যথা নিয়ে। তবে মাহমুদউল্লাহর দায়িত্বশীলতায় ম্যাচ জিততে মোটেও বেগ পেতে হয়নি বাংলাদেশের। অজেয় থেকে টুর্নামেন্টের ফাইনালে যাওয়া বাংলাদেশের সামনে এখন প্রথমবারের মত ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম শিরোপা জেতার হাতছানি।
গতকাল টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ২৩ রানে প্রথম উইকেট হারায় আয়ারল্যান্ড। টুর্নামেন্টে প্রথম খেলতে নামা রুবেল হোসেনের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে প্রথম স্লিপে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দেন জেমস ম্যাককলম। আগের ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৩৫ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেছিলেন বালবির্নি। এবারও ভয়ংকর হয়ে উঠার ইঙ্গিত ছিল তার ব্যাটে। কিন্তু তাকে ভয়ংকর হতে দিলেননা রাহি। ২০ বলে ২০ রানে পৌঁছে যাওয়া এই ব্যাটসম্যানকে মুশফিকুর রহিমের ক্যাচ বানিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে নিজের প্রথম উইকেট তুলে নেন আবু জায়েদ রাহী। ৫৯ রানে ২ উইকেট হারিয়ে কিছুটা বিপদে ছিল আয়ারল্যান্ড। সেখান থেকে তৃতীয় উইকেটে ১৭৪ রানের বিশাল এক জুটি গড়ে তুলেন পল স্টার্লিং আর উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড। দারুণ প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এ দুজন। একসময় দুজনই ছিলেন সেঞ্চুরির পথে। কিন্তু মাত্র ৬ রানের আক্ষেপ নিয়ে ফিরতে হয়েছে আইরিশদের সেরা ব্যাটসম্যান পোর্টারফিল্ডকে। আবু জায়েদ রাহীর বলে বাউন্ডারিতে লিটন দাসের দুর্দান্ত এক ক্যাচ হয়ে ফিরেন পোর্টারফিল্ড। ১০৬ বলে ৭টি চার এবং ২টি ছক্কায় ৯৪ রান করেন আইরিশ অধিনায়ক। দুইবার জীবন পেয়েও শতরান করতে পারলেন না পোর্টারফিল্ড। তবে সেঞ্চুরি তুলে নিতে ভুল করেননি স্টার্লিং। যদিও রাহির শিকার হয়েই ফিরেন তিনিও। তবে ফিরে আসার আগে ১৩০ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে ফিরেন এই আইরিশ। তার ১৪১ বলের ইনিংসে ৮টি চারের সঙ্গে ৪টি ছক্কার মার রয়েছে। এরপর রাহি এবং সাইফউদ্দিনের বোলিং তোপের মুখে পড়ে আর সুবিধা করতে পারেনি আয়ারল্যান্ডের পরের ব্যাটসম্যানরা। ফলে তিনশ রানের বেশি করার সম্ভাবনা জাগিয়েও করতে পারল না স্বাগতিকরা। শেষ পর্যন্ত ২৯২ রানে থামে স্বাগতিক আয়ারল্যান্ড। বাংলাদেশের পক্ষে বল হাতে সবচেয়ে সফল মাত্র দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলতে নামা আবু জায়েদ রাহী। নিজের অভিষেক ম্যাচে উইকেটশূন্য থাকলেও গতকাল দ্বিতীয় ম্যাচে করেছেন অসাধারন বোলিং। ৯ ওভার বল করে ৫৮ রান খরচায় রাহি নিয়েছেন ৫টি উইকেট। যদিও নিজের প্রথম ৬ ওভার পর্যন্ত উইকেটের দেখা পাননি রাহি। কিন্তু পরের তিন ওভারে আগুন ঝরালেন বল হাতে। সাইফউদ্দিন ২টি আর রুবেল হোসেন নিয়েছেন ১টি উইকেট।
২৯৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দারুন সুচনা করেন তামিম এবং লিটন। আগের ম্যাচে ফাইনাল নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় গতকাল সৌম্য সরকারকে বিশ্রামে দিয়ে লিটনকে ইনিংসের গোড়া পত্তন করতে পাঠানো হয় তামিমের সাথে। সুযোগটা দারুনভাবে কাজে লাগিয়েছেন লিটন। তামিমের সাথে ১১৭ রানের জুটি গড়েন মাত্র ১৬.৪ ওভারে। টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি এবং ক্যারিয়ারের ৪৬ তম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া তামিম ফিরলেন ৫৭ রান করে। তার ৫৩ বলের ইনিংসটিতে ছিল ৯টি দৃষ্টি নন্দন চারের মার। দ্বিতীয় উইকেটে সাকিবের সাথে ৪৩ রানের জুটি গড়ে ফিরলেন লিটন দাশ। হাফ সেঞ্চুরির পর সেঞ্চুরির দিকেই হাটছিলেন এই ওপেনার। কিন্তু ধৈর্য রাখতে পারলেন না। ফিরলেন ৭৬ রান করে। তামিমের মত তিনিও বোল্ড হলেন। মাত্র ৬৭ বলের ইনিংসটিতে ৯টি চারের পাশাপাশি একটি ছক্কা মেরেছেন লিটন দাশ। সাকিব হাফসেঞ্চুরি করে বিদায় নেন আহত হয়ে। মুশফিক নিজস্ব ৩৫ রান করে যখন ফিরে যান তখন দলীয় রান সংখ্যা ৩ উইকেটে ২২৪ রান। দলীয় ২৭৮ রানে আউট হন মোসাদ্দেক হোসেন মাত্র ১৪ রান করে। তবে মাহমুদউল্লাহ অপরাজিত ৩৫ এবং সাব্বির রহমান অপরাজিত ৭ রান করে বাকি পথ পাড়ি দেন। বাংলাদেশ তখন খেলার ৪২ বল বাকি রেখে ৪ উইকেটে ২৯৪ রান তুলে ফেলে। বাংলাদেশের আবু জায়েদ রাহি ম্যান অব দি ম্যাচ নির্বাচিত হন।

x