সর্বস্তরে নিশ্চিত করতে হবে নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ

শুক্রবার , ৮ মার্চ, ২০১৯ at ৬:২০ পূর্বাহ্ণ
24

আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। নারীদের অবদানের স্বীকৃতি প্রদান এবং তাদের প্রতি সম্মান জানানোর লক্ষ্যে ৮ই মার্চ এ দিবস উদযাপিত হয়। এ দিনটিকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্ববহ এবং মর্যাদাপূর্ণ বলে মনে করি। কেননা নারী-পুরুষের সমতাভিত্তিক অধিকার নিশ্চিত করতে বিশ্ববাসী আজ ঐক্যবদ্ধ। এ দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে নারীদের এগিয়ে চলতে হবে এবং নেতৃত্বদানে বিকশিত হতে হবে। সেজন্য সর্বস্তরে নিশ্চিত করতে হবে নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ। নারীর অধিকার আদায় এবং সমমর্যাদার বিষয়টি আমাদের রাষ্ট্রীয় চিন্তা ও নীতিতেও প্রতিভাত হচ্ছে। বাংলাদেশে সরকারি এবং বেসরকারি উদ্যোগের ফলে সকল ক্ষেত্রে নারীর প্রভূত উন্নয়ন ও অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন আদালতে নারী বিচারক ও আইনজীবীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে- যা সত্যিই আশাব্যঞ্জক। নারীরা ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিজেদের সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করতে সক্ষম হয়েছে।
বর্তমান বিশ্বে উন্নত সকল দেশেই প্রায় নারী-পুরুষ সমান অধিকার ভোগ করছে। কেননা শিক্ষা-দীক্ষায় আজ নারী পুরুষ সমানে সমান। সুতরাং দেশ তথা সমাজের উন্নতি চাইলে নারী-পুরুষ সম অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। নারীকে পিছিয়ে রেখে কোন দেশেরই কাঙ্ক্ষিত উন্নতি সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও। বাংলাদেশে সর্বত্রই আজ নারী-পুরুষ সমানভাবে কাজ করছে। দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী তাই নারী সমাজকে বাদ দিয়ে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। শহর থেকে গ্রাম আজ সর্বত্রই নারী-পুরুষ সমানভাবে কাজ করছে। পরিবার, সমাজ তথা দেশের কাজে অবদান রাখছে।
সমাজবিজ্ঞানীরা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের অগ্রগতি চোখে পড়ার মতো। তবে এই ক্ষমতায়ন সর্বস্তরে নিশ্চিত হয়নি। বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়লেও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীর উপস্থিতি এখনও অনেক কম। তাই নারীর ক্ষমতায়ন প্রতিষ্ঠায় যেতে হবে আরও বহুদূর। দেশের সার্বিক উন্নয়ন করতে চাইলে নারী উন্নয়নের বিকল্প নেই। নারীকে বাদ দিয়ে মানবসম্পদ উন্নয়নের কথা কেউ ভাবলে তা হবে বোকার স্বর্গে বাস করার মতো। দেশে উন্নয়নের যে অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে, সেটা ধরে রাখতে হলে নারীকে বাড়তি কিছু সুযোগ দিতে হবে। বাল্যবিবাহ এবং নারী নির্যাতনকে নারী উন্নয়নের পথে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞরা এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত কার্যক্রম বাড়ানোর তাগিদ দেন। একই সঙ্গে নারীদের বিষয়ে সমাজের নেতিবাচক মানসিকতা পরিবর্তনেও সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। শহুরে নারীর পাশাপাশি গ্রামীণ নারী যাতে কোনোভাবেই পিছিয়ে না থাকে সে দিকে নজর দিতে হবে। এখানে উল্লেখ্য, নারীর উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে সরকারিভাবে নানা রকম কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। নারীকে উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্তকরণ জাতীয় উন্নয়নের পূর্বশর্ত। নারীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, পারিবারিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে উন্নয়নে নারীর অর্থনৈতিক, পারিবারিক ও সামাজিক উন্নয়ন দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে স্বীকৃত। নারীকে উন্নয়নের মূলস্রোতধারার বাইরে রেখে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।
মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় দেশের দুই কোটি নারী যাতে ঘরে বসে উপার্জন করতে পারে, সে জন্য ইনকাম জেনারেটিং প্রোগ্রামের আওতায় ১৮টি ট্রেডে বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছে। এতে প্রশিক্ষণ নিতে আসা নারীদের যাতায়াত ভাতাও দেওয়া হচ্ছে। এ মন্ত্রণালয় থেকে নারীদের শুধু সেলাই ফোড়াই নয়, মোবাইলে অর্থ উপার্জন, ড্রাইভিং, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্বব্যাপী নারী উন্নয়ন ও অগ্রগতির মধ্যে তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশের নারীদের উন্নয়ন ও অগ্রগতির হার, বিস্ময়করভাবে উৎসাহ ব্যঞ্জক হলেও, নারীর জন্য বিভিন্ন প্রকার ঝুঁকি বা হুমকিও সমাজে কম নেই। যেমন নারী পাচার বা পাচার কাজে নারীর ব্যবহার। বিশেষ ভাবে বিভিন্ন প্রকার নেশাদ্রব্য বহনে নারীদের ব্যবহারের মাত্রা এক সময় অতিমাত্রায় বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু সরকারের নজরদারি বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এবং সরকারি তদারকির মাধ্যমে চাকরির জন্য বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা বা সুযোগ সৃষ্টি করায় সে ঝুঁকিও অনেকাংশে কমে গেছে। এসব ক্ষেত্রে মানুষকে সচেতন করার লক্ষ্যে কাজ করে যেতে হবে।

- Advertistment -