সরকার জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে : আমীর খসরু

মঙ্গলবার , ১৯ জুন, ২০১৮ at ৫:৩৮ পূর্বাহ্ণ
93

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটর সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিভিন্ন শ্রেণি পেশাজীবি, দলীয় নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের জনসাধারণের সাথে ঈদুল ফিতরের পরেরদিন রবিবার সকাল থেকে সারাদিনব্যাপি ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। সকাল থেকে দলীয় নেতাকর্মী, বিভিন্ন পেশাজীবি ও সর্বস্তরের জনসাধারণসহ হাজারো মানুষের ঢল নামে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর মেহেদীবাগস্থ বাসভবনে। লোকেলোকারণ্য হয়ে যায় মেহেদীবাগের বাসভবন।

এসময় জনাব খসরু আগত লোকজনের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং পরটা, মেজবানী মাংস ও জরদা দিয়ে আপ্যায়ন করেন। শুভেচ্ছা বিনিময় করতে আসেন বিএনপি মহানগর ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, বুদ্ধিজীবি, পেশাজীবি, সাংবাদিক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আইনজীবি, নেতাকর্মীসহ দলীয় নেতাকর্মী, সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ ও বিভিন্ন বয়সী নারীপুরুষসহ ছোট্ট শিশুরাও। এ সময় বিএনপি চট্টগ্রাম মহানগরী সভাপতি ডাঃ শাহাদাত হোসেন, দক্ষিণ জেলা বিএনপি সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, মহানগর বিএনপি’র সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ান, উত্তর, দক্ষিণ, পার্বত্য চট্টগ্রাম নেতৃবৃন্দ ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও মহিলাদল, যুবদল, ছাত্রদল, শ্রমিকদল, জাসাসের মহানগর নেতৃবৃন্দ ও ১১ থানার ৪১টি ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আমীর খসরু বলেন, “সরকার জনগণের ভয়ে অস্থির। তাদের মধ্যে এমন ভয়ভীতি ঢুকেছে পবিত্র ঈদের দিনকেও তারা সম্মান দেখাতে পারছে না, ভয় পাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, “আত্মীয়স্বজন,বন্ধুবান্ধব ও জনগণকে সাথে নিয়ে ঈদ পালন করা যে মানুষের অধিকার। সেইটাও তারা ভয় পাচ্ছে। বিএনপি’র নেতাকর্মীরা রাস্তায় গেলে হাজার হাজার জনতা রাস্তায় বেরিয়ে আসে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে বন্দি করে রেখেছে আর বিএনপি’র নেতাকর্মীদের ঘর থেকে বের হতে দিবেনা, কারণ বের হলেই তাদের জন্য সমস্যা। বর্তমানে গণতন্ত্রে অধিকার ও মালিকানা ফিরে পেতে মানুষ বদ্ধপরিকর। গুম, খুন, হত্যার মাধ্যমে বাঁধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু এতে কোন লাভ হচ্ছে না। তাদের পরাজয় নিশ্চিত। তান্ডব নিয়ে ক্ষমতায় বেশি দিন থাকা যায় না। আগে বাকশাল করেও পারেনি। তাণ্ডব দিয়ে দলীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়ালে কখনো সফল হওয়া যায় না।’

আমীর খসররু বলেন, ‘বিএনপি নয় সরকার জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। তারা নির্ভরশীল এখন পুরোপুরি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের ওপর। তারা রাজনৈতিক দল হিসাবে ব্যবহার করছে না। জনগণের ওপর তাদের কোন নির্ভরশীলতা নেই। তাদের নির্ভরশীলতা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস। এরই অংশ হিসাবে কাউকে ঘর থেকে বের হতে দিবে না, কাউকে গুম করবে, খুন করবে, কারো বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিবে। এটি বিশ্বের কোন দেশে টিকেনি, বাংলাদেশেও টিকবে না। এসব করে তাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে, কিন্তু তারা কিছু শিখলো না। এটাই দুঃখের বিষয়। রাজনৈতিকভাবে তারা পরাজিত হতে দেখে এবং একদলীয়ভাবে নির্বাচন করার জন্য বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দি করে কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে মন্তব্য করে বলেন, এইটা বিচারিক সিদ্ধান্ত নয়, রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করা হবে। আইনের পিছনে দৌড়ে কোন লাভ হবে না। এটি কোন আইনি বিষয় নয়, এটি দলীয়ভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার একটি প্রক্রিয়া। জনগণকে সাথে নিয়ে এটির রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে হবে। যেহেতু এটি জনগণের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। বাংলাদেশের জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে অন্যায়ভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার একদলীয় প্রচেষ্টা। সুতরাং জনগণ তা প্রতিহত করবে।

জনাব খসরু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঈদ আমাদের জন্য নয়। এই যে দেখেন আমি আজ পুরানো কালো পাঞ্জাবি পড়েছি। খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে আমরাতো আর ঈদ উদযাপন করতে পারি না। এই দেশকে তারা বন্দি করে রেখেছে। বন্দিশালার মধ্যে ঈদ হয় না। নেতাকর্মীদের উৎসাহ দেওয়ার জন্য শুভেচ্ছা বিনিময় করতে হচ্ছে। দেশের মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে পাওয়ার জন্য, মালিকানা ফিরিয়ে পাওয়ার জন্য, বাকস্বাধীনতা ফিরে পাওয়ার জন্য বাংলাদেশের মানুষ আন্দোলনে অবতীর্ণ হয়েছে। জনগণকে সাথে নিয়ে এই আন্দোলনে জয়ী হবো। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

x