সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে ১১ নারী কর্মকর্তা

আকাশ আহমেদ : রাঙ্গুনিয়া

সোমবার , ৮ এপ্রিল, ২০১৯ at ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ
417

নারীরা এখন আর পিছিয়ে নেই। তাঁরা এখন দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়েও সরকারি গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয় চালাচ্ছেন। রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় সরকারি দপ্তরে বেশির ভাগই নারী কর্মকর্তা অফিস চালান। গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে নারী কর্মকর্তা হওয়ায় এসব দপ্তরে কাজের গতি বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে পুরুষ কর্মকর্তার পাশাপাশি নারী কর্মকর্তারা সরকারি দায়িত্ব সফলতার সাথে পালন করছেন। শুধু অফিসে নয়; সেবা দিতে তৃণমূলে ছুটে যান এসব নারী কর্মকর্তারা। স্বাচ্ছন্দ্যে সেবা দিতে গিয়ে এলাকায় পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষদের সাথে সুসস্পর্ক গড়ে তুলেছেন উপজেলার এই ১১ নারী কর্মকর্তা।
উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমি কার্যালয় চালাচ্ছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) পূর্বিতা চাকমা। তিনি একই সাথে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বও পালন করছেন। তাঁর বাড়ি রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলায়। ২০১৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর রাঙ্গুনিয়ায় যোগদান করেন তিনি। এর আগে তিনি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ উপজেলায় যোগদানের পর তিনি ভূমি অফিসকে সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে কাজ করে যাচ্ছেন। অফিসকে দালালমুক্ত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। সাধারণ মানুষের হয়রানি কমাতে হাতের আবেদনের পরিবর্তে দুই পৃষ্ঠার আবেদন ফরম চালু করেন। এতে সেবা গ্রহীতাদের মধ্যে অর্থনৈতিক ও মানসিক হয়রানি কমে গেছে। ভূমি অফিসে প্রবেশে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে, বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামরা। এতে কমেছে দালাল ও প্রতারক চক্র।
কৃষিখাতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কারিমা আক্তার। যোগদানের পর থেকে তিনি কৃষকদের সেবা পৌঁছে দিতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছেন। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ, ফসলের পোকা মাকড় দমনে নতুন পদ্ধতি ব্যবহারসহ বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে কৃষকদের সহায়তা করে যাচ্ছেন। ধনেপাতা, ভুট্টাসহ বিভিন্ন শস্য ফলাতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করেন। ডিলারদের মাধ্যমে কৃষকদের সার বিতরণে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এবার চট্টগ্রামের শস্যভান্ডার খ্যাত রাঙ্গুনিয়ার গুমাইবিলে ধানের বাম্পার ফলনে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন। কারিমা আক্তার এর আগে হাটহাজারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাঁর বাড়ি রাঙামাটি পার্বত্য জেলায়।
নারীদের সার্বিক কল্যাণ ও অধিকার আদায়ে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সোনিয়া সফি। তাঁর গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার উপজেলায়। এর আগে তিনি ফটিকছড়ি ও হাটহাজারিতে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা পদে দায়িত্ব পালন করেন। নারী নির্যাতন, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, মহিলাদের মাতৃত্বকালীন ভাতাসহ বিভিন্ন ভাতা পেতে নারীদের ব্যাপক সহযোগিতা করছেন তিনি। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তণুশ্রী গোস্বামী সমপ্রতি যোগদান করেছেন। ১৮ মার্চ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে তিনি বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন। উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন নাসরিন আকতার। উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এ পদটি তিনি অত্যন্ত সফলতার সাথে পালন করছেন। একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রাশেদা আকতার। উপজেলা ডাকঘরে পোস্টমাস্টার (কর্মকর্তা) হিসেবে মনোয়ারা বেগম ২০১৬ সালে যোগদান করেন। বাড়ি চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায়। ডাক বিভাগের সকল সেবা পৌঁছে দিতে তিনি নিরলস কাজ করছেন। উপজেলা তথ্যসেবা কর্মকর্তা হিসেবে সমপ্রতি যোগদান করেছেন রংপুরের মেয়ে রোকসানা নারগিস।
উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা জিসা চাকমা ও লায়লা বিলকিস প্রাথমিক শিক্ষা বিষয়ক কর্মকাণ্ডে নিরলস কাজ করছেন। জিসা চাকমার চাকরি জীবনে প্রথম যোগদান রাঙ্গুনিয়ায়। রাঙামাটি জেলার তবলছড়ি উপজেলার মেয়ে জিসা চাকমা ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ সালে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। কুমিল্ল্লা জেলার মেয়ে লায়লা বিলকিস ২০১৭ সালে রাঙ্গুনিয়ায় যোগদান করেন। লীলা চৌধুরী সহকারী উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্ল্লেক্সে কর্মরত আছেন। মাঠ পর্যায়ে তিনি পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে কাজ করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান বলেন, পুরুষের পাশাপশি নারী কর্মকর্তারাও দক্ষতার সাথে কাজ করছেন। দেশ ও জাতির কল্যাণে নারীরাই এখন অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। দূরীভূত হয়েছে নারী-পুরুষের বৈষম্য।

x