সরকারকে ৫ ডলার পাঠিয়ে ‘ড্রাগন গবেষণার’ অনুরোধ শিশুর

বুধবার , ১৫ মে, ২০১৯ at ৪:৪০ পূর্বাহ্ণ
20

নিউ জিল্যান্ড সরকারকে ড্রাগন নিয়ে গবেষণার অনুরোধ জানিয়ে পাঠানো চিঠির সঙ্গে পাঁচ ডলারের একটি নোট পাঠিয়েছে দেশটির ১১ বছর বয়সী এক বালিকা। দাপ্তরিক প্যাডে লেখা ফিরতি চিঠিতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা অ’ডুর্ন প্রশাসন এখন ‘আত্মশক্তি ও ড্রাগন’ নিয়ে কোনো কাজ করছে না বলে শিশুটিকে অবহিত করার পাশাপাশি তার দেওয়া ‘নজরানা’ পাঁচ ডলার ফিরিয়ে দিয়েছেন। খবর বিডিনিউজের।
হাতে লেখা একটি নোটে অ’ডুর্ন যোগ করেন, ‘আমি ড্রাগনগুলোর ওপর চোখ রাখবো। তারা কি স্যুট পরে?’ শুধু ভিক্টোরিয়া নামে শনাক্ত করা ওই বালিকাটি ‘টেলিকাইনেটিক’ ক্ষমতার অধিকারী হতে চায় যেন সে একজন ড্রাগন প্রশিক্ষক হতে পারে। দূর থেকে ইচ্ছাশক্তির সাহায্যে বস্তুর নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাকে ‘টেলিকাইনেটি’ পাওয়ার বলা হয়। ওয়েব ফোরাম রেডিটের এক ব্যবহারকারীর পোস্টে প্রথম অ’ডুর্নের ফিরতি চিঠিটি দেখা যায়। চিঠিটির ছবি শেয়ার করে ওই ব্যবহারকারী জানান, তার ছোট বোন ‘প্রধানমন্ত্রীকে ঘুষ দেয়ার’ চেষ্টা করেছিল। সে চেয়েছিল সরকার যেন টেলিকাইনেটিক শক্তি বানাতে পারে, চেয়েছিল তারা (সরকার) ড্রাগন সম্বন্ধে কী জানে তা বের করতে। আর যদি তারা ড্রাগন খুঁজে পায়, তাহলে সে তাদের প্রশিক্ষণ দিতে পারবে।
তিনি জানান, নেটফ্লিক্সের বিজ্ঞান কল্পকাহিনীভিত্তিক সিরিজ ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’ তার স্কুলশিক্ষার্থী বোনকে এসব বিষয়ে আগ্রহী করে তোলে।
৩০ এপ্রিল অ’ডুর্ন ১১ বছর বয়সী ওই বালিকার চিঠির উত্তর দিয়েছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে নিউ জিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর। ভিক্টোরিয়াকে ধন্যবাদ জানিয়ে ফিরতি চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘আত্মশক্তি ও ড্রাগন নিয়ে তোমার পরামর্শ শুনতে আমরা খুবই আগ্রহী, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে বর্তমানে আমরা এ বিষয়গুলো নিয়ে কোনো কাজ করছি না। এ কারণে আমি তোমার পাঠানো ঘুষের অর্থ ফিরিয়ে দিচ্ছি, এবং টেলিকাইনেসিস, টেলিপ্যাথি ও ড্রাগন নিয়ে তোমার অনুসন্ধানের সফলতা কামনা করছি।’ গত বছর একটি কন্যা শিশুর জন্ম দেওয়া অ’ডুর্ন আগেও শিশুদের পাঠানো চিঠির উত্তর দিয়েছেন। বন্দুক নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন প্রণয়নে প্রধানমন্ত্রীর চেষ্টাকে সাধুবাদ জানিয়ে লেখা আট বছর বয়সী এক মেয়ের চিঠিরও উত্তর দিয়েছিলেন তিনি। চিঠিতে মেয়েটি ‘বিপজ্জনক বন্দুক নিষিদ্ধের ধারণা চমৎকার’ বলে জানিয়েছিল। এতে অ’ডুর্ন লেখেন, ‘লুসি, তোমার চিঠি দেখে আমি বলতে পারি যে তুমি খুবই দয়ালু ও সহানুভূতিশীল। এ উদারতা জীবনভর ছড়িয়ে যাও, এমনটাই উৎসাহ দিচ্ছি।’

x