সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র ভগবান টিলা

সমির মল্লিক : খাগড়াছড়ি

সোমবার , ৯ জুলাই, ২০১৮ at ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ
81

সম্মুখে অবারিত সবুজ। দিগন্তের অসীম আকাশের হাতছানি। অভিযাত্রী’র চোখ জুড়ানো দিগন্ত জোড়া সবুজ পাহাড়। পাহাড়ের চূড়া থেকে অবিরত ঝর্ণার স্রোত। পাহাড়ের মাঝ বরাবর বয়ে সর্পিল ফেনী নদী। নদী বিভক্ত করেছে ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১ হাজার ৬‘শ ফুট উপরে অবস্থিত ভগবান টিলা। এটি পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির সর্বোচ্চ পাহাড় চূড়ো। এটি স্থানীয়দের কাছে বিটিলা নামেই অধিক পরিচিত ।

ভগবান টিলাকে কেন্দ্র করে রয়েছে পর্যটন সম্ভাবনা। এটি পার্বত্য এলাকার অন্যতম সুন্দরস্থান। খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলা সদরের শেষ প্রান্তে ভারতের সীমান্ত ঘেঁষা তাইন্দংয়ে অবস্থিত ‘ভগবান টিলা’।

ভোরের আলো ফোটার সাথেই রওনা হলাম ভগবান টিলার উদ্দেশে। উঁচু নিচু পাহাড়ি পথ। পথের দু’পাশে সুবজের মখমল। পথের পাশেই দেখা মিলে পাহাড়ি বসতি। মাটিরাঙ্গা উপজেলা থেকে সোজা উত্তরে বাংলাদেশভারতের সীমান্তবর্তী ‘ভগবান টিলা’। মাটিরাঙা থেকে খাগড়াছড়ি জেলা সদর থেকে উত্তরপশ্চিমে দূরত্ব আনুমানিক ৮৫ কিলোমিটার। পুরো পথ জুড়ে সাজানো ল্যান্ডস্কেপ। অনাবিষ্কৃত ঝরনা,অদেখা পাহাড় এবং নৃতাত্ত্বিক মানুষের বসবাস। ভগবান টিলায় পথে পথে রৌদ্র ঝলমল দিন। পথের দু’পাশে সাজানো ল্যান্ডস্কেপ এর চেয়ে বেশি কিছু। পাহাড়ের সুবজাভ রঙ আগের দিনের বৃষ্টিতে আরো উজ্জ্বল হয়েছে।

দীর্ঘ ভ্রমণে ক্ষনিকের বিরতিতে অচেনা পাখি আর পাহাড়ের মিলনের সুর। মাটিরাঙা থেকে ভগবান টিলার পথে পথে ছুটতে একে একে পাহাড়, দলছুট বাড়ি,নীল আকাশে কোথাও কোথাও পাখির ঝাঁক।

ভগবান টিলায় পাহাড় চূড়োয় সূর্যের হাতছানি। সেই সঙ্গে শেষ বিকেলের মায়াবী আলোয় অপরূপ দৃশ্যপট ভেসে ওঠে। ভগবান টিলার পথে চোখ ধাঁধানো সব দৃশ্যপট। পাহাড়ের কোলে জুমঘর। মেঘের ছায়ায় ঢেকে আছে গ্রামগুলো। কাশবন ঘেঁষা পাহাড়ের কোলজুড়ে রংধনুর রেখা, সবুজ পাহাড়কে যেন আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে। পাহাড়ে ভাঁজে ভাঁজে পাহাড়িদের বসতি।

সবুজের বুকে আঁকাবাঁকা আর উঁচুনিচু পথ শেষে অবস্থিত ভগবান টিলা যেন বিধাতার নিজ হাতে গড়া পর্বত রূপসী। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় এক হাজার ছয়‘শ ফুট উঁচুতে অবস্থিত এ টিলায় রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশবিজিবির পর্যবেক্ষণ টাওয়ার। সবুজে ঘেরা বাঁশের ঝোঁপ, নাম না জানা নানান ধরনের পাখির ডাক আর পাহাড়ের নিচ দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝর্ণার স্রোত।

বাংলাদেশভারত সীমান্তের ভগবান টিলায় বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নবিজিবি‘র একটি বিওপি বিদ্যমান আছে। নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে ভগবান টিলাকে পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে তোলা হলে সময়ের দাবী। স্থানীয়দের দাবী ,‘ ভগবান টিলাকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা স্থানীয় অর্থনীতি বিকশিত হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা বিকাশ চাকমা জানান,‘এখানে একাধিক ঝরনা আছে। ভরা বর্ষায় ঝরনায় প্রচুর পানিও থাকে। তবে এখানে পর্যটকদের আসলে স্থানীয়রা লাভবান হবে।

তাইন্দং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘ভগবান টিলা’কে পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে তোলা হলে এখানেও ভ্রমণ পিপাসু মানুষ সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে আসবে। ‘ভগবান টিলা’ এ জনপদে অর্থনীতির দুয়ার খুলে দিতে পারে।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিভীষন কান্তি দাশ বলেন, ‘ভগবান টিলা পর্যটন সম্ভাবনাময় স্থান। পাহাড় আমাদের সম্পদ। সে পাহাড়ের ভাজে ভাজে সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে। ভগবান টিলা সেরকমই এক সম্ভাবনাময় পাহাড়।’

x