সমুদ্রের প্লাস্টিক শনাক্ত হবে মহাশূন্য থেকে

মঙ্গলবার , ১৬ এপ্রিল, ২০১৯ at ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ
47

মহাশূন্য থেকে সাগরে প্লাস্টিক বর্জ্য খুঁজে বের করার কৌশল বের করতে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা। বিশেষ করে বর্জ্য বা ধ্বংসপ্রাপ্ত টুকরোগুলো ন্যূনতম বস্তুর আকারের তুলনায়ও ছোট, তখন তা উপগ্রহের মাধ্যমে খুঁজে বের করা খুবই চ্যালেঞ্জিং। কিন্তু পদ্ধতিটি কাজ করে প্লাস্টিক থেকে পানিতে প্রতিফলিত আলোর সূত্র সন্ধান করে। যুক্তরাজ্যের প্লাইমাউথ মেরিন ল্যাবরেটরিতে এ সংক্রান্ত পরীক্ষার ফল খু্‌বই আশাব্যঞ্জক। ‘আপনি সমুদ্রে ভাসমান একটি পৃথক প্লাস্টিকের বোতল হয়তো দেখতে পারবেন না, কিন্তু আমরা এই উপাদানের একত্রিতকরণকে শনাক্ত করতে পারি,’ বিবিসিকে একথা বলেছেন ড. লরেন বিয়ারম্যান।
২০১৫ এবং ২০১৭ সালে ইইউ’এর সেনটিল-টু উপগ্রহের কক্ষপথে স্থাপন করা হয় মাল্টি স্পেকট্রাল ইন্সট্রুমেন্টস বা এসএসআই নামের দুটি যন্ত্র। এটি পরিচালনা করছে ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি, আর এ দিয়ে কাজ করছেন পৃথিবী পর্যবেক্ষণরত বিজ্ঞানীরা। খবর বিবিসি বাংলার। এই মিশনের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল ভূ-পৃষ্ঠের একটি ক্রমবর্ধমান মানচিত্র তৈরি করা। তবে এই প্রক্রিয়া উপকূলীয় অংশের জলের দৃশ্যও ধারণ করতে পারে। আর এটিই মহাসাগরে প্লাস্টিক বর্জ্য শনাক্ত করার একটি সুযোগ। কেননা প্রতি বছরে অন্তত আট মিলিয়ন টন প্লাস্টিক নদী কিংবা অন্যসব উৎসের মাধ্যমে সমুদ্রে আসছে। এই দুই সেনটিল উপগ্রহের মাধ্যমে প্রতি দুই দিন অন্তর যুক্তরাজ্যের অংশটির ম্যাপিং করবে।
ড. বিয়ারম্যানের মতে, স্যাটেলাইটের ক্যামেরার রেজুলেশন ১০মিটার, এর কঠিন দিকটি হলো যে এই ক্যামেরায় শুধু সেসব বস্তুর ছবিই ধরা পড়বে যার একটি নির্দিষ্ট মাত্রার পিক্সেল তৈরি করতে পারবে।
তবে কিছু বিষয় তার পক্ষে কাজ করেছে। একটি হলো নদীতে ভাসমান বর্জ্য বা ধ্বংসাবশেষ যেগুলো ভেসে সমুদ্রে গিয়ে পড়ে তার বেশিরভাগেই থাকে উদ্ভিদ, সেগুলোতে প্লাস্টিকের মতো আবর্জনাও থাকতে পারে। আরেকটি যে বিষয়ের সুবিধা সম্পর্কে ড. বিয়ারম্যান বলছেন তা সেন্টিনেল উপগ্রহের ডিটেক্টরের বিশেষ গুণ। ভিন্ন ভিন্ন আলোক তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বোঝার ক্ষমতা রয়েছে যন্ত্রগুলোতে। ফলে প্লাইমাউথ বিজ্ঞানীরা ক্যামেরায় তোলা চিত্রের পিঙেল বিশ্লেষণ করতে পারবে।
যেভাবে প্লাস্টিক শনাক্ত করা হবে :
সমুদ্রের পানি নিকটবর্তী ইনফ্রারেড রশ্মি জোরালো ভাবে শোষণ করে। উদ্ভিদ এবং জলে ভাসমান অন্যকিছু এই নিকটবর্তী ইনফ্রারেড রশ্মি প্রতিফলিত করে। তবে উদ্ভিদে প্লাস্টিক মিশে থাকলে তার কিছু পরিবর্তন দেখা যাবে। আর এই উদ্ভিদ ও প্লাস্টিকের ইনফ্রারেড প্রতিফলের ভিন্নতাই তাদের শনাক্ত করার অন্যতম উপায়, বলছেন ড. বিয়ারম্যান। তিনি বলেন, যে ভাসমান বস্তুর ছবি সংগ্রহ করে তার পিঙেল বিশ্লেষণ করেই বলা সম্ভব তাতে উদ্ভিদ উপাদান বা প্লাস্টিক উপাদান কেমন রয়েছে।
উপগ্রহ থেকে তোলা ছবির বর্ণালী বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন বস্তুর একটি সূচি ও তৈরি করা হয়েছে।
ব্রিটিশ কলম্বিয়ার এবং স্কটল্যান্ডের পূর্ব উপকূলে চালানো একই ধরনের পরীক্ষাও আশার সঞ্চার করেছে। ড. বিয়ারম্যানের মতে, এই পদ্ধতিটির আরো পরিমার্জন প্রয়োজন তবে এই প্রাথমিক পরীক্ষার ফল আরো পরীক্ষার তাগিদ দেয়। পরবর্তী পর্যায়ে ছবিগুলো বিশ্লেষণের জন্যে অ্যালগরিদম ব্যবহার করা হবে। কেননা ধরে ধরে অনুসন্ধান সময় সাপেক্ষ ও বাস্তব সম্মত নয়। অটোমেশনই এর একমাত্র পথ। ড. বিয়ারম্যান প্লাস্টিক বর্জ্য বেশি পরিমাণে নিঃসরণ হয় এমন সব গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। আর দূষণের প্রভাব মূল্যায়ন করতে তথ্যগুলো ডেটাবেজের সাথে যুক্ত করছেন।

x