(সমাজ ধ্বংসের কারণ)

মেহের আফরোজ

শনিবার , ২০ জুলাই, ২০১৯ at ৭:৪৭ পূর্বাহ্ণ
163

: প্রাকৃতিক নিয়মেই প্রতিদিন ভোর হয়,সূর্য উঠে। আজকাল ধর্ষণও যেন এমনি একটি মনুষ্যসৃষ্ট নিয়মে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই কোনো না কোনো ধর্ষণ বা সম্ভ্রমহানির ঘটনা ঘটছে আমাদের চারপাশে।যার অবতারণা হতে না হতেই ঠাঁই মেলে খবরের পাতায়, ঠাঁই মেলে টেলিভিশনের পর্দায়। উঠতে-বসতে, হাঁটতে-চলতে, ভ্রমণ করতে, এমনকি চিকিৎসাকালেও ঘটে যাচ্ছে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। কখনো কখনো আবার জীবন্ত থেকে লাশে পরিণত হতে হচ্ছে। কেউ জানে না, এর শেষ কোথায়? একের পর এক ঘটছে। আজকে তনু, কালকে নুসরাত, পরদিন হয়তো নতুন আরেকটি প্রাণ। এই ঘটনার ওপর জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে যে, ১০০ দিনে প্রায় ৩৯৬ জন নারী ও শিশু ধর্ষণ হয়েছে।
তার মধ্যে বেশ কিছু বহুল আলোচিত হলেও সুষ্ঠু বিচার কোনোটিরও হয়নি। এর মধ্যে আবার বেশকিছু বিচারাধীন পর্যায়ে আছে,আবার কিছু মামলা-মোকদ্দমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। তবে সঠিক বিচার হবে কি না, তা কারোরই জানা নেই। পর্যায়ক্রমিকভাবে বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে,ইদানীংকালে শিশুধর্ষণই বেশি। অবুঝ শিশু,যারা মাত্র পৃথিবীতে চলতে শুরু করেছে,পৃথিবীর আনন্দকে উপভোগ করতে শিখেছে,তারাই যেন আজ পরিস্থিতির প্রধান শিকার। মানসিকতা বিবর্জিত মানুষগুলো কোমলপ্রাণকেও রেহাই দিচ্ছে না। আরও অবাক করা বিষয় হলো, বাবা (জন্মদাতা) নিজেই সন্তানের ধর্ষক। কতটুকু কুরুচিসম্পূর্ণ ও মস্তিষ্ক বিকৃতপূর্ণ মানুষ হলে এই কাজ করতে পারে! নিরাপত্তা নিজ বাসভবনেও নেই,তাহলে কোথায় যাব আমরা, কোথায় যাবে এই সমাজ? মনে হচ্ছে যেন, সেই বর্বরতার যুগে আবার ফিরে যাচ্ছি, হাতছানি দিচ্ছে হাজারো বছরের পুরনো রেওয়াজ। এই সবকিছুর মূলে যে জিনিসগুলো মারাত্মকভাবে কাজ করছে, সেগুলো হল : ১) রুচিহীন কল্পনাশক্তি, ২) পারিবারিক শিক্ষার অভাব, ৩) প্রতিহিংসা, ৪) অর্থলিপ্সা, ৫) আইনগত শাসনের অভাব, ৬) প্রশাসনিক দুর্বলতা, ৭) পিতা-মাতার বিবাহ-বিচ্ছেদ, ৮) শাসন-বারণে ত্রুটি, ৯) সুষ্ঠু বিচার-ব্যবস্থার অভাব, ১০) প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার।
সব মিলিয়ে বলা যায়,ধর্ষণের রেকর্ড বাংলাদেশের ইতিহাসে এখন নজিরবিহীন। ‘৭১’ এর সম্ভ্রমহানিকেও হার মানিয়েছে বর্তমান পরিস্থিতি। তাই বলতে হয়,এর বিপরীতে যদি শাস্তিস্বরূপ মৃত্যুদণ্ড বা কোনো কঠিন শাস্তির বিধান করা হতো বা শাস্তির দৃষ্টান্ত জাতির উদ্দেশ্যে তুলে ধরত, তবে রক্ষা পেত হাজার হাজার নারীর সম্মান, রক্ষা পেত অবুঝ শিশুর প্রাণ, রক্ষা পেত এই কলুষিত সমাজের মান।

x