সমাজচিন্তা ও প্রাসঙ্গিক বিষয়- আশয়

শামসুদ্দিন শিশির

শুক্রবার , ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ at ৫:৫৭ পূর্বাহ্ণ
12

ফেরদৌস আরা রীনু পেশায় শিক্ষক। তাঁর অনেক পরিচয়। তিনি শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি, শ্রেষ্ঠ মানুষ, শ্রেষ্ঠ পেশায় নিয়োজিত আছেন। এর মধ্যে মানুষের শ্রেষ্ঠ বন্ধু বই প্রকাশ করেছেন। একজন শিক্ষকের যে মনের চোখ খোলা রাখতে হয় তার প্রমাণ তিনি রেখেছেন। সমাজের ভালো লাগা ও অসঙ্গতি গুলো মনের চোখ দিয়ে দেখেছেন এবং বোধের জায়গা থেকে তুলে এনে সাধারণ্যের প্রকাশের জন্য কাগজ ও কলমের সহযোগিতা নিয়েছেন। এতে পাঠক উপকৃত হয়েছেন নি:সন্দেহে।
তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ ‘সমাজচিন্তা ও প্রাসঙ্গিক বিষয়-আশয়’তে এগারোটি প্রবন্ধ লিখেছেন। প্রবন্ধগুলো হলো- ভালোবাসা পেলে সব ঝেড়ে ফেলে মন চায় শুধু ছুটতে, সুস্থ সংস্কৃতি চর্চা ও তরুণ প্রজন্ম, প্রসঙ্গ: কিশোর মানস ও মনন গঠন, চট্টগ্রামে নারী শিক্ষার প্রসার, ব্যক্তিত্বের বিকাশ ও আত্মবিশ্বাস, সুখ আর প্রফুল্ল মন, বিষণ্নতা নয়, স্বপ্ন নিয়ে বাঁচুক মানুষ, পরিবার হলো শিশুর প্রথম শিক্ষালয়, মুক্তির উল্লাস এবং প্রাসঙ্গিক ভাবনা, জীবন সুন্দর-নির্মল ও আনন্দময়, পরশ্রীকাতয়তা সৎ গুণকে ধবংস করে। প্রথম প্রবন্ধে তিনি আমাদের বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের কথা লিখতে গিয়ে তুলে ধরেছেন- প্রতিবন্ধীরা ও মানুষ। তাদের জীবন অপার সম্ভাবনাময়। তারা কারো দয়া চায় না। তাদের ন্যায্য অধিকার চায়। তারা আত্মনির্ভরশীল হওয়ার শিক্ষা চায়। তারা পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রের পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে টিকে থাকার প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ চায়। তাদের সঙ্গে অন্য দশটি শিশুর মতো আচরণ চায়। মূলত তিনি বলতে চেয়েছেন এরা আমাদেরই সন্তান। মূলধারার শিশুর মতো এদের ও সকল কিছু চাওয়ার ও পাওয়ার অধিকার আছে। অতএব এদের ভিন্ন চোখে দেখার কোন সুয়োগ নেই। সমাজকে সচেতন হতে হবে। মনের চোখ খুলে দেখবে সমাজের সকলেই সমান। সকলেরই সমাজের সকল কিছু ভোগ করার আধিকার আছে। সুস্থ সংস্কৃতি চর্চা ও তরুণ প্রজন্ম বিষয়ে লিখেছেন সংস্কৃতি এক চলমান ধারা নদীর মতো বহুমান এর গতি সংস্কৃতি হাঁটে তার নিজস্ব তত্ত্বে। মানুষই এর ধারক এবং বাহক। সকল প্রকার অপশক্তিকে প্রতিহত করার অন্যতম উপায় হলো সুস্থ- সংস্কৃতি চর্চা। কথাগুলো সত্য, সুন্দর। সহজেই অনুধাবন করা যায়। কিন্তু আমরা মানি না। এই আমাদের পরাজয়। অবশ্যই সমাজে সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার প্রসার ঘটানোর মধ্যদিয়ে অপসংস্কৃতিকে দূরে ঠেলতে হবে। নয়তো সমাজ অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে। এক্ষেত্রে পরিবারের ভূমিকার কথা তুলে এনেছেন লেখক। তিনি লিখেছেন পরিবারে সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা না হলে বিশুদ্ধ মনের মানুষ গড়ে উঠা কঠিন। সংস্কৃতিবান মানুষ মানেই ভদ্র-সভ্য বিনয়ী মানুষ। রুচিশীল ও পরিচ্ছন্ন মানুষ সুন্দর মনের ও মার্জিত স্বভাব চরিত্রের মানুষ, নতুনকে মেনে নেওয়ার হৃদয় সম্পন্ন মানুষ, উদার চিন্তা চেতনা কল্পনা সম্পন্ন মানুষ, উৎকর্ষ আত্মার মানুষ। পরিবারে সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার জাতি সত্তা ও স্বকীয়তা সম্পর্কে সচেতন থাকা যায়। দেশের অগ্রগতি তরান্বিত করতে ইতিবাচক ভূমিকা গ্রহণ করা যায়। কথাগুলো যথার্থই তুলে এনেছেন। গ্রহণ করার দায়িত্ব আমাদেরই।
এমনি করে তাঁর প্রতিটি প্রবন্ধে সমাজের শুভ্র আচরণ উচ্চারণ গুলো যেমন তুলে এনেছে আবার অসংগতি গুলোতে পাঠক সচেতনতার জন্য লিখেছেন। অনেক কথাই জানা পাঠকের একটু মনে করিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেছেন বলেই তিনি সাদা কাগজে কালির আঁচড় দিয়েছেন। প্রতিটি শিরোনাম ও প্রবন্ধের মূল বক্তব্য হৃদয়গ্রহী বিশেষ করে কিশোর পরিবার, সমাজ, সংস্কৃতি, দায়িত্ব বোধ,চট্টগ্রামে নারী শিক্ষার আদ্যোপান্ত, মানুষের সহজাত কর্মকাণ্ড, যেমন- ব্যক্তিত্ব, আত্মবিশ্বাস, সুখ, আনন্দ, বিষণ্নতা, পরনিন্দা, পরচর্চা, পরশ্রীকাতরা সমাজের রন্দ্রে রন্দ্রে জমে থাকা কষ্ট থেকে পরিত্রাণের উপায়গুলো সুন্দর ভাবে তুলে এনেছেন। পরিচ্ছন্ন রুচিশীল মলাটে প্রচ্ছদ করেছেন প্রখ্যাত শিল্পী উত্তম সেন, স্বত্ব শাওরীন ফেরদৌস আবেদীন ও শাদমান ফেরদৌস আবেদীন গ্রন্থটি উৎসর্গ করেছেন লেখকের দুই প্রিয় মানুষ স্বামী অধ্যাপক মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীনও লেখালেখির জগতে প্রেরণার উৎস প্রখ্যাত বাচিক শিল্পী আয়েশা হক শিমু আমার বিশ্বাস প্রিয় পাঠক বইটি পড়ে আপনারা সমৃদ্ধ হবেন। বইটি পাঠক প্রিয়তার লাভ করুক এ প্রত্যাশা করছি।
[সমাজচিন্তা ও প্রাসঙ্গিক বিষয়- আশয় : ফেরদৌস আরা রীনু। প্রকাশক: আয়েশা হক শিমু, শৈলী প্রকাশন, ৫ সিডিএ বা/এ , মোমিন রোড, চট্টগ্রাম। প্রকাশকাল: ফাল্গুন ১৪২৪, ফেব্রুয়ারি ২০১৮। মূল্য : ১৬০ টাকা]

x