সবার জন্য আবাসন নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগ

সোমবার , ৭ অক্টোবর, ২০১৯ at ৫:৫৪ পূর্বাহ্ণ
106

বিশ্ব বসতি দিবস আজ। ১৯৮৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সিদ্ধান্ত হয় প্রতিবছর অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার ‘বিশ্ব বসতি দিবস’ উদ্‌যাপনের। বিভিন্ন দেশের সরকারকে বসবাসের পরিবেশ ও সংশ্লিষ্ট সমস্যার ওপর মনোযোগে উৎসাহিত করতেই এ উদ্যোগ। প্রতিবছরের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি উদযাপনে কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং অধীন প্রতিষ্ঠানগুলো বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এ উপলক্ষে।
বাসস্থান মানুষের মৌলিক অধিকার। এ অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবার জন্য আবাসন নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়েছেন। দেশের আর্থসামাজিক অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্যাপকভাবে নগরায়ণ চলছে ও শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠেছে। কর্মসংস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা, উন্নত জীবনব্যবস্থার কারণে মানুষ নগরবাসী হয়ে থাকে। বাড়তি এ মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজন হচ্ছে আবাসিক ভবন। চাহিদা পূরণে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলোকে কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এ কারণে সরকারের রূপকল্প ২০২১-এর আলোকে আবাসন খাতের উন্নয়নে বেসরকারি সংস্থাকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ যাবৎ বিশ্ব বসতি দিবসের প্রতিপাদ্যের সিংহভাগে রয়েছে ছিন্নমূলদের আশ্রয়দান, বসবাসযোগ্য আবাসন গড়ে তোলার প্রত্যয় আর নগর উন্নয়নের অভিপ্সা। বাংলাদেশে ছিন্নমূল মানুষের আবাসনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা বলা হলেও এখনো তা অপ্রতুল। নিয়ম করে আরও একটি বিশ্ব বসতি দিবস হাজির হলেও এসব বাস্তুহারা মানুষের আবাসন স্বপ্নই থেকে যাচ্ছে। ‘ইন্টার্নাল ডিসপ্লেসমেন্ট মনিটরিং সেন্টার’ ও ‘নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলে’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বছরে বাংলাদেশে গড়ে অন্তত ৮-১০ লাখ মানুষ বাস্তুহারা হয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ছয়টি এলাকার মানুষ সবচেয়ে বেশি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আর দেশের বিভিন্ন দুর্যোগে বাস্তুহারা হওয়া মানুষদের বেশিরভাগই আশ্রয় নেন দেশের বিভিন্ন শহরে।
সম্প্রতি পত্রিকান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগর এলাকায় দিনে এক হাজার ৭০০ জন মানুষ বাড়ছে। বছরে যুক্ত হচ্ছে গড়ে ৬ লাখ ২০ হাজার ৫০০ মানুষ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এবং জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের তথ্য বিশ্লেষণে বর্তমানে রাজধানী ঢাকার জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ কোটির কাছাকাছি। গত ৪০ বছরে ১০ গুণ মানুষ ঢাকাবাসী হয়েছেন। মহানগরীর পরিধি দ্রুত সমপ্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে রাজধানীতে বাসস্থানহীন মানুষের সংখ্যা। পরিসংখ্যান বলছে, রাজধানী ঢাকায় বসবাসকারী প্রায় ১ কোটি মানুষের নিজস্ব বাসস্থান নেই। এই বিপুলসংখ্যক মানুষকে ভাড়াটে বাসায়, সরকারি বাসায় বা বস্তিতে বসবাস করতে হয়। এর মধ্যে বস্তিবাসীরা আশ্রয় নিয়েছেন সরকারি বা ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গার ওপর। এছাড়া নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের প্রায় কারোরই রাজধানীতে নিজস্ব মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই। নগদ মূল্যে স্বপ্নের একটি ফ্ল্যাট তৈরি করতেই বয়সের অর্ধেক পার হয়ে যায় অনেকের। যদিও অনেক দেশে স্বল্প সুদে সরকার আবাসনের জন্য মধ্য ও নিম্ন আয়ের মানুষকে ঋণ দিয়ে থাকে। যাতে সে নিজস্ব মাথা গোঁজার ব্যবস্থা করে নিতে পারে। বাংলাদেশে কখনোই তা করা হয়নি।
অন্য এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহরাঞ্চলের অবস্থিত আবাসন কাঠামোর মধ্যে পাকা কাঠামো ২৭.৬৭ শতাংশ, সেমি পাকা কাঠামো ২৮.৯২ শতাংশ ও অবশিষ্ট ৪৩.৪১ শতাংশ কাঁচা ও অস্থায়ী ধরনের। মোট জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বস্তি এলাকায় বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছে। ১৯৯৩ সালে গৃহায়ণ ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৩১ লাখ ইউনিট। ২০০০ সালে তা ছিল ৫০ লক্ষাধিক ইউনিট। ২০০১ সালে শুধু নগর এলাকায় গৃহায়ণ ঘাটতি ছিল ১.১৩ মিলিয়ন ইউনিট, যা ২০১০ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৪.৬ মিলিয়ন ইউনিট। ২০২১ সাল নাগাদ নগর এলাকায় গৃহায়ণ ঘাটতি ৮.৫ মিলিয়ন ইউনিট হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এ বিশাল ঘাটতি পূরণে সরকার ‘জাতীয় গৃহায়ণ নীতিমালা-২০১৬’ অনুমোদন করেছে। এতে জমির মূল্য নির্ধারণ, গৃহনির্মাণের ব্যয়, বাড়িবাড়া ন্যূনতম পর্যায়ে রাখার ব্যবস্থা করাসহ জনকল্যাণকর পদক্ষেপ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছায় বস্তির লোকজনের জন্য উন্নত জীবন যাপনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বলা যেতে পারে, সরকার সামগ্রিক উন্নয়নের দিকে নজর দিয়েছে। সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করেই এ উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা গেলেই মঙ্গল।

x