সবাইকে খুশি করার বাজেট

ভোটের বছরে ব্যয় বেড়ে হল ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা ।। আয় : ৩ লাখ ৪৩ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা ।। ঘাটতি : ১ লাখ ২১ হাজার ২৪২ কোটি টাকা

এম. ওয়াহিদ উল্লাহ, মিয়া হোসেন, ঢাকা ব্যুরো

শুক্রবার , ৮ জুন, ২০১৮ at ৪:৩৮ পূর্বাহ্ণ
416

ভোটের বছরে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট গতকাল সংসদে উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ’ শিরোনামে প্রস্তাবিত ৪ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকার বাজেটে সার্বিকভাবে সব মহলকে খুশি ও সন্তুষ্ট রাখার প্রয়াস চালিয়েছেন তিনি। ২০১৮১৯ অর্থবছরের জন্য বাজেট ঘোষণার মধ্য দিয়ে একটানা দশম বাজেট দেওয়ার রেকর্ডও করলেন ৮৫ বছর বয়সী মুহিত। সব মিলিয়ে মোট দ্বাদশবার জাতীয় বাজেট দিয়ে তিনি এবার প্রয়াত এম. সাইফুর রহমানের সমান হলেন। ভোটের বছর বাজেটে নতুন কর আরোপের মতো অজনপ্রিয় পথে হাঁটেননি মুহিত; বিপরীতে জনপ্রিয় কয়েকটি খাতে ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব রেখেছেন তিনি। অবসরের ঘোষণা দিয়ে রাখা মুহিত বর্তমান সরকারের শেষ বাজেটটি ৫ লাখ কোটি টাকায় নেওয়ার স্বপ্নের কথা বলেছিলেন নানা সময়ে; কিন্তু ওই অঙ্ক থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা কমে তাকে আটকে যেতে হয়েছে। তারপরও গত অর্থবছরের ঘোষিত বাজেটের চেয়ে ১৬ শতাংশ বাড়িয়ে নতুন অর্থ বছরের বাজেট তৈরি করেছেন মুহিত, যা বিদায়ী বছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ২৫ শতাংশ বেশি।

বাজেটের ব্যয় মেটাতে বৈদেশিক অনুদানসহ আয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৪৩ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। আর মোট ঘাটতি দেখানো হয়েছে ১ লাখ ২১ হাজার ২৪২ কোটি টাকা। যা মোট জিডিপির ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। প্রস্তাবিত বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। চলতি বছরের বাজেটে যা ছিল ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। প্রস্তাবিত বাজেটে মূল্যস্ফীতির গড় হার ৫ দশমিক ৬ শতাংশ, চলতি অর্থবছরের বাজেটে যা ৫ দশমিক ৪ শতাংশ রাখা হয়েছে।

দুপুর সাড়ে ১২টায় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া অধিবেশনে বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী। এর আগে গতকাল সকালে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে ২০১৮১৯ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন করা হয়। সংসদ ভবনে মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। মন্ত্রিসভায় নির্দিষ্টকরণ (সম্পূরক) বিল ২০১৮ এবং নির্দিষ্টকরণ বিল ২০১৮ অনুমোদন করা হয়। তার আগে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর ওই প্রস্তাবে সই করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনিতে অর্থ বরাদ্দ বাড়িয়েছেন অর্থমন্ত্রী। আরও ১১ লাখ গরিব মানুষকে যোগ করে প্রায় এক কোটি মানুষকে এই বলয়ে নিয়ে আসার পরিকল্পনা তিনি সাজিয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিশেষ ভাতার ঘোষণা দিয়েছেন ; অস্বচ্ছল যুদ্ধাহত ও অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তায় বরাদ্দ রেখেছেন প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। বয়স্ক, বিধবা, কর্মজীবী মা, দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী, হিজড়া, বেদেদের কারও কারও ক্ষেত্রে ভাতা বাড়ানো হয়েছে; সবার ক্ষেত্রেই উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। এজন্য এবার বাজেটে প্রায় ৬৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছেন মুহিত। এই অঙ্ক মোট বাজেটের প্রায় ১৪ শতাংশ। কৃষকদের দাবির মুখে চাল আমদানি নিরুৎসাহিত করতে আমদানি শুল্ক আবার আগের মতো ২৮ শতাংশ করার কথা জানিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে বাজেটে নতুন হিসেবে সরকারিবেসরকারি সব চাকুরেদের পেনশন দেওয়ার একটি পরিকল্পনাও হাজির করেছেন মুহিত; পুরোপুরিভাবে না হলেও এই অর্থবছরেই তা পরীক্ষামূলক শুরু করার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন তিনি। গ্রামের মানুষকে খুশি করার প্রয়াস চালানোর পাশাপাশি শহুরে মধ্যবিত্তের উপরও নতুন করে কোনো কর বসানটি অর্থমন্ত্রী। করমুক্ত আয়ের সীমা আগের মতোই রেখেছেন। কর্পোরেট করে দিয়েছেন ছাড়। প্রস্তাবিত বাজেটে নতুন করের পরিমাণ কম এবং কর হ্রাসের পরিমাণও কম রয়েছে। আয়কর আদায়ের পরিসীমা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। তথ্য প্রযুক্তি খাতকে উৎসাহিত করতে মোটর সাইকেল ও মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আমাদানির ক্ষেত্রে শুল্ক কমানো হয়েছে। হাইব্রিড গাড়ির শুল্ক কমানো হয়েছে এবং রিকন্ডিশন পুরাতন গাড়ির শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। অপরদিকে দু’টি মোটরগাড়ির মালিক ও সিটি করপোরেশন এলাকায় ৮ হাজার বর্গফুটের গৃহসম্পত্তির মালিকের উপর সারর্চাজ আরোপ করা হয়েছে। ছোট ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়েছে। শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ কোন সুবিধার কথা বলা হয়নি। ৭ দশমিক ৮ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করার সঙ্গে মূল্যস্ফীতি ৫.৬ শতাংশে আটকে রাখার আশার কথা শুনিয়ে অর্থমন্ত্রী যে বাজেট দিয়েছেন, তাতে আয় ও ব্যয়ের হিসাবে সামগ্রিক ঘাটতি থাকছে এক লাখ ২৫ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ থেকে ওই ঘাটতি মেটানোর পরিকল্পনা করেছেন তিনি।

এই সরকারের আমলে এটিই শেষ বাজেট। তাই তা নির্বাচনী বাজেট বলে মন্তব্যও এসেছে। ’নির্বাচনী বাজেট’ নিয়ে অর্থনীতিবিদ জায়েদ বখত বলেন, “প্রত্যেক সরকারের প্রত্যেক বাজেটেরই একটা রাজনৈতিক দর্শন থাকে। সেই দর্শনকে সামনে রেখে বাজেট দিতে গিয়ে যদি সাধারণ মানুষের উপকার হয়, সেটাকে ইতিবাচক হিসাবেই দেখা উচিৎ বলে আমি মনে করি।”

বাজেটে ‘নতুনত্ব কিছু নেই’ মন্তব্য করলেও দরিদ্র মানুষের জন্য বিভিন্ন ভাতা এবং উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানোকে ইতিবাচক বলছেন পিআরআইর নির্বাহী পরিচালক আহসান মনসুর।

গতকাল নতুন অর্থ বছরের বাজেট প্রস্তাবের পাশাপাশি চলতি ২০১৭২০১৮ অর্থ বছরের সংশোধিত সম্পূরক বাজেটও পেশ করা হয়েছে। চলতি অর্থ বছরের মূল বাজেট ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট ৩ লাখ ৭১ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ আগামী বাজেটের আকার সংশোধিত বাজেট থেকে প্রায় ৯৩ হাজার কোটি টাকা বেশি। নতুন অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত এই ব্যয় বিদায়ী ২০১৬১৭ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের ২৫ এবং মূল বাজেটের চেয়ে ১৬ শতাংশ বেশি।

প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যয় মেটাতে সরকারি অনুদানসহ আয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৪৩ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকা। মোট ঘাটতি ১ লাখ ২১ হাজার ২৪২ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ ধরা হয়েছে (এডিপি) ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে যা ধরা হয় ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। সরকারের অর্থায়নে অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা থেকে ঋণ ধরা হয়েছে ৭১ হাজার ২২৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে যা আছে ৬০ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা।

উন্নয়ন বাজেটের মোট আকার ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত অনুন্নয়ন বাজেটে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৮২ হাজার ৪১৫ কোটি টাকা।

প্রস্তাবিত বাজেটে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা ব্যয়ের বিপরীতে মোট রাজস্ব আয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। তার মধ্যে রাজস্ব বোর্ড নিয়ন্ত্রিত কর ২ লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকা, এনবিআর বর্হিভূত কর ৯ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা ও কর বর্হিভূত আয় ৩৩ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা। এতে আয়ব্যয়ের ঘাটতি দাঁড়াবে ১ লাখ ২৫ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা। আর ঘাটতি মেটাতে বৈদেশিক অনুদান, ঋণ ও অভ্যন্তরীণ ঋণ নেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে। এতে বৈদেশিক ঋণ ৫০ হাজার ১৬ কোটি টাকা ও অভ্যন্তরীণ ঋণ ৭১ হাজার ২২৬ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক অনুদান ৪ হাজার ৫১ কোটি টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটের উন্নয়ন ও অনুন্নয়নসহ সামগ্রিক ব্যয়কে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কাজের শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী খাতওয়ারী তিনটি প্রধানভাগে ভাগ করা হয়েছে। তা হলো, সামাজিক অবকাঠামো, ভৌত অবকাঠামো ও সাধারণ সেবা খাত।

প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক অবকাঠামো খাতে মোট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ২৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয় ১ লাখ ৭ হাজার ৭১৭ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ২৯ শতাংশ।

সামাজিক অবকাঠামো খাতের আওতায় মানবসম্পদ খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ২০৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ২৪ হাজার ৮৮৮ কোটি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ২২ হাজার ৪৬৬ কোটি, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ১৮ হাজার ১৫৯ কোটি এবং অন্যান্য মন্ত্রণালয় বা বিভাগে ৪৭ হাজার ৬৯৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সামাজিক অবকাঠামো খাতের আওতায় খাদ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১৩ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে ৪ হাজার ১৫৫ কোটি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে ৯ হাজার ৬৫৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাজেটে ভৌত অবকাঠামো খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১লাখ ৪৩ হাজার ৯৮২ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ৩০ দশমিক ৯৯ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয় ১ লাখ ২৬ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ৩৩.৯৭ শতাংশ। ভৌত অবকাঠামো খাতের আওতায় কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন খাতে মোট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৫৮ হাজার ৯২৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ে ১৩ হাজার ৯১০ কোটি, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে ৭ হাজার ৯৩ কোটি, স্থানীয় সরকার বিভাগে ২৯ হাজার ১৫০ কোটি এবং অন্যান্য মন্ত্রণালয় বা বিভাগে ৮ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

ভৌত অবকাঠামো খাতের আওতায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২৪ হাজার ৯২১ কোটি। যোগাযোগ অবকাঠামো খাতে মোট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৫৩ হাজার ৮১ কোটি টাকা। এর মধ্যে সড়ক বিভাগে ২৪ হাজার ৩৮০ কোটি, রেলপথ মন্ত্রণালয়ে ১৪ হাজার ৫৪২ কোটি, সেতু বিভাগে ৯ হাজার ১১৪ কোটি এবং অন্যান্য মন্ত্রণালয় বা বিভাগে ৫ হাজার ৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ভৌত অবকাঠামো খাতের আওতায় অন্যান্য খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৭ হাজার ৫২ কোটি টাকা। সাধারণ সেবা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা। এর আওতায় জনশৃংখলা ও নিরাপত্তায় ২৬ হাজার ৫৯৪ কোটি এবং অন্যান্যে ৯০ হাজার ৯৪৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটে সুদ পরিশোধে ৫১ হাজার ৩৪০ কোটি, পিপিপি ভর্তুকি ও দায় মেটাতে ২২ হাজার ২০১ কোটি এবং নিট ঋণ দান ও অন্যান্যে ২ হাজার ৪৮৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বাজেট বক্তব্যে সার্বজনীন পেনশন (সবার জন্য পেনশন) পদ্ধতির একটি রূপরেখা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, আমরা অর্থনেতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সবার কাছে পৌঁছাতে চাই, কমাতে চাই বৈষম্য। তাই, বিদ্যমান সরকারি পেনশন কার্যক্রমের বাইরে বেসরকারি পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক খাতে করর্মত সব কর্মজীবী মানুষের জন্য সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করতে চাই।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সর্বজনীন পেনশনের প্রচ্চাবিত ব্যবস্থার আওতায় সরকার পরিচালিত স্কিমে নিবন্ধন করে একজন কর্মজীবী মাসিকভিত্তিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ চাঁদা জমা করবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে তার নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষও একটা নির্দিষ্ট অঙ্ক সংশ্লিষ্ট কর্মজীবীর পেনশন হিসাবে জমা করবে। হতদরিদ্র শ্রমজীবীদের ক্ষেত্রে সরকার পূর্বঘোষণা অনুযায়ী তাদের অংশের অতিরিক্ত হিসাবের নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ওই হিসাবে জমা করবে।

তিনি বলেন, এ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গঠিত তহবিল বিনিয়োগ হতে প্রাপ্ত আয় সর্বজনীন পেনশন তহবিলে জমা হতে থাকবে। ক্রমপুঞ্জিভূত চাঁদা ও আয়ের পরিমাণের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অবসরকালে মাসিক পেনশন প্রাপ্ত হবেন। তবে, সর্বজনীন পেনশন প্রবর্তনের জন্য মৌলিক কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন হবে, যা সময় ও ব্যয়সাপেক্ষ ব্যাপার।

মুহিত আরও বলেন, সরকারি কর্মচারী ও জনগণের মধ্যে সুযোগের ন্যায্যতা ও সামঞ্জস্য বিধান করার জন্য উপযুক্ত কর্মপরিকল্পনা, ধারাবাহিক কৌশলগত পরিবর্তন, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো সৃজন, কারিগরি সক্ষমতা ও যথাযথ নীতিকৌশল প্রণয়ন করা প্রয়োজন। সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বেসরকারি পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক কাজে নিয়োজিত সব কর্মজীবী মানুষের জন্য একটি টেকসই সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা প্রবর্তনের কাজ এ অর্থবছরেই শুরু করার আশা রাখি। অন্ততপক্ষে কয়েকটি নির্দিষ্ট এলাকায় পরীক্ষামূলক উদ্যোগ হিসেবে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করার ইচ্ছা আছে।

এদিকে অনেক বছর ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি (সরকারি বেতনের অংশ) করা হয়নি। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনায় পড়ে বর্তমান সরকার। তাই বাজেটে নতুন করে আরও এক হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হচ্ছে। এ জন্য বাড়তি পাঁচশ’ থেকে সাড়ে পাঁচশ’ কোটি টাকার বরাদ্দ থাকছে। এবারের বাজেটে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনে নজর দেওয়া হচ্ছে। ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনে বাড়িঘরসহ অবকাঠামো তৈরিতে বাজেটে ৫৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রচ্চাব থাকছে।

নতুন বাজেটে প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধা সম্মানি ভাতা ও বিদ্যমান সকল সুবিধার পাশাপাশি বাড়তি হিসেবে যোগ হবে বৈশাখী এবং বিজয় দিবস ভাতা।

x