সফল কৃষক মোস্তফা কোম্পানি দশ গাঁয়ের দৃষ্টান্ত

মাহবুব পলাশ, মীরসরাই

সোমবার , ১১ মার্চ, ২০১৯ at ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ
85

চট্টগ্রাম জেলার মীরসরাই উপজেলার ৬নং ইছাখালী ইউনিয়নের কাজীগ্রাম এর বাসিন্দা মোস্তফা কোম্পানি। প্রতিবছরের মত এবারও উপজেলার সেরা কৃষকের তালিকায়। যে এখন একটি নয়, দশটি গাঁয়ের দৃষ্টান্ত। উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের ফসলের প্রান্তর নিলইর চর থেকে শুরু করে জাহাজমারা চর, দাদাইয়ের চর ও টুমের চরে প্রতি বছর প্রায় ৯০ একর জমির চাষ করেন তিনি। ধানের মৌসুম আসার আগেই পরিবারের সকলকে কোমরে রশি বেধে প্রস্তুত থাকতে হয় কাজের জন্য। হাল চাষ থেকে শুরু করে ধান কাটা, বাড়িতে নিয়ে আসা, তারপর একে একে ধান মাড়াই করা, ধান বাতাস দেওয়া তারপর বাজার দরে বিক্রি করে। কারো চোখে ঘুম নেই। দিনরাত ২৪ ঘণ্টা চলে অবিরাম পরিশ্রম। ধানের মৌসুম ছাড়াও কাজের ব্যস্ততায় ফুসরত নেই পরিবারের সকল সদস্যদের বিভিন্ন মৌসুমে। যেমন – শীতকালীন সকল প্রকার সবজি চাষ, পাট চাষ, আঁখ চাষ, গম চাষ, ভুট্টা চাষ ইত্যাদি। মোস্তফার জমি চাষের জন্য রয়েছে সকল প্রকার নিজস্ব সরঞ্জাম – ধান মাড়ার মেশিন, ধান নেয়ার মেশিন (বোম্বা মেশিন) ট্যাক্টর টলি, ট্যাক্টর, ইট ভাংগার মেশিন, পাম্প মেশিনসহ যাবতীয় ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশ। এছাড়াও হাস মুরগি থেকে শুরু করে গরু মহিষ নিয়ে বিপুল সংখ্যক গৃহপালিত পশু পালন করেন। মোস্তফার পরিবারে আছে ২ মেয়ে ও ৮ ছেলে। ৬ ছেলে বিবাহ করে এখন ২০ জনের যৌথ পরিবার। গেল বছর ধান বিক্রি করে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা আয় করেন মোস্তফা। এবং তার মাসিক আয় ৫০,০০০- ৬০,০০০ টাকা। সুখে আছেন বললেন মোস্তফা। তার এ সফলতার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন জীবনে সফলতার জন্য দরকার মনোবল আর ইচ্ছাশক্তি। যার কাছে এ দুটি নেই সে ব্যর্থ। সে জীবনে কিছুই করতে পারবে না। আমি কর্মকে বড় করে দেখেছি আর তাই আজ আমার সন্তানরা এবং কি ঘরের মহিলা সদস্যরাও অক্লান্ত পরিশ্রম করে নিজেদের অধিনে কাজ করা বেকারদের মুখে অন্ন তুলে নিজেদের মুখে অন্ন দেন এমন দৃষ্টান্ত এযুগে সত্যিই অভাবনীয়।
তবে কৃষক মোস্তফা বলে দুর্ভাগ্যক্রমে আমি আমার ছেলেদের শিক্ষা দিতে পারিনি তাই কর্ম দিয়েছি। তবে এখন আমার পরিবারের কাউকে বাহিরে চাকরি করতে হয় না। তবে আগামীদিনে পরবর্তী প্রজন্ম শিক্ষা লাভ করে উন্নত কৃষি নিয়ে কাজ করার ভাবনা ও আছে বলে জানায় মোস্তফা। আমার এখানে রয়েছে অনেক দিন মজুর লোকের কর্মসংস্থান। পাশের গ্রামের অনেকেই নিয়মিত কাজ করে খায় আমার এখানে। মহান আল্লাহর কাছে হাজারো শুকরিয়া। এখন আগের চেয়ে অনেক ভালো আছি। এই বিষয়ে মীরসরাই উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপজেলা কৃষি সুপারভাইজার নুরুল আলম বলেন এমন কৃষক গ্রামে গ্রামে থাকলে আমাদের জন্য উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রমে সহজ হয়। এমন কৃষকের জন্য যে কোন সময় সহযোগিতার হাত ও প্রসারিত রয়েছে থাকবে বলে তিনি জানান।

x