সন্দ্বীপে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেবে স্বর্ণদ্বীপ ফাউন্ডেশন হাসপাতাল

অপু ইব্রাহিম : সন্দ্বীপ

সোমবার , ২৪ জুন, ২০১৯ at ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ
48

একে তো জীবন ঝুঁকির সমুদ্র পারাপার। তার মধ্যে ভঙ্গুর স্বাস্থ্যসেবা খাত! সেই দ্বীপের বুকে আশার আলো হয়ে আবির্ভাব স্বর্ণদ্বীপ ফাউন্ডেশন হাসপাতাল। যেখানে গরীবদের বিনামূল্যে এবং সচ্ছলদের জন্য ন্যায্যমূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হবে। আগামী অক্টোবরেই যাত্রা শুরু করবে হাসপাতালটি। ‘বাণিজ্য নয়, সন্দ্বীপের মানুষের জন্য অনন্য উপহার হিসেবে সেবা দিয়ে যাবে হাসপাতালটি। এমনটাই জানিয়েছেন হাসপাতালটির উদ্যোক্তা ও ইয়ুথ গ্রুপের চেয়ারম্যান রেজাকুল হায়দার মঞ্জু।
সন্দ্বীপে চিকিৎসার কোনো ভালো ব্যবস্থা না থাকায় যেকোন রোগীকে চট্টগ্রাম যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। যথাসময়ে চিকিৎসকের কাছে পৌঁছাতে না পেরে কেউ চোখ হারিয়েছেন। সংকটাপন্ন বহু প্রসূতি মাকে চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের কাছে নিতে গিয়ে জীবিত অবস্থায় স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। অনেক মা আবার নদীর মাঝে ট্রলারে সন্তান প্রসব করে মৃত্যুবরণ করেছেন। দ্বীপের সরকারি স্বাস্থ্যসেবার কাছে অসহায় মানুষ। উপকূলীয় দ্বীপ সন্দ্বীপে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের চিকিৎসা সেবায় ডাক্তার ১ জন। উপজেলার কেন্দ্রবিন্দু হারামিয়ায় নির্মিত ২০ শয্যার হাসপাতাল থেকে শুরু করে গাছুয়ায় ৩১ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হরিশপুরে ১০ শয্যার ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র কোনোটাতেই যথাযথভাবে স্বাস্থ্যসেবা নেই। একটির জনবল দিয়ে আরেকটা চালানো হচ্ছে জোড়াতালি দিয়ে। সরকার স্বাস্থ্য সেবার উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করলেও সন্দ্বীপে ন্যূনতম চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এখানকার বাসিন্দারা। রয়েছে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ। বেসরকারি উদ্যোগে কয়েকটি হাসপাতাল গড়ে উঠলেও অসহায় গরিবদের জন্য নেই কোন সুব্যবস্থা। তাই স্বর্ণদ্বীপ ফাউন্ডেশন হাসপাতালকে ঘিরে আশার আলো দেখতে শুরু করেছে দ্বীপবাসী।
স্বর্ণদ্বীপ ফাউন্ডেশন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ৩০ শয্যার হাসপাতালের সমস্ত যন্ত্রপাতি ইউরোপ এবং আমেরিকা থেকে আসবে। হাসপাতালে প্রাথমিকভাবে মেডিসিন, নিউরো মেডিসিন, গাইনি বিভাগ ও ডায়াবেটিকস বিভাগে সেবা দেয়া হবে।
জরুরি বিভাগ, ২টি অপারেশন থিয়েটার থাকছে। পর্যায়ক্রমে গ্যাস্ট্রো এন্ট্রোলজি, বক্ষব্যাধি, শিশু রোগ, চক্ষু, নাক, কান ও গলা, ডেন্টাল, জেনারেল সার্জারি, ল্যাপোরোস্কপিক সার্জারি, অর্থোপেড্রিঙ ও নেফ্রোলজি চালু করা হবে। তাছাড়া আধুনিক ও উন্নত প্যাথলজিক্যাল ল্যাব, ডিজিটাল এঙ-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাম, সিটি স্কেন, ইসিজিসহ ডায়াগনস্টিক সেবাও চালু করা হবে। এছাড়া আইসিইউ, এনআইসিইউ, ডায়ালাইসিস, ফিজিওথেরাপিসহ অন্য সব বিভাগ চালুর চিন্তাধারা রয়েছে। পর্যাপ্ত ডাক্তার নিয়োগ পেলেই কাঙ্ক্ষিত সেবা পাবে দ্বীপবাসী।
এ মহতী উদ্যোগের গর্বিত অংশীদ্বাররা হলেন-রেজাকুল হায়দার মঞ্জু, ফিরোজ আলম, আকবর হায়দার মুন্না, আসগার হায়দার মিকু, জনাব ফরিদুল আলম ইমন, ফয়সাল আলম রিমন, রেজিনা আলম কলি, খায়রুল মোস্তফা, নাছির উদ্দীন, এম. হাসানউজ্জামান সোহাগ, দিদারুল আলম ও মো: মামুন।
তরুণ সমাজকর্মী সুজা উদ্দৌলা সজীব বলেন, মূল ভূ-খণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায়, চিকিৎসাখাতে দেশের অন্যান্য উপজেলা থেকে পিছিয়ে আছে সন্দ্বীপ। আধুনিক চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত সন্দ্বীপের জনগণ। সন্দ্বীপের মানুষের সেই অভাব কিছুটা হলেও গোছাতে এগিয়ে এসেছে বাংলাদেশের অন্যতম শিল্পগ্রুপ ইয়ুথ গ্রুপের কর্ণধার ফিরোজ আলম ও রেজাকুল হায়দার মঞ্জু। তাদের উদ্যোগে সন্দ্বীপে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে অত্যাধুনিক স্বর্ণদ্বীপ ফাউন্ডেশন হাসপাতাল। তাদের এ মহতী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছি।
আশা করছি এ হাসপাতাল গরীবের হাসপাতালে পরিণত হবে। দ্বীপবাসীর নির্ভরতার প্রতীক হবে। ইয়ুথ গ্রুপের চেয়ারম্যান রেজাকুল হায়দার মঞ্জু বলেন, স্বর্ণদ্বীপ ফাউন্ডেশন হাসপাতাল সম্পূর্ণ অলাভজনক ও অবাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। এখানে সেবাই মুখ্য। বাণিজ্য করার জন্য ইয়ুথ গ্রুপের একাধিক প্রতিষ্ঠান আছে। সন্দ্বীপের জনগণের জন্য এটি উপহার। যাকাত ফান্ডের টাকা দিয়েই পরিচালিত হবে এটি। যে যাকাত খেতে পারবে তার চিকিৎসা ফ্রি, যার সামর্থ্য আছে সে স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা নেবে। কারণ এখানে ডাক্তারদের বেতনসহ আনুসাঙ্গিক খরচ। তাই সামর্থ্যবানদের থেকে শুধু খরচটুকু নেয়া হবে।
ইয়ুথ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফিরোজ আলম বলেন, ধনী-গরিব নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষকে সবচেয়ে কমমূল্যে সেবা দিতে চায় স্বর্ণদ্বীপ ফাউন্ডেশন হাসপাতাল। এছাড়া হাসপাতালটি উন্নত অবকাঠামো, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও দক্ষ জনশক্তির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে সদা প্রস্তুত। প্রসূতি মায়েদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে গাইনি বিভাগে সিজারিয়ান অপারেশনসহ বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে। এ ব্যাপারে সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নুরুল হুদা বলেন, ব্যক্তি উদ্যোগে সন্দ্বীপে জনসেবামূলক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা হচ্ছে জেনে ভালো লাগছে। এ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার ফলে সন্দ্বীপের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা বৃদ্ধি পাবে। গরীব অসহায় মানুষ উপকৃত হবে।

x