সন্তানের পড়াশোনার সমস্যা

প্রফেসর ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী

শনিবার , ২৫ মে, ২০১৯ at ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ
126

৫-১০ শতাংশ শিশু স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশজনিত জটিলতার শিকার হয়ে পড়াশোনার অসুবিধায় পড়ে। এসব শিশুর বুদ্ধিবৃত্তি, শ্রবণ ও দৃষ্টি শক্তি, বিদ্যালয়ে গমন, চলাফেরা, সামাজিক সাংস্কৃতিক যোগাযোগ সব স্বাভাবিক থাকার পরও দেখা যায় এরা ঠিকভাবে পড়তে পারে না, লিখতে পারে না। অংক কষতে গেলে কেমন যেন তালগোল পাকিয়ে বসে।
সন্তানের এই লার্নিং অক্ষমতা মূলতঃ তার নিউরাল সিস্টেমের অকার্যকারিতার ফলাফল। যা কখনো কখনো জেনেটিক কারণে পাওয়া। এসবের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশে পড়তে পারার প্রকট অসুবিধা থাকে, বর্ণউচ্চারণে বিপত্তি দেখা দেয়।
রোগ শনাক্তকরণ
শিশুর দেরিতে কথা বলা, অস্ফুট শব্দ বা বাক্য উচ্চারণ, সাথে পরিবারে অন্যকারোর এরকম ইতিহাস পাওয়া গেলে তা ‘লাল সংকেত’ হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। এসব শিশু খুব ধীরগতিতে পড়ে, ভুলভাবে পড়ে। উচ্চৈঃস্বরে পড়তে গেলে কোনো কোনো বাক্য বাদ দিয়ে যায়। তাদের হাতের লেখা হয় অস্পষ্ট। সবটা মিলিয়ে স্কুল পারফরম্যান্সে সে খারাপ করে। তবে শিশুর ৭-৮ বছর পুরানোর আগে সুনির্দিষ্টভাবে এ রোগ নির্ণয় সম্ভব হয়না। কেননা অনেক শিশু আছে যারা পড়াশোনার স্বাভাবিক সামর্থ্য অর্জন করে অনেক দেরি করে।
ব্যবস্থাপনা

* অডিওমেট্রিক ও অপথালমিক টেস্ট সহযোগে শ্রবণ ও দৃষ্টি শক্তির সমস্যা চিহ্নিতকরণ। ক্লিনিকেল সাইকোলজিস্ট, শিশু নিউরোলজিস্ট, প্রমুখের পরামর্শ গ্রহণ।

* শিশুর রোগ নির্ণয় আগেভাগে করা গেলে, ঘর ও স্কুলের সহায়ক পরিবেশে, নিয়মিত রি-মেডিকেল এডুকেশন ব্যবস্থাপনার সাহায্যে, এ অসুখের চিকিৎসায় ভালো ফলাফল মেলে।

লেখক : বিভাগীয় প্রধান, শিশুস্বাস্থ্য বিভাগ
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল

x