সঞ্চয়পত্র থেকে ৭ মাসেই লক্ষ্যের ১৮% বেশি ঋণ

সোমবার , ১১ মার্চ, ২০১৯ at ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ
149

বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার চলতি অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে যে পরিমাণ অর্থ ধার করার লক্ষ্য ধরেছিল, তার চেয়েও ১৮ শতাংশ বেশি নিয়ে ফেলেছে সাত মাসেই। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়ে ৩১ হাজার কোটি টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। অথচ এবারের বাজেটে সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে ২৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য ঠিক করেছিল। এ হিসাবে অর্থবছরের সাত মাসেই সঞ্চয়পত্র থেকে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা বেশি অর্থ ধার করে ফেলেছে সরকার। পুঁজিবাজারের অস্থিরতা আর ব্যাংকে আমানতের সুদের হার কম থাকায় গত কয়েক বছর ধরেই সঞ্চয়পত্র সাধারণের কাছে ‘বিনিয়োগের নিরাপদ ক্ষেত্র’ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। সামপ্রতিক সময়ে ব্যাংকগুলো আমানতের সুদহার কিছুটা বাড়ানোর পরও সঞ্চয়পত্র বিক্রি খুব একটা কমেনি।
আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল পরিশোধের পর যা অবশিষ্ট থাকে, তাকে বলা হয় নিট বিক্রি। ওই অর্থ সরকারের কোষাগারে জমা থাকে এবং সরকার তা রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজে লাগায়। বিনিময়ে সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকদের প্রতি মাসে সুদ দিতে হয়। এ কারণে অর্থনীতির পরিভাষায় সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রিকে সরকারের ‘ঋণ’ বা ‘ধার’ হিসেবে গণ্য করা হয়। খবর বিডিনিউজের।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষক জায়েদ বখত বলেন, সামপ্রতিক সময়ে ব্যাংকগুলো আমানতের সুদহার কিছুটা বাড়িয়েছে। কিন্তু মানুষ ব্যাংকের প্রতি আস্থা রাখতে পারছে না। নিরাপদ বিনিয়োগ ভেবে সঞ্চয়পত্রই কিনছে। পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিনের মন্দার কারণেও সঞ্চয়পত্র বিক্রি বেড়েছে বলে মনে করেন অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জায়েদ বখত।
জায়েদ বখত বলেন, এভাবে সঞ্চয়পত্র বিক্রি বাড়তে থাকলে সরকারের ভবিষ্যৎ ঋণের বোঝা বেড়ে যাবে। সেই বোঝা কমাতেই এর সুদের হার কমানো উচিৎ বলে আমি মনে করি। অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ‘পেনশনার সঞ্চয়পত্র’ এবং মহিলাদের জন্য ‘পরিবার সঞ্চয়পত্র’ ছাড়া অন্য সঞ্চয়পত্রের সুদের হার দ্রুত কমানোর পরামর্শ দেন এই অর্থনীতিবিদ। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) ৩০ হাজার ৯৯৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের একই সময়ে এই বিক্রির পরিমাণ ছিল ২৮ হাজার ৯৬৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এ হিসাবে সাত মাসে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি বেড়েছে ৭ শতাংশ।
এক মাসের বিক্রিতে রেকর্ড : সর্বশেষ জানুয়ারি মাসে ৬ হাজার ৩ কোটি টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। এর আগে কখনই এক মাসে এতো টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়নি। অর্থাৎ প্রয়োজন হোক বা না হোক জানুয়ারি মাসে সরকারকে ১১/১২ শতাংশ হারে ৬ হাজার কোটি টাকার সুদ দিতে হয়েছে। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ১৩৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এ হিসাবে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে (মাসওয়ারি) সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি বেড়েছে ১৮ শতাংশের মতো।

x