সংস্কৃতি অপসংস্কৃতি এবং সমাজ পরিবর্তন

আজিজা রূপা

বুধবার , ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ৫:৪৫ পূর্বাহ্ণ
78

প্রায়শই লক্ষ করি এবং অনেকের মধ্যে দেখি অন্য দেশের সংস্কৃতিকে খুব ভালোবাসতে এবং তা আত্মস্থ করে নিজেদের সংস্কৃতিকে খুন করতে। কেউ পাশ্চাত্য সংস্কৃতির উগ্রতা গ্রহণ করছে কেউবা হিন্দি সংস্কৃতির উগ্রতা গ্রহণ করছে। আর অতি স্মার্টনেস এর আত্মতৃপ্তিতে বেশ ফুরফুরে মেজাজ নিয়ে চলাফেরা করছে। বিভিন্ন ভাষা শিখতে পারা, বলতে পারা, জানতে পারা যেমন একটা ভালো গুণের অংশ এবং বাহবা পাওয়ার বিষয়। ঠিক তেমনি উন্নত দেশ গুলোর সংস্কৃতির উগ্রতা নয় ভালো দিক গুলো আত্মস্থ করতে পারলে তবে আমাদের দেশ, আমাদের সংস্কৃতি আরো শক্তিশালী হত। যেমন, পাশ্চাত্য সংস্কৃতি থেকে আমরা সবচেয়ে জঘন্যটা গ্রহণ করছি তাদের পোশাক, তাদের লিভটুগেদার, তাদের মত ইংলিশে কথা বলতে নাপারলেও যতটুকু জানি ততটুকু দিয়ে নিজের ভাষাভাষীদের মধ্যে বলতে পেরে গর্বিত অনুভব করা। কিন্তু কই আমরা তো ওসব দেশের ছাত্রছাত্রীরা পড়াশুনার পাশাপাশি পত্রিকা বিক্রি করছে, নিজের বাসস্থান, টয়লেট আশেপাশের সব ময়লা নিজেরাই পরিষ্কার করছে কই সেসব তো আমরা আয়ত্ত করি না। সে সবকে আমারা তুচ্ছ ঘৃণ্য কাজ মনে করি। আমরা এমনই, যা কিছু ক্ষতিকর তাই ভালোবেসে সাদরে গ্রহণ করি। যা কিছু প্রীতিকর, হিতকর তা গ্রহণ তো দূরের কথা এড়িয়ে চলি। আমরা আমাদের সুন্দর সংস্কৃতির অনেক কিছু হারিয়ে বসেছি অপসংস্কৃতির অনুসরণে। কালো চুল সোনালী হয়ে উঠছে কৃত্রিম রং এ। ইংরেজ কবির সোনালী চুলের জয় হয়েছে কারণ বাংলা কবির চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নেশা যে সোনালী চুলের চিকচিকানিতে হারিয়েছে।
বাংলা গান হারিয়ে গেছে হিন্দি গানের জোয়ারে। বাংলাভাষা রক্তাক্ত হচ্ছে ইংরেজির তলোয়ারে। সম্মান করি ইংরেজি ভাষাকে। রপ্ত করুন, নিজেদের অন্য দেশের ভাষাভাষীদের মধ্যে তুলে ধরতে। কিন্তু যারা বাংলা বুঝে তাদের সাথে কেন ইংরেজির বাহাদুরি! অনেকে বাউল গান কি চিনেনা। সেরকম আর কিছুদিন পর রবীন্দ্রসংগীতই বা কি? নজরুল সংগীতইবা কি? তাও প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াবে। তখন হয়তো উত্তর দেয়ার লোকও থাকবেনা। কারণ আমরা এখন আসল নয় রিমিঙ পছন্দ করি। রিমিঙের সুরে সুর হারাচ্ছে বেসুরায়। জারি সারি তো কালের গহব্বরে কবেই মিলিয়ে গেছে। শিক্ষক ক্লাসে ঢুকে গুড মর্ণিং দিয়ে দিন শুরু করেন। আমরা এখন মোটা চাল খেয়ে শরীরে শক্তি সঞ্চয় করিনা, মেশিনে কাটা চিকন চাল খেয়ে ধীরে ধীরে ক্যানসার এর বীজ বপন করি। বাংলাদেশী চ্যানেলে পরিচ্ছন্ন নাটক দেখিনা স্টার জলসার ১৪ প্যাঁচাল দেখে মাথা নষ্ট করি। ঘরে রান্না করিনা রেস্টুরেন্টে চাইনিজ খাওয়াকে সৌখিনতা মনে করি। সত্যি অপসংস্কৃতিও সেই মেশিনে কাটা চিকন চালের মত ক্যানসারের বীজ ছড়িয়ে আমাদের সমাজ কুরে কুরে ধ্বংস করছে। আসুন দয়া করে অন্য দেশের, অন্য সমাজের, অন্য সংস্কৃতির ভালোটা গ্রহণ করি। খারাপটা বর্জন করি। নিজেদের সংস্কৃতিকে আরো বলিষ্ঠ করি, মজবুত করি। মনে রাখবেন সংস্কৃতিই কিন্তু মূল অস্তিত্ব বহন করে। তাই অপসংস্কৃতির চাপায় নিজের সংস্কৃতিকে হত্যা করবেননা। তাহলে নিজের অস্তিত্বই আর খুঁজে পাবেননা। বেঁচে থাকুক আমাদের সংস্কৃতি। বিশ্ব চিনুক বাংলা সংস্কৃতি। সমৃদ্ধ হোক আমাদের সংস্কৃতি।

x