সংস্কারে পাল্টে যাচ্ছে প্রসূতি বিভাগ

রতন বড়ুয়া

শুক্রবার , ১০ আগস্ট, ২০১৮ at ৩:৩৪ পূর্বাহ্ণ
362

আধুনিকায়ন (রিইনোভেশন) হচ্ছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগ। আর এই আধুনিকায়নের আওতায় প্রতিষ্ঠার ৫৮ বছরে বিভাগটিতে বাড়ানো হচ্ছে লেবার (ডেলিভারি) রুম ও অপারেশন থিয়েটারের (ওটি) সংখ্যা। ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে একটি মাত্র লেবার রুমে সেবা কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল বিভাগটি। তবে শুরুর সময়ে বিভাগটিতে ওটি ছিলই না। সিজার অপারেশনের প্রয়োজন হলে চারতলার অপারেশন থিয়েটারে প্রসূতিকে নিয়ে যাওয়া হতো। সেখানেই সিজারিয়ান অপারেশন করা হতো। তবে ১৯৯৬ সালের পর ৬ তলার প্রসূতি বিভাগেই একটি ওটি স্থাপন করা হয়। এতদিন ওই একটি মাত্র ওটিতেই সিজারিয়ান অপারেশন সেবা দিয়ে আসছিল বিভাগটি। তবে এবার লেবার রুমের পাশাপাশি আরো একটি ওটি (অপারেশন থিয়েটার) বাড়ানো হচ্ছে বিভাগটিতে। একই সাথে কয়েদি রোগীদের জন্য ১৬ শয্যার আলাদা প্রিজন সেল স্থাপন করা হচ্ছে হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে।

হাসপাতাল ভবনকে কয়েকটি অংশে ভাগ করে পৃথক কয়েকটি ফেইজে আধুনিকায়নের এ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। আর পুরো প্রকল্পে অর্থায়ন করছে জাপানের দাতা সংস্থা জাইকা (জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি)। চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জালাল উদ্দিন আজাদীকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। হাসপাতালের উপপরিচালককে প্রকল্পটি তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান হাসপাতাল পরিচালক।

হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আখতারুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পটির (নির্দিষ্ট ব্লকের) টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে কাজও শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে নিচতলায় কাজ শেষ হয়েছে। দ্বিতীয়, ৩য় ও ৪র্থ তলায় কাজ চলমান রয়েছে। অগামী ঈদুল আযহার পরপরই প্রসূতি বিভাগের কাজ শুরু করা হবে। তবে ডিসেম্বরের মধ্যেই পুরো ব্লকটির আধুনিকায়ন সম্পন্ন হবে বলে দাবি করেন উপপরিচালক।

এদিকে হাসপাতাল প্রশাসন বলছে, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপে প্রসূতির সংখ্যা ও ডেলিভারির হার অন্তত কয়েকগুণ বেড়েছে হাসপাতালটির প্রসূতি বিভাগে। যার কারণে লেবার রুম আর ওটিতেও চাপ বেড়েছে অতিমাত্রায়। প্রসূতি বিভাগ সূত্রে জানা গেছেস্বাভাবিক ডেলিভারি (প্রসব) প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় লেবার রুমে। আর সিজারিয়ান অপারেশনের প্রসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রয়োজন পড়ে ওটির (অপারেশন থিয়েটার)। প্রায় ২৪ ঘণ্টাই লেবার রুম ও ওটি চালু রাখতে হয় বিভাগটিতে। অনেক সময় একই সাথে একাধিক প্রসূতির ডেলিভারি প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করতে হয়।

অতীতে দৈনিক সবমিলিয়ে (নরমাল ও সিজারিয়ানসহ) ৩০ থেকে ৪০টি ডেলিভারি হলেও বর্তমানে এ সংখ্যা দৈনিক ৮০টির কম নয়। এর মধ্যে স্বাভাবিক ডেলিভারির সংখ্যা সিজারিয়ানের সংখ্যার কিছুটা বেশি বলে জানালেন প্রসূতি বিভাগের প্রধান ডা. শাহানারা চৌধুরী। অতিমাত্রায় রোগীর চাপের বিষয়টি জানিয়ে ডা. শাহানারা চৌধুরী বলেন, বলতে গেলে বৃহত্তর চট্টগ্রামের দূরদূরান্তের প্রায় সব অঞ্চল থেকেই প্রসূতি এবং রোগীদের এখানে নিয়ে আসা হয়। ফলে চাপটা খুব বেশি। কিন্তু একটি মাত্র লেবার রুম ও ওটির মাধ্যমে সেবা প্রদান করতে গিয়ে চিকিৎসকনার্সদের যথারীতি হিমশিম খেতে হয়। অনেক সময় রোগীকে ওয়েটিংয়ে রাখতে গিয়ে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির সম্মুখীনও হতে হয়। রোগীর চাপের পাশাপাশি এসব বিবেচনায় নিলে লেবার রুম ও ওটির সংখ্যা অনেক আগেই বাড়ানোর প্রয়োজন ছিল। তবে দেরিতে হলেও এখন সংখ্যা বাড়লে প্রসূতি বিভাগের সেবার গতি আরো বাড়বে বলেও মনে করেন বিভাগীয় প্রধান।

হাসপাতাল প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রসূতি বিভাগ থাকা হাসপাতাল ভবনের নিচ তলা থেকে ৬ তলা পর্যন্ত ব্লকটির আধুনিকায়নের প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। ব্লকটির নিচতলার চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগ এবং ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগ, দ্বিতীয় তলার কার্ডিওলজি বিভাগ (আগে শিশু সার্জারি ছিল), তৃতীয় তলায় মেডিসিন বিভাগ, ৪র্থ তলায় অপারেশন থিয়েটার (ওটি), ৫ম তলায় অর্থোপেডিক বিভাগ এবং ৬ তলায় প্রসূতি বিভাগ এই প্রকল্পের আওতায় আধুনিকায়ন হচ্ছে। গোটা ব্লকটির (ভবনের একটি অংশের নিচ তলা থেকে ৬ তলা) আধুনিকায়নে ব্যয় হবে ২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। আর কেবল প্রসূতি বিভাগটির আধুনিকায়নে আনুমানিক ৬০ লাখ টাকারও বেশি ব্যয় হতে পারে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আখতারুল ইসলাম।

আলাদা প্রিজন সেল : হাসপাতালের তিন তলায় মেডিসিন ওয়ার্ডের ৫টি কক্ষ সংস্কার করে গড়ে তোলা হচ্ছে আলাদা প্রিজন সেল। কয়েদি রোগীদের চিকিৎসা সেবায় আলাদা করে ১৬ শয্যার এ প্রিজন সেল স্থাপন করা হচ্ছে। প্রিজন সেল স্থাপনের বিষয়ে হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আখতারুল ইসলাম বলেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন কয়েদি রোগীর সাথে এক শিফটে অন্তত তিনজন পুলিশ সদস্য ওয়ার্ডে অবস্থান করেন। তিন শিফটে ৯ জন পুলিশ সদস্য অবস্থান করেন। বিভিন্ন ওয়ার্ডে এভাবে কয়েদি রোগীর সাথে পুলিশ সদস্যের অবস্থান চোখে পড়ে। যা হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশের সাথে মানানসই নয়। তাই কয়েদি রোগীদের জন্য মেডিসিন ওয়ার্ডে আমরা আলাদা প্রিজন সেল স্থাপন করছি। এই প্রিজন সেলে প্রাথমিক ভাবে ১২ থেকে ১৬টি শয্যা থাকবে।

এদিকে, এই ব্লকটি ছাড়াও আরো দুটি ব্লকে নিচতলা থেকে ৬ তলা পর্যন্ত আধুনিকায়ন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। প্রতিটি ব্লকের ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা করে। প্রকল্প দুটিও বাস্তবায়ন হবে জাইকার অর্থায়নে। চমেক হাসপাতাল প্রশাসন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

x