সংগীত পরিষদের বর্ষপূর্তি উৎসব

সুজিত চৌধুরী মিন্টু

বৃহস্পতিবার , ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ
21

দানবের সমাজ নয়, মানবের দেশ গড়তে হলে মনের আশার আলো জ্বালাতে হবে। যে তরুণ নিজ দেশে সংস্কৃতি চর্চা থেকে বিরত সে কখনো দেশপ্রেমিক ও প্রকৃত মানুষ হতে পারে না। শিল্পীরা শুধু সংস্কৃতিরই চর্চা করে না, তারা সময়ের প্রয়োজনে দেশের প্রয়োজনে বড় অবদান রাখে, যার প্রমাণ আমাদের মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সূচনা হয়েছে এই চট্টগ্রাম থেকে। এর পেছনে অবদান রয়েছে শিল্পী ও কলাকুশলীদের। চট্টগ্রাম আমাদের গৌরবের জায়গা। এখানে যেমন স্বাধীনতা সংগ্রামী মাস্টারদা সূর্যসেন, প্রীতিলতা, কল্পনা, মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, কাজেম আলী মাস্টার প্রমুখ জন্ম নিয়েছেন তেমনি জন্ম নিয়েছেন সঙ্গীত জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র সঙ্গীত আচার্য্য সুরেন্দ্র লাল দাশ, উস্তাদ নীরদ বরণ বড়ুয়া, উস্তাদ জগনান্দ বড়ুয়া, অধ্যক্ষ সৌরিন্দ্র লাল দাশগুপ্ত (চুলুবাবু) সহ বহু বরেণ্য শিল্পবৃন্দ। উপরোক্ত বক্তব্য রাখেন প্রধান অতিথি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান। গত ২৫ জানুয়ারি, শুক্রবার এনায়েত বাজার মহিলা কলেজস্থ প্রাঙ্গণে পরিষদের সভাপতি মেজর জেনারেল (অবঃ) প্রকৌশলী আবদুল মতিনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন এনায়েত বাজার মহিলা কলেজ এর অধ্যক্ষ প্রফেসর তহুরুন সবুর ডালিয়া, অধ্যাপক তৈয়ব চৌধুরী ও প্রণব দাশগুপ্ত(বাসু)। অনুষ্ঠানে খ্যাতনামা রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী তুষার কান্তি বড়ুয়া, নজরুল সংগীত শিল্পী অধ্যাপক কাজী আয়েশা আমার ও লোকসংগীত শিল্পী কল্পনা লালাকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে রাখেন সংগীত পরিষদের সম্পাদক তাপস হোড়। অনুষ্ঠানে ২০১৮ সালে পরিষদে বার্ষিক পরীক্ষায় প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় স্থান অর্জনকারী ছাত্র-ছাত্রীদের ক্রেষ্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। এছাড়া ৬ষ্ঠ বর্ষে উত্তীর্ণ কৃতী ছাত্র-ছাত্রীদের অধ্যক্ষ সৌরিন্দ্র লাল দাশগুপ্ত (চুলুবাবু) স্মৃতি বৃত্তির অর্থ ও সনদ বিতরণ করা হয়। আলোচনা সভার শেষে আমার প্রিয় ‘‘বাংলাদেশ শীর্ষক ’’সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সঙ্গীত, নৃত্য ও আবৃত্তি, তবলা লহড়া পরিবেশন করেন পরিষদের ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ।
মঞ্চে হাজির হয় একঝাঁক কচিকাঁচা। শিশুদের উচ্ছাসিত মুখগুলো আনন্দধারা বয়ে দিল রাগ ‘‘আশাবরী’’ পরিবেশনের মধ্যে দিয়ে সকালের অধিবেশন শুরু হয়। পরিবেশন করেন বাঁধন, শর্মি, প্রিয়া, শ্রীপর্ণা, পপি, তিথি, অম্বিকা, পুষ্পিতা, ইসফার, প্রাচী, প্রিয়ন্তী, পিউ, ঐশিকা, অর্পিতা, অদিতি। এরপর একটি আবৃত্তি পরিবেশন করেন মহিয়সী, অস্মি, দিব্যেন্দু, ইনোরা, বর্ষা, শ্রেয়া, পূর্বাশা, শ্রাবন্তী, প্রঞ্জা, তাসদিক, অর্চি, সীমান্ত, অহনা ও পায়েল। ‘‘ পলাশ ঢাকা কোকিল ডাকা’’ সমবেত নৃত্য পরিবেশন করেন অনিন্দ্য, অমি, তিতলী, আদিক, রাধিকা, সোনালী, শ্রেষ্টা, দেবাংশী, বহ্নি, ফারিয়া, প্রাপ্তি, নন্দিনী, শাইদা, শাহানাজ। ‘‘অরূপ তোমার বাণী’’ রবীন্দ্র সংগীতটি পরিবেশন করেন প্রদীপ্তা, অমিষা, মুনমুন, পূর্বা, ফারহিনা, অনিন্দিতা, নবনীতা, অর্পা, স্নিগ্বা,অথৈ, অহনা, নুসরাত, বিজয়ন্তীম শ্রেয়া, দেবলীনা, দেবশ্রী, ঋষিতা, বৈশাখী, বিশাখা, পুষ্পিতা, প্রেমাঞ্চিতা, ফাইরুজ, সুলগ্না, অর্পা, অনন্যা, সঞ্চিতা, মহুয়া, ঋতু, পিয়াস, স্নেহা, অনন্যা, প্রিয়ব্রতা। ‘‘ও ভাই খাঁটি সোনার চেয়ে’’ নজরুল সংগীতটি সমবেত কণ্ঠে পরিবেশন করেন আম্বিকা,ইশফাক,শর্মি, প্রিয়া, তিথি, পপি ও পুষ্পিতা। ‘‘ভাষার জন্য যারা দিয়ে গেছে প্রাণ’’ গানটির মধ্যে দিয়ে সকালের অধিবেশন শেষ হয়। সমবেত কন্ঠে পর্‌িেবশন করেন ভাগ্যশ্রী, মহিয়সী, মুনমুন, নবজিৎ, অন্বেষা, আরাধ্যা, রাজেশ্বরী, পুষ্পিতা, উপমা, সাইরী, আরোহী, আরোশি, মারশুরাহ্‌। রাগ- পিলু সমবেত পরিবেশনের মধ্যে দিয়ে বৈকালিক অধিবেশন শুরু হয়। এরপরই উচ্চাঙ্গ নৃত্য কত্থক পরিবেশন করেন সংহিতা, রাজশ্রী, মহিয়সী, কারিশমা, মহুয়া, অম্মি, শ্রেয়া ও মেঘা। একক নজরুল সংগীত পরিবেশন করেন ‘‘মধু কয় মঞ্জির’’ শিল্পী পুষ্পিতা বড়ুয়া, ‘‘ মনে পড়ে আজ’’ শিল্পী অনন্যা দাশ,
‘‘ কালো মেয়ের পায়ের তলায়’’ শিল্পী পূর্বা চৌধুরী ও শিল্পী সিন্দিয়া রশ্নি স্নাতা পরিবেশন করেন ‘‘সাজিয়াছ যোগী’’।
পরিষদের শিক্ষকদের পরিচালনায় নৃত্য নাট্য ‘‘অভিসার’’। সঙ্গীত পরিচালনায় ছিলেন মনীষা রায়, নৃত্য পরিবেশনায় স্বপন বড়ুয়া, আবৃত্তি পরিবেশনায় দেবাশীষ রুদ্র ও লিপি সেন, সঙ্গীত পরিবেশনায় ছিলেন ঋতু, অনন্যা, প্রিয়া, অর্পা, সুলগ্না, প্রেমাঞ্জিতা, ফারহিনা ও পূর্বা। তবলা লহড়া পরিবেশনায় ছিলেন অর্ণব, দেবজ্যোতি, শিমুল, নির্ভিক, জয়দেব, প্রান্ত, অভিষেক,রৌদ্র, অরুন্দ্বতী, অয়ন, জয়ন্ত, শিশির, অরিত্র ও তারকানাথ।
সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন অধ্যাপক দেবাশীষ রুদ্র। বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে স্যুভেনিয়ার প্রকাশ করা হয়, সম্পাদনায় ছিলেন উস্তাদ স্বর্ণময় চক্রবর্তী, সহকারী চন্দন রায়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন অধ্যক্ষ সুজিত কুমার সেন, ওস্তাদ স্বর্ণময় চক্রবর্তী, জসীম মোস্তফা, মিতালী রায়, পিন্টু ঘোষ, জয় প্রকাশ ভট্টাচার্য্য, স্বপন বড়ুয়া, মনীষা রায়, শম্পা ভট্টাচার্য্য, ভবানী বসাক, বনানী চক্রবর্তী, অলক কুমার ভট্টাচার্য্য, ত্রিদিব কুমার বৈদ্য, অঞ্জন দাশ, সঞ্জয় বণিক, মোহাম্মদ কামাল, রাজশ্রী দাশ, রিপন রায় চৌধুরী, প্রান্ত আচার্য্য, রিপন সেনগুপ্ত ও দীপ্ত দত্ত।

x