শ্রীলঙ্কায় বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা ২শ ছাড়িয়েছে

আজাদী অনলাইন

রবিবার , ২১ এপ্রিল, ২০১৯ at ৭:৩৬ অপরাহ্ণ
269

খ্রিস্টানদের ধর্মীয় পর্ব ইস্টার সানডেতে শ্রীলঙ্কায় চারটি হোটেল, তিনটি গির্জা ও আরেকটি স্থানে বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৭ জনে।

সকালে তিনটি হোটেল ও তিনটি গির্জায় ছয়টি বোমা বিস্ফোরণের পর বিকেলে আরেকটি হোটেলসহ দু’টি স্থানে হামলা হয়।

আজ রবিবার (২১ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে দুই দফায় এসব হামলার ঘটনায় আহত হয়েছেন প্রায় সাড়ে চারশ মানুষ।

সকালে রাজধানী কলম্বো ও এর আশপাশের তিনটি গির্জা এবং অভিজাত হোটেলে হামলা চালানো হয়। কয়েক ঘণ্টা পর হামলা হয় দেহিওয়ালা জেলার একটি হোটেলে এবং দেমাতাগোদা জেলার একটি স্থাপনায়। বেশিরভাগ হামলা চালানো হয় আত্মঘাতী বোমা ফাটিয়ে। হামলার পর ঘটনাস্থলে পড়েছিল মানুষের লাশ। রক্তের ছোপ পড়েছিল গির্জা-হোটেলের মেঝেতে।

খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে উদযাপন করার সময় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কলম্বোর সেন্ট অ্যান্থনি গির্জায় বোমা হামলা হয়। আধ ঘণ্টার মধ্যেই হামলা হয় কলম্বোর ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সেন্ট সেবাস্টিন গির্জা ও ২৫০ কিলোমিটার দূরে বাট্টিকালোয়ার জিওন গির্জায়।

তারপর হামলা হয় কলম্বোর অভিজাত কিংসবারি, সাংগ্রিলা এবং সিনামোন গ্র্যান্ড হোটেলে। এই হোটেলগুলোতে তখন বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিক ছিলেন।

গোটা কলম্বোবাসী ঘটনার আকস্মিকতা কাটিয়ে না উঠতেই দেহিওয়ালা জেলার এক হোটেলে এবং দেমাতাগোদা জেলার একটি স্থাপনায় আবার হামলা হয়।

সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোর প্রশাসনের বরাত দিয়ে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বলছে, দফায় দফায় হামলায় এ পর্যন্ত ২০৭ জন নিহত হয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে আরও পাঁচ শতাধিক মানুষকে।

সেন্ট সেবাস্টিন গির্জা কর্তৃপক্ষ হামলার পরের কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেছে যেগুলোতে দেখা যায় বোমা বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত হয়ে গেছে গির্জার ভেতরটি। মেঝেতে রক্তের ছোপ।

শ্রীলঙ্কায় গৃহযুদ্ধের পর গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় এই হামলার ঘটনায় সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করেছে দেশটির সরকার। পাশাপাশি সোম ও মঙ্গলবার ঘোষণা করা হয়েছে সরকারি ছুটি।

বিচ্ছিন্নতাবাদী তামিল টাইগারদের দমনের পর অনেকটা শান্তির জনপদ হয়ে ওঠা শ্রীলঙ্কা এই বোমা বিস্ফোরণে যেন স্তম্ভিত হয়ে পড়েছে। তবে দেশটির প্রেসিডেন্ট মৈথ্রিপালা সিরিসেনা এ বিষয়ে সবাইকে ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবেলার আহ্বান জানিয়েছেন।

হতাহতদের মধ্যে কোনো বাংলাদেশি আছেন কি-না তা নিশ্চিত করে বলা না গেলেও ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, “বোমা হামলার ঘটনাটির পর এখন পর্যন্ত দু’জন বাংলাদেশি ‘আনঅ্যাকাউন্টেড ফর’। আমরা জেনেছি একটি পরিবারের চারজনের মধ্যে দু’জন ‘রিপোর্টেড’। বাকি দু’জনের একজন শিশু ও একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ‘আনঅ্যাকাউন্টেড ফর’। তবে তাদের নাম-পরিচয় এখনো কিছুই জানা যায়নি। আমরা আশা করছি তাদের কোনো হোটেল বা হাসপাতালে রাখা হয়েছে। আমরা জানতে পারলেই জানিয়ে দেয়া হবে।”

 

x