শ্রমিক ধর্মঘটে অচল নৌপথ

অভ্যন্তরীণ রুটে পণ্য পরিবহন বন্ধ

আজাদী প্রতিবেদন

বুধবার , ১৭ এপ্রিল, ২০১৯ at ৬:৩০ পূর্বাহ্ণ
20

শ্রমিক ধর্মঘটে অচল নৌপথ। বন্ধ রয়েছে জাহাজে পণ্য পরিবহন। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে রাত ১টা পর্যন্ত শ্রম মন্ত্রণালয়ে বৈঠক হয়। কিন্তু বৈঠকে কোনো সুরাহা হয়নি।
১১ দফা দাবিতে নৌযান শ্রমিকেরা আকস্মিক কর্মবিরতি শুরু করলে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে আমদানি পণ্য লাইটারেজসহ অভ্যন্তরীণ নৌ-রুটে সব ধরনের পণ্য পরিবহন বন্ধ হয়ে যায়। বহির্নোঙর এবং কর্ণফুলী নদীতে অলস পড়ে আছে দুই শতাধিক লাইটারেজ জাহাজ। দিনভর অভ্যন্তরীণ নৌ-রুটে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় বিভিন্ন শিল্প কারখানার কাঁচামাল পরিবহনসহ ভোগ্য পণ্য পরিবহন বন্ধ হয়ে যায়।
সোমবার মধ্যরাত থেকে এগার দফা দাবিতে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন সারা দেশে একযোগে কর্মবিরতির ঘোষণা দেয়। আকস্মিক এই কর্মবিরতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাহাজ মালিক নেতৃবৃন্দ।
বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের নেতা নবী আলম বলেন, ১১ দফা দাবিতে সব ধরনের পণ্য ও যাত্রীবাহী নৌযানে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। সারা দেশের ন্যায় চট্টগ্রামেও সোমবার মধ্যরাত থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন শ্রমিকেরা। এতে করে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে অভ্যন্তরীণ নৌ-রুটে সব ধরনের পণ্য পরিবহন বন্ধ হয়ে গেছে।
তিনি জানান, কর্মবিরতিতে বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ মাদার ভ্যাসেলগুলো থেকে পণ্য খালাস বন্ধ হয়ে গেছে। ঘাটগুলোতে পণ্য নিয়ে কোনো লাইটারেজ জাহাজ আসেনি। আবার বহির্নোঙরে পণ্য খালাস করতেও যায়নি কোনো জাহাজ। সবকিছু মিলে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। একই সাথে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, খুলনাসহ বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ রুটে পণ্য পরিবহন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
শ্রমিক নেতারা বলেন, তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে, ২০১৬ সালে ঘোষিত বেতন স্কেলের পূর্ণ বাস্তবায়ন, নৌপথে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ডাকাতি বন্ধ, ভারতগামী শ্রমিকদের ল্যান্ডিং পাস দেওয়া ও হয়রানি বন্ধ, নদীর নাব্যতা রক্ষা, নদীতে প্রয়োজনীয় মার্কা, বয়া ও বাতি স্থাপন। দাবিগুলো বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে শ্রমিক নেতারা উল্লেখ করেন।
এদিকে, আকস্মিক কর্মবিরতিতে শঙ্কা জানিয়ে চট্টগ্রামের লাইটার জাহাজ মালিকদের নেতা হাজী শফিক আহমদ জানান, কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়া হঠাৎ করে কর্মবিরতি শুরু হয়। সোমবার রাত ১২টার পর আমরা শুনেছি নৌযান শ্রমিকেরা কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন। এর ফলে চট্টগ্রামে ২ শতাধিক লাইটারেজ জাহাজ অলস বসে থাকে। রমজান মাসের আগে এ ধরনের ধর্মঘট দুঃখজনক।
চট্টগ্রাম বন্দরের একজন কর্মকর্তা গত রাতে জানান, এই আন্দোলনের সাথে চট্টগ্রাম বন্দরের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে, চট্টগ্রাম বন্দরকেই ভুগতে হবে। তিনি বলেন, বহির্নোঙরে লাইটার শ্রমিকদের কর্মবিরতির ফলে কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে জাহাজের অবস্থানকাল বেড়ে যাবে। অবশ্য বহির্নোঙরে সংকট চললেও বন্দরের অভ্যন্তরে যথারীতি স্বাভাবিক কার্যক্রম চলেছে বলে জানান তিনি।

x