শৈল্পিক ছোঁয়ায় সাজানো নীলাচলে মেঘের হাতছানি

আলাউদ্দিন শাহরিয়ার : বান্দরবান

সোমবার , ১৭ জুন, ২০১৯ at ৬:৩৭ পূর্বাহ্ণ
80

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে শৈল্পিক ছোঁয়ায় বদলে গেছে পর্যটন স্পট নীলাচল। সবুজ পাহাড়ের চূড়ায় গড়ে তোলা দৃষ্টিনন্দন শৈল্পিক অবকাঠামোগুলো চিরচেনা নীলাচলের সৌন্দর্যে এনেছে ভিন্নতা। ভ্রমণকারী পর্যটকদের যে কারোর মনে হতে পারে, এ যেন অন্যরকম নীলাচল এবং অন্যকোন দেশের আকর্ষণীয় ট্যুরিস্ট স্পট। বর্ষায় নীলাচল স্পটে মিলবে মেঘের হাতছানি। কখন মেঘ এসে আপনাকে ভিজিয়ে দিয়ে যাবে বোঝার উপায় নেই। বৈচিত্রময় বান্দরবানের অন্যতম পর্যটন স্পট “নীলাচল” এর সৌন্দর্য বর্ধনে ভাস্কর্য, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, কটেজ, গোলঘর, অবকাঠামো তৈরিসহ নানা কারুকাজ চলমান রয়েছে। জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত নীলাচল ট্যুরিস্ট স্পটটি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে আরো বেশি আকর্ষণীয় করে তুলতে এই উদ্যোগ নেয়ার কথা জানিয়েছেন প্রশাসন। আকর্ষণীয় স্পটটি দূর থেকে দেখে মনে হয়, যেন নীলাচল হাতছানি দিয়ে ডাকছে পর্যটকদের।
জানা গেছে, প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত নীলাচল পর্যটন স্পটের সৌন্দর্য বর্ধনে ইতিমধ্যে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন ধরনের অবকাঠামো নির্মাণসহ নানা উন্নয়ন কাজ করা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, পৌরসভা এবং নীলাচলের নিজস্ব আয়ের অর্থে সৌন্দর্য বর্ধনের কাজগুলো সম্পন্ন করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ (এলজিইডি) অর্থায়নে নীলাচল সড়কটি সংস্কার এবং প্রশস্তকরণ করা হয়েছে। নীলাচল হয়ে চিম্বুক সড়কে যাবার পরিত্যক্ত সড়কটি পুনঃনির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে।
জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) মো: কামরুজ্জামান বলেন, বর্ষায় নীলাচলের সৌন্দর্য আরো বেশি ফুটে উঠে। পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে নীলাচল ট্যুরিস্ট স্পটের আয় থেকে নতুনভাবে সৌন্দর্য বর্ধন-পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এবং সংস্কার কাজ করা হচ্ছে। ঝাড়-জঙ্গলগুলো পরিষ্কার এবং রঙের কাজ করা হচ্ছে। বান্দরবান ভ্রমণ পর্যটকদের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ। কোনো ধরণের ঝুঁকি নেই এখানে। বর্ষায় মেঘ ছুঁয়ে যায় নীলাচল ট্যুরিস্ট স্পট। বর্ষায় মেঘের ছোঁয়া পেতে ঘুরে আসুন নীলাচলে।
এদিকে নীলাচলের সৌন্দর্য বর্ধনের চলমান উন্নয়ন কাজের প্রশংসা করেছেন বেড়াতে আসা পর্যটকেরাও। ট্যুরিস্ট দম্পতি শায়লা শারমিন ও রোমেন ইমতিয়াজ বলেন, নীলাচল ট্যুরিস্ট স্পটে অনেক বছর আগেও একবার এসেছিলাম। পাহাড়ের চূড়ায় গড়ে তোলা নীলাচলের সৌন্দর্য অন্যরকম সুন্দর। অন্য স্পটগুলোর সঙ্গে মেলানো কঠিন। স্পটটি সকালে এক রকম, বিকাল বেলায় আরেকরকম। রাতের সৌন্দর্যের কথা ভাষায় বোঝানো সম্ভব নয়। প্রশাসনকে ধন্যবাদ রাতের সৌন্দর্য উপভোগের জন্য রাত আটটা পর্যন্ত নীলাচল ভ্রমণ উন্মুক্ত করার জন্য। শৈল্পিক ছোঁয়ায় অবকাঠামোগত উন্নয়নে আগের চেয়ে অনেকটায় বদলে গেছে নীলাচল ট্যুরিস্ট স্পটটি। তবে সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ করতে গিয়ে সবুজ নীলাচল যেন, ইট-পাথরের জঞ্জালে পরিণত না হয়।
এদিকে পর্যটন স্পট নীলাচলে রয়েছে প্রকৃতির অপার সমাহার। ট্যুরিস্ট স্পট’টি সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় সহস্রাধিক ফুট পাহাড়ের উচ্চতায়। জেলা শহর থেকে নীলাচলের দূরত্ব ৪ কিলোমিটার। বান্দরবান-কেরানীহাট-চট্টগ্রাম সড়কের যৌথখামার পাড়া মুখ থেকে গাড়ি এবং পায়ে হেটেও সহজে নীলাচল স্পটে যাওয়া যায়। পর্যটকের সুবিধার্থে নীলাচলে তৈরি করা হয়েছে, পর্যবেক্ষন টাওয়ার, পাহাড়ের কিনারা ঘেঁষে রেলিং ঘেরা সুদৃশ্য চত্বর, লাভ পয়েন্ট, ওয়াকওয়ে, শিশুদের বিনোদনের জন্য তৈরি বিভিন্ন ক্রীড়া সামগ্রী এবং পর্যটকদের বিশ্রামের জন্য বসার সীট, ছবি তোলার জন্য বিভিন্ন পয়েন্ট, গোলঘর, দৃষ্টিনন্দন সিঁড়িগুলোও সৌন্দর্য বর্ধনের ছোঁয়ায় পুরোপুরি পাল্টে গেছে। কটেজ তৈরির কাজও চলছে জোরেশোরে। ইতিমধ্যে পর্যটন স্পটের ভিন্ন চেহারা দেখে মুগ্ধ হচ্ছে পর্যটকরা। এছাড়াও নীলাচলে পর্যটকদের জন্য তৈরি ছোট্ট ছোট্ট চায়ের মাচাং দোকানগুলোও গাড়ি পার্কিং চত্বরের পাশে বসিয়ে দেয়ায় স্পটটি ভরপুর মনে হচ্ছে। পর্যটকদের থাকা-খাওয়ার জন্য এখানে রয়েছে তিনটি কটেজ এবং একটি রেস্টুরেন্টও। স্পটের আরেকপাশে রয়েছে পাহাড়িদের মাচাং দোকানও। যেখানে ফরমালিন মুক্ত পাহাড়ে উৎপাদিত বিভিন্ন ধরনের ফল সারাবছরই পাওয়া যায়।
নীলাচলের ব্যবসায়ী সায়দুল ইসলাম বলেন, নীলাচল পর্যটকদের নজর কাড়ার মত একটি দর্শনীয় স্থান। এখানে কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতের বিপরীতে রয়েছে পাহাড়ের সমুদ্র। যেদিকে দু’চোখ যায়, শুধু পাহাড় আর পাহাড়। চারদিকে সবুজের সমারোহ। পাহাড়ের এই সমুদ্র যে কোন প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের মনকে হার মানাতে বাধ্য। স্বাভাবিক আবহাওয়ায় নীলাচল থেকে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর জাহাজগুলো এবং কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের দৃশ্য দেখা যায়। নীলাচল থেকে সূর্যাস্তের দৃশ্য দেখার মজায় আলাদা। রাতের আলোয় বান্দরবান শহরের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায় এখান থেকে।

x