শেষ মুহূর্তে সরগরম পশুর বাজার

আজ ‘অলআউট’ কেনাবেচার অপেক্ষায় ক্রেতা বিক্রেতারা

আজাদী প্রতিবেদন

রবিবার , ১১ আগস্ট, ২০১৯ at ৭:২৩ পূর্বাহ্ণ
123

কোরবানির ঈদ একেবারেই দোরগোড়ায়। পশু কেনার জন্য হাতে আছে আজকের (রোববার) দিনটাই। তাই ব্যস্ততা সবখানে। বেশি ব্যস্ততা কোরবানির পশু কেনায়। তাই নগরীর গরু ছাগলের বাজারগুলোও সরগরম ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদভারে। বাজারে মানুষের উপস্থিতি যেমন প্রচুর পশুও রয়েছে প্রচুর। দুইয়ে মিলে বাজারগুলো ক্রেতা বিক্রেতা ও পশুতে জমজমাট। বেচাকেনাও চলছে বেশ। বড় গরুর দাম অন্যান্য দিনের তুলনায় কম। বিক্রেতারা ছোট ও মাঝারি গরুর দাম তেমনটা না ছাড়লেও অন্যান্য দিনের তুলনায় এক্ষেত্রেও দাম কিছুটা কমে। এ অবস্থায় অনেক ক্রেতা বিক্রেতাই বসে আছেন ‘অলআউট’ ক্রয় বিক্রয়ের জন্য। অর্থাৎ, ক্রেতাদের অনেকে বসে আছেন আজ রোববার শেষদিনে অপেক্ষাকৃত কমদামে পশু ক্রয়ের জন্য। কারণ এদিন একটু উনিশ-বিশ হলেই বিক্রেতারা কমদামে গরু ছেড়ে দেবেন বলে তাদের আশা। আর বিক্রেতাদেরও অনেকে বসে আছেন শেষদিনে প্রচুর ক্রেতা বাজারে আসবেন। এসময় অপেক্ষাকৃত বেশি দাম হাঁকানো যাবে।
দুইয়ে মিলে কি পরিস্থিতি হয় সেটাই দেখা যাবে আজকের বাজারে। নগরীর গরু ও ছাগলের বাজারগুলোতে ঘুরে দেখা গেছে এ পরিস্থিতি। এদিকে গতকাল শনিবার সারাদিন থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে বাজারগুলোতে মানুষের উপস্থিতিতে কিছুটা ভাটার টান ছিল। তবে বৃষ্টি কমলে ক্রেতাদের পদভাবে প্রকম্পিত হয় গরুর বাজার।
এ বিষয়ে বিবিরহাট গরু বাজারের ইজাদার জাগির আহমেদ জানান, বাজারে প্রচুর ক্রেতা যেমন আছে তেমনি রয়েছে প্রচুর গরুও। বেচাকেনাও চলছে বেশ। আগামীকাল রোববার (আজ) কেনাবেচার মোক্ষম দিনের (শেষদিন) দিকেই তাকিয়ে অধিকাংশ ক্রেতা ও বিক্রেতা।
তিনি আরো জানান, এবারের বৃষ্টির কারণে শহুরে মানুষের কোরবানির গরু রাখতে অসুবিধার হতে পারে এ আশংকায় অনেকে গরু কিনবেন রোববার।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকার গরুর চাহিদা বেশি। তাই এসব গরুর দাম ধরে রেখে বেচাবিক্রি চলছে। তবে ৭০ হাজার টাকার উপরে গরুর দাম পড়ে গেছে শনিবারের বাজারে।
প্রসঙ্গত: নগরীতে স্থায়ী-অস্থায়ী মিলে ৯টি বাজারে পশু বেচাকেনা হচ্ছে এবার। প্রতিবারের মতো এবারও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) স্থায়ী বাজার সাগরিকা পশু বাজার ও বিবিরহাট পশুর বাজার এবং পোস্তারপাড়ে ছাগলের বাজার ছাড়াও ৬টি অস্থায়ী বাজার ইজারা দিয়েছে। ইতোমধ্যে অস্থায়ী বাজারগুলোতেও চলছে বেচাবিক্রি। এসব বাজারের মধ্যে রয়েছে কর্ণফুলী নুর নগর হাউজিং এস্টেট, কাটগড় গরুর বাজার, সল্টগোলা গরুর বাজার, স্টিল মিল গরুর বাজার, কমল মহাজন হাট গরুর বাজার ও এয়ারপোর্ট রোডের বাটারফ্লাই পার্ক সংলগ্ন টিকে গ্রুপের খালি মাঠের পশু বাজার।
এদিকে নগরীতে পশুর বাজারগুলোতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা থেকে এসেছে প্রচুর গরু। দেশিয় গরু হিসেবে এগুলোর চাহিদাও বেশি। তবে এর মধ্যে আরো এসেছে কুষ্টিয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা, নওগাঁ, যশোর, রাজশাহী ও সিরাজগঞ্জের গরু। এসব স্থান থেকে আসা গরু ব্যবসায়ীরা নগরীর বিভিন্ন হাটে গরু এনেছেন। দেশীয় গরু ছাড়াও বাজারে কিছু সংখ্যক ভারত, মিয়ানমার ও নেপালী গরু এসেছে।
নুর নগর গরু বাজার থেকে ছোট আকারের গরু ক্রেতা মোহাম্মদ জিয়াউল হাসান ও মোহাম্মদ হামিদ জানান, বাজারে প্রচুর গরু। দামও সহনীয় পর্যায়ে। ছোট আকারের গরু কিনেছি। দাম ৫০ হাজার টাকার মধ্যে।
শুধু গরু নয়, ছাগলের বাজারও ছিল ক্রেতায় সরগরম। ছাগল কিনতে আসা অনেককেই দেখা গেছে কোরবানে উপহার হিসেবে দেওয়ার জন্যই ছাগল কিনতে এসেছেন তারা। তবে ছাগলের দাম বেশিই হাঁকছেন বিক্রেতারা। আট কেজি ওজনের একটি ছাগলের দাম চাইছেন ১৫ হাজার টাকা! কয়েকজন পশু ব্যবসায়ী জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর পশুর সরবরাহ অনেক বেড়েছে। তবে এর মধ্যে দেশে উৎপাদিত গরু বেশি। বলা যায় গরুতে স্বয়ংসম্পুর্ণ দেশ। এর উপর বাইরে থেকে এসেছে অনেক গরু। সবমিলে সংকটের কোন কারন নেই বলে জানান, সংশ্লিষ্ট ইজাদাররা।
তাছাড়া গরুর বাজারের বাইরে নগরীর অলিতে গলিতে কয়েকজন মিলে ১০/১৫ টা করে গরু এনে পাড়ায় পাড়ায় বিক্রি করছে। এখান থেকেও অনেকে ইতোমধ্যে গরু কিনেছে।

x