শেখ হাসিনাকে আদালতে ডাকা হচ্ছে না কেন

নাইকো মামলার শুনানিতে খালেদা

শুক্রবার , ৯ নভেম্বর, ২০১৮ at ৬:২২ পূর্বাহ্ণ
12

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নাইকো দুর্নীতি মামলায় আদালতে হাজির করার দাবি তুলেছেন এ মামলার প্রধান আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। গতকাল বৃহস্পতিবার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বসানো নবম বিশেষ জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাসে এক দশক আগের এ মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানিতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা ওই দাবি তোলেন। বিচারক মাহমুদুল কবিরকে উদ্দেশ্য করে খালেদা বলেন, ‘এ মামলার ঘটনায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জড়িত ছিলেন। তিনি আসামিও ছিলেন। তাকে কেন আদালতে ডাকা হচ্ছে না?’ খবর বিডিনিউজের।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে রেখে এক মাস চিকিৎসা দেওয়ার পর খালেদা জিয়াকে বৃহস্পতিবার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরানো কেন্দ্রীয় কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। তার আগে বুধবার
এ মামলার কার্যক্রম বকশীবাজারে কারা অধিদপ্তরের প্যারেড মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী এজলাস থেকে কারাগারের ভেতরে বসানো অস্থায়ী এজলাসে স্থানান্তরের আদেশ দেয় সরকার। গতকাল বেলা পৌনে ১২টার দিকে খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে নাইকো দুর্নীতি মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি হয়। মামলার অন্যতম আসামি মওদুদ আহমদের অব্যাহতির আবেদনের আংশিক শুনানি শেষে বিচারক ১৪ নভেম্বর মামলার পরবর্তী তারিখ রেখে শুনানি মুলতবি করেন। ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনটি গ্যাসক্ষেত্র পরিত্যক্ত দেখিয়ে কানাডীয় কোম্পানি নাইকোর হাতে তুলে দিয়ে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার ক্ষতি করার অভিযোগে ২০০৭ সালে ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় এ মামলা দায়ের করে দুদক।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ছাড়া মামলার অপর আসামিরা হলেন- সাবেক মন্ত্রী মওদুদ আহমদ, সাবেক প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, সাবেক সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেঙের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেঙের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া এবং নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।
গতবছর এ মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরুর পর খালেদা জিয়া ও মওদুদ আহমদ ছাড়া বাকি সবার অব্যাহতির আবেদনের শুনানি আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করতে না পারায় এবং মওদুদের সময়ের আবেদনে এ শুনানি আটকে ছিল গত প্রায় এক বছর ধরে। গতকাল খালেদা জিয়াকে হাসপাতাল থেকে কারাগারে নিয়ে আসার পর হুইল চেয়ারে বসিয়ে তাকে আদালত কক্ষে হাজির করা হয়।
মওদুদ আহমদ এদিনও সময়ের আবেদন করে বলেন, তাকে শুনানির জন্য যথেষ্ট কাগজপত্র সরবরাহ করা হয়নি। এ বিষয়ে হাই কোর্টে তার একটি আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে। ‘এখনো সেটার শুনানি করতে পারিনি। আমার দোষে নয়। আমি কথা দিচ্ছি হাই কোর্ট যদি সেটা খারিজ করে তবে আপিল বিভাগে যাব না।’ এ সময় সময়ের আবেদনের বিরোধিতা করে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, মওদুদ বার বার সময়ের আবেদন করায় এ মামলা এগোচ্ছে না। আদালত সময়ের আবেদন নাকচ করে দিলে ব্যারিস্টার মওদুদ নিজেই নিজের অব্যাহতির আবেদনের শুনানি শুরু করেন।
শুনানির এ পর্যায়ে হুইল চেয়ারে বসা খালেদা জিয়া বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জড়িত ছিলেন। তাকে হাজির করা উচিৎ। তাকে হাজির করে তার ব্যাখ্যা নেন।’ এ কথার উত্তরে বিচারক মাহমুদুল কবির বলেন, ‘এ মামলায় তিনি আসামি নন। কাজেই তাকে হাজির করার প্রশ্ন আসে না।’ নাইকোকে কাজ দিয়ে রাষ্ট্রের ক্ষতি করার অভিযোগে খালেদার প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও একই দিনে আরেকটি মামলা করেছিল দুদক।
আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর ২০১০ সালের মার্চে হাই কোর্ট ওই মামলা বাতিল করে দেয়। রায়ে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সভানেত্রীকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যেই মামলাটি করা হয়েছিল। বিচারিক আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ‘বেআইনি কাজ’ করেছে উল্লেখ করে উচ্চ আদালত ওই রায়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের বিধিমালাও সংশোধন করতে বলেছিল।
শুনানির পরে বিচারক আগামী ১৪ নভেম্বর পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন।
হাসপাতাল থেকে কারাগারে খালেদা : গতকাল ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরানো কেন্দ্রীয় কারাগারে নবম বিশেষ জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাসে খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে নাইকো দুর্নীতি মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরুর আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নেওয়া হয়েছে সেখানে। বেলা পৌনে ১২টার দিকে খালেদাকে হাসপাতাল থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার পর হুইল চেয়ারে করে এজলাসে হাজির করা হয়।
বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এখন অনেকটাই স্থিতিশীল। তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
তিনি হাসপাতালে থাকা অবস্থায় ২৯ অক্টোবর কারাগারের ভেতরে বসানো জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাস থেকেই জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট মামলার রায় আসে, সেখানে তাকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরদিন হাই কোর্টে জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার আপিল রায়ে তার সাজা পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করা হয়।

x