শৃঙ্খলা আসুক যান চলাচলে

দুর্ঘটনা রোধে সচেতনতা প্রয়োজন চালক-যাত্রী-পথচারী সকলের

আয়শা আদৃতা

বৃহস্পতিবার , ৩১ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৮:০৭ পূর্বাহ্ণ
8

চলছে ট্রাফিক সপ্তাহ। যান চলাচলে শৃঙ্খলা আনা এ সপ্তাহের অন্যতম উদ্দেশ্য। বছরে বেশ কয়েকবার এ বিশেষ সপ্তাহটি পালনের মধ্য দিয়ে চালক-যাত্রীদের সচেতন করার চেষ্টা চালানো হয়। চট্টগ্রাম শহরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে যানজট এক ভয়াবহ ব্যাপার। বিশেষ করে স্কুল কিংবা শপিং মল কেন্দ্রীক যানজটে নাভিশ্বাস উঠে জনগণের। প্রতিদিন ব্যয় হয় হাজার হাজার কর্মঘণ্টা। অকারণে পুড়ে জ্বালানি। এসব বিষয় নিয়ে হাজার বার আলোচনা হলেও, নানা উদ্যোগ নেয়া হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা সাফল্যের মুখ দেখেনি। এসব বিষয় আলোচনায়য় উঠে এসেছে ট্রাফিক শৃঙ্খলা পক্ষ উপলক্ষে প্রচারিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে। গত সোমবার প্রচারিত অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (উত্তর) এর ডিসি ট্রাফিক হারুনুর রশিদ হাজারী, বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) তৌহিদুল হাসান এবং আলাদাভাবে সাক্ষাৎকার দেন নিরাপদ সড়ক চাই এর কর্মকর্তা এস এম আবু তৈয়ব। এজাজ ইউসুফির প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় আলোচনায় উঠে আসে, স্কুল ও শপিং মল কেন্দ্রীক যানজটের কথা, দিনের বেলায় ভারী যানবাহন চলাচলের কথা এবং এ বিষয়ে ট্রাফিক বিভাগের উদ্যোগ-ব্যর্থতার কথাও। হারুনুর রশিদ হাজারী যানজটের কারণ হিসেবে পর্যাপ্ত পার্কিংয়ের ব্যবস্থা না থাকা, রাস্তার উপর গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখা, ট্রাফিক শৃঙ্খলা রক্ষা না করাসহ বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করেন। বাওয়া স্কুলের নিজস্ব মাঠ থাকা সত্বেও তা পার্কিংয়ের জন্য ব্যবহান না করে মেলার জন্য বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতার বিষয়টিও উঠে আসে আলোচনায়। দিনের বেলায় ভারী যানবাহন চলাচলের ব্যাখা দিতে গিয়ে হারুনুর রশিদ হাজারী বন্দর-কাস্টমসে ৩৬৫ দিন কার্যক্রম চালুর কথা উল্লেখ করে তা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে বলে জানান। তৌহিদুল হাসান জানান, আগে ড্রাইভারদের লাইসেন্স নেওয়ার প্রবণতা কম ছিল, এখন তা বেড়েছে। এখন কেউ লাইসন্সে নিতে এলে কিংবা নবায়ন করতে এলে তাকে ৩দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় বলেও জানান। এস এম আবু তৈয়ব, এককভাবে শুধু চালকদের দোষারোপ না করে যাত্রী-পথচারীদেরও সচেতন হওয়ার আহবান জানান। উপস্থাপক একের পর এক চমৎকার, সময়োপযোগী প্রশ্নের মাধ্যমে ট্রাফিক শৃঙ্খলার ব্যাপারে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। তবে অনুষ্ঠানের মাঝখানে প্রামাণ্যচিত্রটি সঠিক অবস্থা বুঝতে যুৎসই ছিল না।
স্বাস্থ্য বিষয়ক অনুষ্ঠান স্বাস্থ্য তথ্য। এবারের বিষয় ছিল বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস উপলক্ষে আলোচনা। ২৯ জানুয়ারি ছিল বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস। এ উপলক্ষে প্রচারিত অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ডা. রফিকুল মওলা ও ডা, মিজানুর রহমান। উপস্থাপনায় ছিলেন ডা. মাসুদ রানা। আলোচক চিকিৎসকরা জানান, কুষ্ঠ একটি জীবাণুঘটিত রোগ। সঠিক চিকিৎসায় কুষ্ঠ রোগ সম্পূর্ণ ভালো হয়। দেশের সরকারি হাসপাতাল ও এনজিও দ্বারা পরিচালিত কুষ্ঠ ক্লিনিকে বিনামূল্যে এ রোগের চিকিৎসা প্রদান করা হয়। এই রোগ সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। যদিও এই রোগের টিকা এখনো আবিষ্কৃত হয়নি।
দি লেপ্রোসী মিশন ইন্টারন্যাশনাল-বাংলাদেশের তথ্যমতে- দেশে ৩৫ হাজার মানুষ বর্তমানে কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত। সরকার দেশে বিনামূল্যে কুষ্ঠ রোগীদের ওষুধ ও চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। তবে এখনো গ্রামাঞ্চলে অজ্ঞতা ও কুসংস্কারের কারণে অনেকেই আক্রান্ত হওয়ার পরও চিকিৎসা কেন্দ্রে যান না। আলোচকদ্বয়, এ জন্য সচেতনতা বৃদ্ধির উপর গুরুত্বারোপ করেন।
সমকালীন বিষয় নিয়ে প্রচারিত হয় আলোচনা অনুষ্ঠান প্রসঙ্গ। একেএম বেলায়েত হোসেনের উপস্থাপনায় বাঙালির শ্বাশত বিজয় শীর্ষক আলোচনা পর্বে অংশ নেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী ও প্রফেসর জাকির হোসেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের নেপথ্যের কারণ, প্রধানমন্ত্রীর বিদায়ী ভাষণ, ভুলকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য যে আহবান জানিয়েছেন সেসব বিষয় আলোচনায় উঠে আসে।

- Advertistment -