শূন্য নিঃসরণ পরিকল্পনা জমা দিতে অনেক কারখানার গড়িমসি পরিবেশ অধিদপ্তর ব্যবস্থা নিক

মঙ্গলবার , ৯ অক্টোবর, ২০১৮ at ৭:১০ পূর্বাহ্ণ
38

পানির টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে কারখানা থেকে নিঃসৃত তরল বর্জ্যের পরিমাণ শূন্যে নামিয়ে আনতে বলেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। এজন্য চট্টগ্রামের ১১০টি প্রতিষ্ঠানকে শূন্য নিঃসরণ পরিকল্পনা জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে অধিদপ্তর। তবে নির্ধারিত সময়ের পর সাত মাস পেরিয়ে গেলেও নিজস্ব পরিকল্পনা হাজির করেনি এক-তৃতীয়াংশ প্রতিষ্ঠান। এ বিষয়ে একাধিকবার চিঠি দিয়েও কাজ না হওয়ায় কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে পরিবেশ অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্টরা জানান, শিল্প প্রতিষ্ঠানে উৎপাদনের কাজে ব্যবহৃত প্রচুর পরিমাণ পানি তরল বর্জ্য হিসেবে বাইরে ফেলা হয়। পরিবেশের ক্ষতি এড়াতে কারখানা থেকে নিঃসরনের আগে এসব বর্জ্য পরিশোধনে ইটিপি চালু রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বর্জ্য পরিশোধন হলে ওই পানি পুনর্বার কারখানায় ব্যবহার করা সম্ভব। এতে প্রতিষ্ঠানের পানির চাহিদাও কমানো সম্ভব। এজন্য ইটিপি চালু রাখা শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে শুন্য নিঃসরণ নিশ্চিত করতে নিজস্ব পরিকল্পনা জমা দিতে বলেছিল পরিবেশ অধিদপ্তর। পত্রিকান্তরে ৬ অক্টোবর এ খবর প্রকাশিত হয়।
শিল্প-কারখানার বর্জ্য দেশে পরিবেশ দূষণে যে ভূমিকা রাখে এই তথ্য সকলের কম-বেশি জানা। এজন্য দেশে পরিবেশের ক্ষতি এড়াতে কারখানার বর্জ্য পরিশোধনে ইটিপি (ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট) বাধ্যতামূলক করে আইন করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানই ইটিপি বাস্তবায়ন করলেও এখনও পানির সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়নি। উৎপাদনের কাজে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে প্রচুর পরিমাণ পানির প্রয়োজন হয় এবং ওই পানির বিপুল অংশ তরল বর্জ্য হিসেবে বাইরে ফেলা হয়। ইটিপির মাধ্যমে যথাযথভাবে বর্জ্য পরিশোধিত হলে ওই পানি আবার ব্যবহার করা যেত। কিন্তু তা না করায় প্রতিষ্ঠানে পানির চাহিদা কমে আসছে না অপচয়ও বোধ করা যাচ্ছে না। বস্তুত পানির চাহিদা হ্রাস ও অপচয় রোধ করার কথা বিবেচনা করে পরিবেশ অধিদপ্তর পানির টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ইটিপি চালু রাখা কারখানা থেকে নিঃসৃত তরল বর্জ্যের পরিমাণ শূন্যে নিয়ে আসার কথা বলেছে। এজন্য চট্টগ্রামের ১১০টি প্রতিষ্ঠানকে শূন্য নিঃসরণ পরিকল্পনা জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। এক্ষেত্রে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয় চলতি বছরে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হলো, নির্ধারিত সময়ের ৭ মাস অতিক্রান্ত হলেও এখনও এক তৃতীয়াংশ কারখানা নিজস্ব পরিকল্পনা জমা দেয়নি। পরিবেশ অধিদপ্তর এরই মধ্যে একাধিক চিঠি দিয়েছে কিন্তু কারখানা কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কোন গা করেনি। স্বভাবত ব্যবস্থা গ্রহণে আর শিথিলতা দেখানো উচিত হবে না। আমরা চাই নির্দেশ অমান্যকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ত্বরিত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
দেখা যায়, শিল্প কারখানাগুলোর অবস্থান চট্টগ্রাম, গাজীপুর ঢাকায় বেশি। কাজেই পানির টেকসই ব্যবস্থাপনা চট্টগ্রামের সঙ্গে সঙ্গে গাজীপুর ও ঢাকার কারখানাগুলোর ক্ষেত্রেও দরকার। শূন্য নিঃসরণ পরিকল্পনা জমা এবং তা অনুমোদন পূর্বক বাস্তবায়নে পরিবেশ অধিদপ্তরের যে নির্দেশনা বিদ্যমান সেটি ঢাকা ও গাজীপুরের কারখানাগুলোতেও একইভাবে বলবৎ করা প্রয়োজন। পরিবেশ অধিদপ্তরের এক্ষেত্রে ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় উদ্যেগ নেওয়া বিশেষ প্রয়োজন। আবার অনেক কারখানাই এখনও ইটিপি চালু করেনি। যে সব প্রতিষ্ঠান ইটিপি চালু করেনি বা করতে গড়িমসি করছে তাদের ক্ষেত্রে অধিদপ্তরের তদারকি চালিয়ে যেতে হবে। দরকার হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বন্ধের মতো কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
অভিযোগ পাওয়া যায় ইটিপি থাকা সত্ত্বেও কিছু প্রতিষ্ঠান তা যথাযথভাবে চালু করে না। অনেক প্রতিষ্ঠানের ইটিপি জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছে। এ ধরনের প্রবণতা বন্ধ করতে পরিবেশ অধিদপ্তরের নজরদারি বাড়ানো দরকার, পাশাপাশি নিয়মিত বিরতিতে কারখানাগুলো পরিদর্শন করাও প্রয়োজন। এতে পরিবেশ দূষণ অনেকটাই কমে আসবে বলে আমাদের বিশ্বাস। তবে এটাও ঠিক যে, উৎপাদনের জন্য যে পানি শিল্প প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত হয়, সেটা ইটিপি থাকার পরও সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ হয় না। ইটিপি থাকার পরও যে বর্জ্য বাইরে ফেলা হয়, তা আবার ট্রিটমেন্ট ও ফিল্টারিংয়ের মাধ্যমে ব্যবহার করাই শূন্য নিঃসরণ পরিকল্পনা। পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এ পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ। পানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর যে শূন্য নিঃসরণ পরিকল্পনা জমা দেয়ার নির্দেশনা কারখানাগুলোকে দিয়েছে, এটি সঠিক পদক্ষেপ। এটা যথাযথভাবে পরিপালন হওয়া দরকার। অনুমোদিত শূন্য নিঃসরণ পরিকল্পনা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে শিল্পখাতে পানির বাড়তি চাহিদা একদিকে কমানো সম্ভব হবে অন্যদিকে তরল বর্জ্য নিঃসৃত পরিবেশ দূষণ উল্লেখযোগ্য মাত্রায় হ্রাস করা সহজতর হবে। কাজেই এখনো যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠান আলোচ্য পরিকল্পনা জমা দিতে গড়িমসি করছে তাদের বিরুদ্ধে জরুরিভিত্তিক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া অপরিহার্য।

x