শুরুতেই জমজমাট রিহ্যাব ফেয়ার

আজাদী প্রতিবেদন

শুক্রবার , ১৫ মার্চ, ২০১৯ at ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ
40

রিহ্যাব চট্টগ্রাম ফেয়ার গতকাল থেকে শুরু হয়েছে। মেলায় ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানসহ অংশ নিচ্ছে বিল্ডিং মেটেরিয়ালের প্রতিষ্ঠান। উদ্বোধনী দিনে জমে উঠেছে এই ফেয়ার।
এপিক : রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার এ সময়ে ভিন্নমাত্রা নিয়ে এবারের রিহ্যাব ফেয়ার শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম-ঢাকার ২২টি প্রাইম লোকেশনে দুই শতাধিক এপার্টমেন্ট নিয়ে চট্টগ্রাম আবাসন মেলায় এপিক প্রপার্টিজ এবার এসেছে অনন্য পরিম-ল নিয়ে। আবাসন মেলা উদ্বোধনের পর ফ্ল্যাট ক্রেতাদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে এপিক প্রপার্টিজ। আবাসন মেলায় এপিক প্রপার্টিজের স্টল নম্বর- ০৯ এবং মেলার কো-স্পন্সর। এ বিষয়ে এপিক প্রপার্টিজের জেনারেল ম্যানেজার (সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং) প্রকৌশলী মাসুদুল হাসান জানান, এপিক প্রপার্টিজ নগরীতে আবাসন খাতে একটি জনপ্রিয় এবং বিশ্বস্তা ব্র্যান্ড। গত ১৬ বছরে বন্দরনগরী চট্টগ্রামেই এই প্রতিষ্ঠান ৪০টির বেশি এপার্টমেন্ট ও বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ ও সফলভাবে হস্তানত্মর করেছে। এর মধ্যে হস্তানত্মরকৃত এপার্টমেন্টের সংখ্যা প্রায় হাজারেরও অধিক। নগরীর যেসব এলাকায় এপিকের নির্মাণাধীন আবাসন প্রকল্প রয়েছে সেগুলো হলো, সাউথ খুলশী (ইস্পাহানী হিলস), নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটি, চট্টেশ্বরী রোড, কাতালগঞ্জ, চন্দনপুরা, লালখান বাজার, চকবাজার, চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা, কালামিয়া বাজার, ফিরিঙ্গি বাজার। সব ধরনের ক্রেতাদের সামর্থ ও পছন্দকে গুরুত্ব দিয়েই এপিক ফ্ল্যাট নির্মাণ করে থাকে বলে তিনি জানান। আবাসন মেলা থেকে যে কোনো এলাকার এপিক প্রপার্টিজের এপার্টমেন্ট বা কমার্শিয়াল স্পেস বুকিং দিলে ক্রেতাদের বিভিন্ন সুবিধা দেয়া হচ্ছে। রয়েছে শিশুদের জন্য বিশেষ উপহারও। সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য রয়েছে রয়েছে একটি হটলাইন নম্বর- ০১৯৩৯৬৬৬২২২। এই নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে ২৪ ঘন্টা।
সিপিডিএল : বড় প্রকল্পে মনোযোগী সিপিডিএল প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট ফিরিঙ্গিবাজার এলাকায় সিপিডিএল ডাউনটাউন নামে ১৫০ ফ্ল্যাটের একটি প্রকল্প চালু করেছে। এবার দেবপাহাড় এলাকায় আরো একটি প্রকল্প নিচ্ছে এই ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানটি। ৭৫ কাঠা জায়গায় চার টাওয়ারে ২শটি ফ্ল্যাট গড়ে তোলার প্রকল্প নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ‘সিপিডিএল সুলতানা গার্ডেনিয়া’ নামের বৃহৎ এই প্রকল্পের কাজ শুরু হচ্ছে শিগগিরই। সিপিডিএল এর সিনিয়র প্রপার্টি কনসালটেন্ট মোহাম্মদ রিয়াসুল ইসলাম জানান, চট্টগ্রামের মানুষের চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়ে আমরা আবাসনের ব্যবস্থা করছি। মানুষের আস্থাই আমাদের পথচলা।
বে-টেক প্রপার্টিজ : বে-টেক প্রপার্টিজ লিমিটেডও ক্রেতাদের পছন্দের কথা বিবেচনায় নিয়ে আবাসনের ব্যবস্থা করে যাচ্ছে চট্টগ্রামের মানুষের জন্য। নগরীর প্রাইম লোকেশন বাদশা মিয়া চৌধুরী রোড, নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটি ও ইস্ট গোসাইডাঙ্গায় কর্মাশিয়াল স্পেস সমৃদ্ধ স্থাপনাসহ আবাসন নিশ্চিতের জন্য কাজ করছে। নতুন উদ্যোমে মানুষের আবাসন গড়ে দেয়ার মাধ্যমে আস্থা অর্জনে অনেকদূর এগিয়ে যাওয়া এ প্রতিষ্ঠানের এমডি ডা. গোলাম মর্তুজা হারুন বলেন, মানুষের মৌলিক চাহিদা আবাসনের সমস্যা সমাধান আমরা কাজ করছি। আমাদের কোম্পানি ইতোমধ্যে মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
সাফ হোল্ডিং : সাফ হোল্ডিং লিমিটেড চট্টগ্রামে আবাসন খাতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। নগরবাসীর আবাসন সমস্যা সমাধানে অন্যান্য আবাসন কোম্পানির মতো সাফ হোল্ডিংও নগরীতে বিশাল বিশাল এপার্টমেন্ট গড়ে তোলেছে। ফ্ল্যাট হস্তানত্মরের ধারাবাহিকতা রক্ষার মাধ্যমে এ কোম্পানি বর্তমানে ক্রমবর্ধমান একটি আবাসন প্রতিষ্ঠান। এ বিষয়ে কোম্পানির জিএম মাসুদ আলম জানান, আমরা কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করেছি। নগরীতে বর্তমানে আমাদের ৬টি প্রকল্প চলমান আছে।
ফিনলে প্রপার্টিজ : ফিনলে প্রপার্টিজ নগরীতে উচ্চ ও মধ্যবিত্তের আবাসন নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছে। আবাসিক ও কমার্শিয়াল মিলে কয়েকটি মেগাপ্রকল্প বাস্তাবায়ন করছে নগরীতে। পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এলাকায় এয়াকুব ফিউচার পার্কে ৩১ কাঠা জায়গায় গড়ে তুলছে ১শ ফ্ল্যাট নির্মাণের একটি প্রকল্প। এছাড়া বহদ্দারহাটে ‘ফিনলে সাউথ সিটি’ নামে ৮০টি ফ্ল্যাট ও ৩শ দোকানের আরো একটি প্রকল্প করছে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া পাচঁলাইশ, কাতালগঞ্জ ও দড়্গিণ খুলশীসহ আরো কয়েকটি স্থানে প্রকল্প চলমান আছে। এ বিষয়ে ফিনলের প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ আবির চৌধুরী জানান, সময়মতো ফ্ল্যাট হস্তানত্মর ও মানসম্মত নির্মাণ শৈলীর মাধ্যমে আমরা ইতোমধ্যে নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছি।
এয়ারবেল : এয়ারবেল প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট নগরীতে দীর্ঘদিন ধরে আবাসন ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত। ছোটবড় অনেক প্রকল্প বাস্তাবায়নের মাধ্যমে এয়ারবেল আবাসন খাতে এখন স্বনাম খ্যাত একটি প্রতিষ্ঠান। কাতালগঞ্জ এলাকায় ৩৭ কাঠা জায়গায় গড়ে তুলছে এয়ারবেল স্বপ্নছায়া নামের একটি প্রকল্প। এটিতে ১৪০টি ফ্ল্যাট থাকছে। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের এমডি আবদুল কৈয়ুম চৌধুরী জানান, এয়ারবেল তার অভীষ্ট লক্ষয মানুষের আবাসন সমাধানের দিকে এগিয়ে চলেছে সুনামের সাথে।
স্যানমার : নগরীর অন্যতম ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান স্যানমার প্রপার্টিজ। মানসম্মত আবাসনে এ প্রতিষ্ঠানের নাম প্রথমসারিতে থাকে। বায়েজিদ আরেফিন নগর এলাকায় নিয়েছে ‘স্যানমার গ্রিনপার্ক’ নামের এক মেগা প্রকল্প। ২৬ তলার ভবনের তিন টাওয়ারে রয়েছে ৪৫২টি ফ্ল্যাট। সর্বনিম্ন ১০৪০ বর্গফুট থেকে সর্বোচ্চ ২০৫৫ বর্গফুট আয়তনের সাত ধরনের ফ্ল্যাট রয়েছে প্রকল্পটিতে। এক প্রকল্পে এতো ফ্ল্যাটের সমাহার নগরীর অন্য কোনো প্রকল্পে আগে হয়নি। এই প্রকল্পের পাশাপাশি জাকির হোসেন রোডে ডায়াবেটিস হাসপাতালের বিপরীত পার্শ্বে ৪৬৪ কাঠায় নেয়া হচ্ছে ‘স্যানমার ওয়ান’ নামে আরো একটি মেগা প্রকল্প।
ইকুইটি : ইকুইটি প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড মির্জারপুল এলাকায় ২০০২ সালে নির্মাণ করে ‘ইকুইটি ভিলেজ’। ১০৮টি ফ্ল্যাট ও কমিউনিটি বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা নিয়ে চালু হওয়া ইকুইটি ভিলেজের পর মেগা প্রকল্পের দেখা পায়নি নগরবাসী। তবে বর্তমানে সেই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে যুগের চাহিদার আলোকে।
ইকুইটি প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী আইনুল হক বলেন, ইকুইটি যখন ইকুইটি ভিলেজ প্রকল্প নেয় তখন আবাসন শিল্পে এক ধরনের জোয়ার ছিল। এখন মানুষ ফ্ল্যাট কিনতে চায়, কিন্তু সাথে সেটাও চায় যার কাছ থেকে কিনবে সেই প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বস্তা ও স্বনামধন্য হোক। আমরা সেই আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করার মাধ্যমে ব্যবসা করে যাচ্ছি।
র‌্যাংকস : র‌্যাংকস এফসি ২০১০ সাল থেকে চট্টগ্রামে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি নগরীতে আবাসিক ও কমার্শিয়াল স্পেস নির্মাণের মাধ্যমে উভয়ড়্গেত্রে পারঙ্গমতা দেখিয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি সিইও তানভীর শাহরিয়ার রিমন জানান, চট্টগ্রাম অপার সম্ভাবনার দ্বারে পরিণত হচ্ছে। এখানে যে বিশাল কর্মযজ্ঞ তাতে আবাসন ব্যবসায় সুদিন আসছে। বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা প্রস্তুত। মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের সাথে আমরা ব্যবসা করে যাচ্ছি।
জুমাইরা হোল্ডিং : জুমাইরা হোল্ডিং এবারের মেলায় ১০টি প্রকল্প ক্রেতাদের সামনে উপস্থাপন করেছে। নগরীর অভিজাত এলাকায় বাস্তাবায়নাধীন এসব প্রকল্প নিয়ে ক্রেতাদের আগ্রহও রয়েছে বেশ। এছাড়া নগরীর ওআর নিজাম এলাকাসহ বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় প্রকল্প বাস্তাবায়ন করে ইতোমধ্যেই নগরবাসীর আস্থায় এসেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ বিষয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শাহাজাহান বলেন, মধ্যবিত্ত ও অভিজাত শ্রেণীর মানুষের আবাসন সমস্যা সমাধানে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি
ইপিবিসি : ফ্ল্যাটে ব্যবহার্য সামগ্রীর প্রতিষ্ঠান স্যাম ইপিবিসিও তাদের সামগ্রী নিয়ে মেলায় এসেছে। র‌্যাংকস এফসির সহযোগী এ প্রতিষ্ঠানের স্টলেও মানুষ যাচ্ছেন বাসা বাড়ি ও ফ্ল্যাট সজ্জিতকরণে ব্যবহার্য জিনিসপত্র কিনতে।
কনকর্ড : কনকর্ড আবাসন ও ট্যুরিজম ব্যবসায় স্বনামে খ্যাত। শুধু চট্টগ্রামে নয় ঢাকাসহ সারাদেশে রয়েছে তার সুনাম। নগরীতে ফ্ল্যাট নির্মাণের পাশাপশি বড় বড় কমার্শিয়াল স্থাপনা নির্মাণেও সমান পারঙ্গমতা দেখিয়েছে এ প্রতিষ্ঠানটি।
অভিজাত ও মানসম্মত ফ্ল্যাট নির্মাণে এখন অন্যতম আস্থার ঠিকানা কনকর্ড।
এ বিষয়ে সিনিয়র ম্যানেজার মোহাম্মদ ফয়সাল ইসলাম জানান, মেলায় আমাদের প্রকল্পগুলো নিয়ে এসেছি। মানুষের আস্থায় কনকর্ড বেড়ে উঠেছে। এ আস্থা নিয়েই আমরা পথ চলবো।
ইউএস বাংলা এসেট, এসএস ডেভেলপার অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন ও রূপায়ন হাউজিং এসটেট লিমিটেডও মেলায় নিজেদের প্রকল্প নিয়ে এসেছে। ক্রেতা আকর্ষণের জন্য রয়েছে তাদের আলাদা ছাড়ও। এ বিষয়ে ইউএস বাংলা এসেটের ম্যানেজার এমআই মুঈন জানান, মানুষের মৌলিক চাহিদা আবাসনের কথা বিবেচনা করে আমরা এগিয়ে চলেছি। বেশ সাড়া পেয়েছি মানুষের। এ মেলাও ব্যাপক সাড়া পাব বলে আশা করছি।
এসএস ডেভেলাপ এন্ড কনস্ট্রাক্টশনের ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ শফিকুল আলম বলেন, মেলায় ক্রেতাদের সামনে নিজেদেরকে মেলে ধরার সুযোগ হয়েছে। ক্রেতারা পরখ করে নিতে পারবে। রূপায়নের নির্বাহী রাশেদ মিয়া চৌধুরী জানান, ঢাকা ও চট্টগ্রামে বড়বড় প্রকল্প বাস্তাবায়নের মাধ্যমে রূপায়ন হাউজিং এখন আলোচনায়। আবাসনের পাশাপাশি কমার্শিয়াল স্থাপনা নির্মাণেও পারঙ্গম এ হাউজিং কোম্পানি।
এএনজেড ও কোরাল রীফও আবাসন ব্যবসায় বেশ পরিচিত নাম। এএনজেড চট্টগ্রাম ও ঢাকায় সমানতালে আবাসিক ফ্ল্যাট ও কমার্শিয়াল স্পেশ নির্মাণের মাধ্যমে প্রথম সারির একটি আবাসন কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। আর কোরাল রীফ চট্টগ্রাম ও কঙবাজারে সমানভাবে মনোযোগী এড়্গেত্রে। এ বিষয়ে এনএনজেড চট্টগ্রামের সহকারী ম্যানেজার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, নগরীর চমেক হাসপাতাল এলাকা, নাসিরাবাদ, পাঁচলাইশসহ বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় আবাসিক ফ্ল্যাট ও কমার্শিয়াল স্থাপনা গড়ে তোলার মাধ্যমে আবাসন সমস্যা সমাধানে কাজ করছি আমরা। এবারের মেলায় ভাল সাড়া পাব বলে আশা রাখি।
কেএসআরএম রড উৎপাদনে দেশে অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান কেএসআরএমও মেলায় এসেছে। দোহাজারী কক্সবাজার রেললাইন, কর্ণফুলী টানেল, পদ্মা বহুমুখী সেতুসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তাবায়নে এ কোম্পানি রড ব্যবহার করা হচ্ছে বলে মেলায় উপস্থাপন করা বুকলেট থেকে জানা গেছে। এ বিষয়ে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানান, মানের বিষয়ে আমরা আপোষহীন। এ কারণে কেএসআরএম এর সুনাম দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশেও পৌঁছেছে।

x