শিষ্যদের এমন জয়ে দারুন গর্বিত টাইগার কোচ

ক্রীড়া প্রতিবেদক 

শুক্রবার , ১০ আগস্ট, ২০১৮ at ৮:০৪ পূর্বাহ্ণ
8

বাংলাদেশের কোচ হিসেবে তার প্রথম এসাইনম্যান্ট। কিন্তু শুরুটা বড়ই লজ্জাজনক। টেস্ট ক্রিকেটে সর্বনিন্ম রানের লজ্জা। এরপর বড় ব্যবধানে হেরে হোয়াইট ওয়াশ। দুই টেস্ট মিলিয়ে খেলতে দল পারেনি পাঁচ দিনও। প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্বের শুরুটা বুঝি এর চেয়ে বাজে আর হতে পারত না। কিন্তু সাদা পোশাকের ব্যর্থতা পেছনে ফেলে যেভাবে রঙিন পোশাকের দুটি সিরিজকে রাঙিয়েছি টাইগাররা তা সত্যিই বিস্ময়কর। ওয়ানডে এবং টিটোয়েন্টি সিরিজে যেভাবে জিতেছে বাংলাদেশ, তাতে দল নিয়ে গর্বিত প্রধান কোচ স্টিভ রোডস। টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশড হওয়ার পর ওয়ানডে ও টিটোয়েন্টি সিরিজ জিতে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ দল। কোচ হিসেবে প্রথম অভিযানে দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে খুশি নতুন কোচ স্টিভ রোডস।

গতকাল দলের সাথে ঢাকা ফিরে জানালেন নিজের অনুভুতির কথা। তিনি বলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজটি কঠিন ছিল। বেশ ভুগতে হয়েছে আমাদের। তবে ছেলেরা যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তাতে আমি সন্তুষ্ট। ওয়ানডে সিরিজ জিতব বলে আমাদের আশা ছিল আগেই। সেটি পূরণ করতে পারা ছিল দারুণ এক অনুভুতি। তবে টিটোয়েন্টি সিরিজটি এসেছে বিস্ময় হয়ে। শেষ দুটি ম্যাচে আমরা সত্যিই ভালো খেলেছি। দুটি ট্রফি জিততে পেরে আমি উচ্ছ্বসিত। টাইগারদের কোচ আলাদা করে বললেন শেষ টিটোয়েন্টিতে ৩২ বলে ৬১ রান করা লিটন দাসের কথা। লিটনকে নিয়ে আমি খুবই সন্তুষ্ট। শেষ ম্যাচে দুর্দান্ত খেলেছে লিটন। ওয়ানডে ও টিটোয়েন্টি সিরিজ জয়ে মূল কৃতিত্ব কোচ দিলেন দুই অধিনায়ক ও তার বোলারদের।

গতকাল ঢাকায় নেমে স্টিভ রোডস বললেণ ওয়ানডে ও টিটোয়েন্টিতে দুই অধিনায়কই বোলারদের সামলেছে দারুণভাবে। ভাল কিছু স্পিনার আছে আমাদের দলে । আর সত্যি বলতে, পেসাররাও ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে বেশি কার্যকর ছিল। আমি খুবই খুশি। এখন টেস্ট ম্যাচের জন্য কিছু দ্রুতগতির ও লম্বা পেসার খুঁজে বের করতে হবে আমাদের। যাতে তারা ভবিষ্যতে দলকে টেনে নিয়ে যেতে পারে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শেষ দুটি সিরিজ জিতলেও টেস্ট সিরিজের ব্যর্থতা অবশ্য ভাবনায় আছে রোডসের। প্রথম টেস্টে বাজে ব্যাটিংয়ের খানিকটা দায় দিলেন টসে হারকেও। সব মিলিয়ে টেস্টে ব্যাটসমানদের আরও দায়িত্বশীল দেখতে চান কোচ।

তিনি বলেণ প্রথম টেস্টে টস খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। উইকেট সিমিং ছিল, বাউন্স ও সুইং ছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসাররা সে সুযোগটাকে বেশ ভালভাবেই কাজে লাগিয়েছে। বিশেষ করে কেমার রোচ, গ্যাব্রিয়েল ও কামিন্সকে নিয়ে গড়া বোলিং আক্রমণ ডিউক বলকে খুব ভালোভাবে কাজে লাগিয়েছে। অ্যান্টিগায় বেশিরভাগ দলের ব্যাটিংই ধুঁকত এমন বোরিং এর সামনে পড়লে।

তিনি বলেন টেস্ট ম্যাচে আমাদের ব্যাটিং দৈন্যতা বেশ ফুটে উঠেছে। টেস্ট ম্যাচের ব্যাটিংয়ে উন্নতি করতে আমাদের একটু আঁটসাঁট হতে হবে। তবে আমাদের দারুণ সব ক্রিকেটার আছে। দেশের বাইরে স্রেফ কন্ডিশন ও প্রতিপক্ষের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে হবে।

তেমনি সাফল্য আসবে। তিনি বলেণ নিজেদের মাঠে জেতা আর বিদেশের মাটিতে জেতার মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। তিনি বলেন আমাদের ছেলেরা সে কাজটা বেশ দায়িত্বশীলতার সাথে করেছে। বিশেষ করে ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচটা জিতে সিরিজ নিশ্চিত করাটা নছিল কঠিন একটি কাজ। অপরদিকে টিটোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচটি জিতে আরো একটি সিরিজ জেতা ছিল সত্যিই অবিস্মরণীয় একটি কাজ। কারন ওয়েস্ট ইন্ডিজ টিটোয়েন্টি ক্রিকেটের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। কাজেই এই দলটিকে হারানো কতটা কঠিন সেটা বোধ হয় বলার্‌ অপেক্ষা রাখেনা।

x