শিশু শিক্ষার্থীর বস্তাবন্দী লাশ নিয়ে পালাচ্ছিলেন প্রাইভেট শিক্ষক

ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে গলায় সুতলি পেঁচিয়ে হত্যা

কাপ্তাই প্রতিনিধি

সোমবার , ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ৭:৩৮ পূর্বাহ্ণ
224

৯ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের সময় চিৎকার করায় গলায় সুতলি পেঁচিয়ে, কাপড়ের ব্যাগের রশি দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে প্রাইভেট শিক্ষক। খুনের অপরাধে প্রাইভেট শিক্ষক অংবাচিং মারমাকে পুলিশ আটক করেছে। আটক অংবাচিং বর্তমানে চন্দ্রঘোনা থানা হেফাজতে আছে। কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। আটক অংবাচিংকে আজ রাঙ্গামাটি কোর্টে চালান দেওয়া হবে বলে চন্দ্রঘোনা থানার ওসি মো. আশরাফ উদ্দিন জানান।
চন্দ্রঘোনা থানা সূত্রে জানা গেছে, কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী ইউনিয়নের পূর্ব কোদালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণীর ছাত্রী মিতালী মারমা (৯) একই এলাকার অংবাচিং মারমা প্রকাশ আবাসু ওরফে বামং (৪৫) এর কাছে নিয়মিত প্রাইভেট পড়তো। গত ২ ফেব্রুয়ারি মিতালী মারমা আরো ৪ শিশু শিক্ষার্থীর সাথে ঐ শিক্ষকের কাছে সকাল ৭টার সময় প্রাইভেট পড়তে যায়। অন্যান্য দিনের মত সকাল ১০টায় পড়া শেষে সেখান থেকে শিশুরা স্কুলে যায় এবং বিকাল ৪টার মধ্যে বাড়ি ফিরে আসে। নির্দিষ্ট সময়ে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফিরে আসলেও মিতালী বাড়ি না আসায় মিতালীর বাবা সাথুই অং মারমা এবং মা মাথুইচিং মারমা প্রথমে প্রাইভেট শিক্ষকের বড়ি গিয়ে তার সন্তানের খোঁজ নেয়। এসময় প্রাইভেট শিক্ষক অংবাচিং মারমা জানায় মিতালী পড়া লেখায় একটু দুর্বল ছিল। তাই তাকে ৩০ মিনিট বেশি সময় প্রাইভেট পড়ানো হয়। এরপর সে কোথায় গেছে আমি জানি না। তবে শিক্ষকের এমন বক্তব্যে মিতালির স্বজনরা সন্দেহ প্রকাশ করেন। তারা গোপনে শিক্ষকের গতিবিধির উপর নজর রাখছিলেন। পাশাপাশি বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সায়া মং মারমাকেও অবহিত করেন। গতকাল (৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৪টার সময় ঐ শিক্ষক বস্তায় ভরে শিশু মিতালীর লাশ নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় মিতালীর আত্মীয় স্বজন শিক্ষক অংবাচিং মারমাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সায়ামং মারমাকে খবর দেয়। চেয়ারম্যান দ্রুত ঘটনাস্থলে আসেন এবং খবর পেয়ে চন্দ্রঘোনা থানার পুলিশও উপস্থিত হন। পরে বস্তা খুলে দেখা গেছে শিশু মিতালীর লাশ।
এ ব্যপারে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শিক্ষক অংবাচিং মারমা জানায়, অতিরিক্ত পড়ানোর কথা বলে মিতালীকে তার ঘরে রেখে দেয়। এক পর্যায়ে শিশুটিকে সে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এসময় মিতালী জোরে চিৎকার দিলে শিক্ষক তার গলায় সুতলি পেঁচিয়ে এবং কাপড়ের ব্যাগের রশি দিয়ে শিশুটিকে হত্যা করে। হত্যার পর মিতালীর লাশ বস্তায় ভরে তার ঘরে চালের উপর রেখে দেয়। মিতালীর আত্মীয় স্বজন যখন তার খোঁজে শিক্ষকের বাড়ি গিয়েছিল তখনো তার ঘরের চালের উপর ছিল মিতালীর লাশ। ঐ লাশের নিচে দাঁড়িয়ে মিতালীর মা বাবা এবং আত্মীয় স্বজন বারবার মিতালীর খোঁজ নিতে থাকেন। কিন্তু তখন শিক্ষকের একই বক্তব্য ছিল তার কাছে পড়া শেষ করে মিতালী চলে যায়। সে কোথায় গেছে তিনি তা জানেন না। এদিকে লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে শতশত মানুষ মিতালীদের বাড়ি যায়। এসময় মিতালীর বাড়ি জুড়ে ছিল কান্নার রোল।
চন্দ্রঘোনা থানার এসআই মোহাম্মদ ইস্রাফিল লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেন। এ ব্যপারে থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে ওসি আশরাফ উদ্দিন জানান। এদিকে যে শিশুদের সাথে মিতালী প্রাইভেট পড়তে গিয়েছিল তারা এখন প্রচণ্ড ভয়ের মধ্যে রয়েছে বলে জানা গেছে। পূর্ব কোদালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান প্রাইভেট পড়ানোর নামে অংবাচিং মারমা একটি অবুঝ শিশুর সাথে পশুর মত কাজ করেছেন। দ্রুত বিচারের মাধ্যমে ঐ ব্যক্তিকে ফাঁসিতে ঝোলানোর জন্য সবাই দাবি করেন। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করবেন বলেও জানা গেছে।

x