শিশুসাহিত্য যেন শিশুর আনন্দসঙ্গী হয়ে ওঠে

ছোটোদের বইমেলা ও শিশুসাহিত্য উৎসবের সমাপনী দিনে বক্তাদের অভিমত

সোমবার , ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ৫:২৭ পূর্বাহ্ণ
29

বাংলাদেশ শিশুসাহিত্য একাডেমির উদ্যোগে তিনদিনব্যাপী ছোটদের বইমেলা ও শিশুসাহিত্য উৎসবের সমাপনী দিনের অনুষ্ঠানমালায় বক্তারা বলেছেন, শিশুর প্রতি ভালোবাসা শিশুসাহিত্য রচনার পূর্বশর্ত। শিশুদের আগ্রহ ও আনন্দের জায়গাটুকুর খবর রাখতে হয় লেখকদের। শিশুসাহিত্য যেন শিশুর আনন্দসঙ্গী হয়ে ওঠে, তার জন্য আমাদের ভাবতে হবে। তাঁরা বলেন, শিশুসাহিত্য শিশুর মানসিক খাদ্য। এই খাদ্য তার মনকে করে সতেজ, সবল। তার স্বপ্ন ও কল্পনাশক্তির বিকাশে উপভোগ্য শিশুসাহিত্যের কোনো বিকল্প নেই। নিজস্ব সাংস্কৃতিক ধারাও শিশুর ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। তাই এমন রচনা আমরা চাই, যা শিশু-কিশোরের মানস গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে। ছোটদের রুচি গঠন ও মানবিক মূল্যবোধ তৈরিতে সহায়ক এমন রচনাই আমাদের কাম্য।
গত ২১ সেপ্টেম্বর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে শিশু সাহিত্য একাডেমি পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, একুশে পদকপ্রাপ্ত ভাষাবিজ্ঞানী প্রাবন্ধিক অধ্যাপক ড. মাহবুবুল হক। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন, খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী সবিহ উল আলম, বাংলাদেশ শিশু একাডেমির পরিচালক আনজীর লিটন ও কথাপ্রকাশের স্বত্ত্বাধিকারী জসিম উদ্দিন।
কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক এলিজাবেথ আরিফা মুবাশশিরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে অনুভূতি ব্যক্ত করেন, পদকপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী মোমিন উদ্দীন খালেদ, লেখক এয়াকুব সৈয়দ, আজিজ রাহমান, মিজানুর রহমান শামীম, আবুল কালাম বেলাল, রমজান আলী মামুন ও অমিত বড়ুয়া। আবৃত্তিশিল্পী আয়েশা হক শিমুর সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ শিশুসাহিত্য একাডেমির পরিচালক রাশেদ রউফ। পদকপ্রাপ্তদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট, উপহার ও সম্মানী তুলে দেওয়া হয়।
এর আগে অধ্যাপক সনজীব বড়ুয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় সাহিত্যসেবী সম্মিলন। এতে অতিথি ছিলেন, খ্যাতিমান শিশুসাহিত্যিক অজয় দাশগুপ্ত, আমীরুল ইসলাম, আসলাম সানী, আলম তালুকদার, স ম শামসুল আলম, জিন্নাহ চৌধুরী প্রমুখ। লেখা পাঠ করেন কবি আকতার হোসাইন, নজরুল ইসলাম নাঈম, চন্দন কৃষ্ণ পাল, শফিক নহোর, আকাশ আহমেদ, তালুকদার হালিম, কৌশিক রেইন প্রমুখ।
ড. মাহবুবুল হক বলেন, মানুষের সৌন্দর্যবোধ ও আনন্দানুভূতির মূলে রয়েছে তার রুচি। এই রুচিকেই সবার আগে প্রাধান্য দেওয়া দরকার। আমাদের দরকার তেমন মানসম্মত বই, যা ছোটদের জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। শিল্পী সবিহ উল আলম বলেন, ছোটদের বই এমন হতে হবে যা তাদের ভালো লাগবে আর যা পড়ে তাদের মনের ভালো বৃত্তিগুলোতে খানিকটা সাড়া জাগাবে।
লেখক অজয় দাশগুপ্ত বলেন, বাংলাদেশের শিশুসাহিত্যের মান বিশ্বের শিশুসাহিত্যের তুলনায় কোনো অংশে কম নয়। আমাদের রয়েছে সমৃদ্ধ ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্যকে লালন করে সমকালীন লেখকরা এগিয়ে যাচ্ছেন তাঁদের প্রতিভা নিয়ে। শিশুসাহিত্যিক আমীরুল ইসলাম বলেন, এখন আর অন্যদিকে চোখ রাখার সময় নয়, নিজেদের দিকে চোখ ফেরাতে হবে। ঠাকুর মার ঝুলি থেকে শুরু করে যে সব অনবদ্য রচনা আমাদের ভাণ্ডারে রয়েছে, সেসবের পুনঃপাঠ জরুরি। আনজীর লিটন বলেন, ছোটোদের মন ও মনন গঠনে শিশুসাহিত্যের ভূমিকা অপরিসীম।
শেষে সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাহিত্যিক জিনাত আজম। এতে আলোচনায় অংশ নেন লেখক কাজী রুনু বিলকিস, চট্টগ্রাম একাডেমির পরিচালক এস এম আবদুল আজিজ, বেতার ব্যক্তিত্ব ফজল হোসেন, অধ্যাপক আয়েশা পারভিন চৌধুরী, অধ্যাপক সুপ্রতিম বড়ুয়া প্রমুখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

x