শিশুর বাড়তি খাবার শক্তিঘন ও পুষ্টিঘন করার পদক্ষেপ

প্রফেসর ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী

শনিবার , ১২ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৫:১৪ পূর্বাহ্ণ
91

শিশুর বাড়তি খাবারকে অধিক পুষ্টিঘন করার জন্য বিভিন্ন ধরনের খাবার একসাথে মিশিয়ে শিশুকে খেতে দিতে হবে। এতে করে শিশুর পুষ্টি চাহিদা বিশেষ করে অনুপুষ্টি আয়রন ও ভিটামিন এর চাহিদা পূরণ হবে। এছাড়া শিশুর আমিষের চাহিদাও পূরণ হবে যা শিশুর বাড়ন্ত শরীরের যথাযথ বৃদ্ধির জন্য অধিক প্রয়োজন। তবে মা বা শিশুর পরিচর্যাকারীকে অবশ্যই জানতে হবে কিভাবে বিভিন্ন খাবার মিশিয়ে বাড়তি খাবারকে অধিক পুষ্টিঘন করা যায়।
১. প্রাণীজ খাবার যোগ করার মাধ্যমে

প্রাণীজ খাবার যেমন মাংস, যকৃত, দুধ, পনির, ডিম, মাছ বিভিন্ন প্রকার পুষ্টির প্রধান উৎস। প্রাণীর মাংস, যকৃত, বিভিন্ন অঙ্গ ও মাছ হচ্ছে আয়রন, জিংক ও ভিটামিন এ এর ভালো উৎস। ডিম, দুধজাত খাবার শিশুর জন্য ভালো কেননা এ খাবারগুলো আমিষ ও অন্যান্য পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে। ডিমের কুসুমেও ভিটামিন এ আছে। দুধ এবং ছোট মাছে ক্যালসিয়াম থাকে যা শিশুর হাড়ের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। তাই শিশুকে দুধের তৈরি খাবার বা ছোট মাছ বেটে চপ আকারে তৈরি করে শিশুকে খাওয়ালে শিশুর ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ হবে।
২. খাবারে আয়রন (লৌহ) যুক্ত খাবার যোগ করার মাধ্যমে

আয়রন শিশুর একটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির অভাব পূরণ করে। আয়রন রক্ত কণিকা তৈরির জন্য প্রয়োজন। আর এই রক্ত কণিকা শিশুর বুদ্ধি, বিকাশ ও রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। নিচে আয়রন যুক্ত কিছু খাবারের উদাহরণ দেয় হল যা শিশুর ৬ মাস বয়সের পর থেকে বাড়তি খাবারে যোগ করে শিশুকে খাওয়াতে হবে-
শিশুর যথাযথ দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধির জন্য ৬ মাস বয়সের পর থেকে প্রতিদিন কমপক্ষে ১ বার প্রাণিজ উৎস থেকে খাবার দিতে হবে।
শিম বা মটর জাতীয় বীজ, কলাই, ডাল জাতীয় শস্য বা বাদাম শিশুর দৈনিক শক্তি, আমিষ ও অন্যান্য পুষ্টি চাহিদা পূরণে সহায়তা করে।
কলিজা, ডিম, পালংশাক, শিম, মটরশুঁটি, বাদাম, ডাল, মাছ, শুকনা ফল যেমন- খেজুর, কিসমিস ইত্যাদি
শিশুর পুষ্টির জন্য জিংক (দস্তা ) প্রয়োজন। যে সমস্ত খাবারে আয়রন থাকে ঐ সব খাবারে জিংকও থাকে। অতএব একজন স্বাস্থ্যকর্মী হিসাবে স্থানীয় যেসব খাবার আয়রন সমৃদ্ধ তা পরিবারকে জানানো এবং তা দিয়ে কিভাবে খাবার তৈরি করতে হয় তা শিখানো আপনার দায়িত্ব।
৩. ভিটামিন ‘এ’ যুক্ত খাবার যোগ করার মাধ্যমে

শিশুর চোখ ও ত্বক সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখার জন্য ভিটামিন ‘এ’ র প্রয়োজন। এছাড়াও ভিটামিন ‘এ’ রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করে। তাই ভিটামিন এ যুক্ত খাবার যোগ করে শিশুর খাবারকে অধিক পুষ্টিসম্পন্ন করা যায়। যে সমস্ত খাবার ভিটামিন ‘এ’ এর ঘাটতি বা অভাব পূরণ করে তা হল-
গাঢ় সবুজ শাক সবজি।
হলুদ রং এর সবজি ও ফল।
প্রাণিজ উৎস যেমন যকৃত, দুধ, ডিমের কুসুম।
দুধ থেকে তৈরি খাবার যেমন মাখন, পনির, দৈ।
অন্যান্য খাবার ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ করা হয়েছে।
গাঢ় সবুজ সবজিপাতা, হলুদ ফল ও সবজি শিশুর চোখকে সুস্থ রাখতে ও রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে।

লেখক : বিভাগীয় প্রধান, শিশুস্বাস্থ্য বিভাগ, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল

x