শিশুর প্রতিদিনের খাবার

প্রফেসর ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী

শনিবার , ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ at ৫:০৬ পূর্বাহ্ণ
121

শিশুর ৭মাস সয়স থেকে ২৩ মাস বয়স পর্যন্ত যেসব খাবার দিতে হবে

শিশুকে মায়ের দুধের পাশাপাশি প্রতিদিন নিচের সব ধরনের খাবার থেকে কমপক্ষে একটি করে খাবার খাওয়াতে হবে:
প্রাণিজ খাবার: মাছ, ডিম, মাংস ও কলিজা
দুগ্ধজাত খাবার: দই, পনির ও দুধ দিয়ে তৈরি খাবার যেমন পায়েস, হালুয়া ফিরনি, পুডিং ইত্যাদি
ডাল: শিমের বিচি, মটরশুঁটি ও বিভিন্ন ধরনের ডাল
শাক-সবজি: গাঢ় সবুজ শাক-সবজি যেমন: পুঁই শাক, লাউ/কুমড়া শাক, কলমী শাক, পালং শাক, লাউ, বেগুন, কাঁচা পেঁপে, ফুলকপি, মূলা
ফলমূল: দেশীয় ফলমূল যেমন: পাকা পেঁপে, কাঁঠাল, আম, কলা ইত্যাদি
শস্যদানা: ভাত ও রুটি
খাবারের ঘনত্ব:
শিশু বড় হয়ে উঠার সাথে সাথে তার চাহিদা অনুযায়ী খাবারের শক্তি ঘনত্ব বা ঊহবৎমু ফবহংরঃু বাড়াতে হবে যাতে ১গ্রাম খাবারে ১.৫- থেকে ২.০ ক্যালরি থাকে আর তা করা যায় খাবারে তেল/ ঘি/ চর্বি/ মাখন এসব মিশিয়ে। কারণ ১ গ্রাম তেলে ৯ ক্যালরি পাওয়া যায়।
বাড়তি খাবারের ঘনত্ব:
খাবারের ঘনত্ব ঠিক হলে শিশুর খাবারটি পুষ্টিকর হবে, শিশু খাবার চিবাতে পারবে, খাবারের স্বাদ বুঝতে শিখবে ও সহজে গিলতে পারবে। তরল খাবারের চেয়ে ঘন খাবারের বেশী পরিমাণে শক্তি, আমিষ ও অন্যান্য পুষ্টি থাকে যা শিশুকে বেড়ে উঠতে সাহায্য করে।
শিশুর খাবার যেন বেশী তরল বা পাতলা না হয়। খাবার যত বেশী তরল বা পাতলা হবে, খাবারের পুষ্টিমান তত কম হবে। মনে রাখতে হবে শিশুর পেট খুব ছোট থাকে তাই শিশুকে পাতলা খাবার দিলে অল্পতেই তার পেট ভরে যাবে এবং পুষ্টি কম পাবে, আর পেট ভরা থাকলে শিশু খেতে চাইবে না। শিশুর খাবার তৈরি করার সময় খেয়াল রাখতে হবে ভাতের পরিমাণ যেন কম হয়, ঘন ডাল (ডালের উপরের পানি না বা তরকারির ঝোল না) এবং দিনে একবার হলেও মাছ, মাংস ও ডিম এর যে কোন একটি দিয়ে মেখে খাওয়াতে হবে। (মাখানো খাবারটি এমন হবে যেন তা হাত দিয়ে তুললে সহজে পড়ে না যায়)। শিশুরা ৮-৯ মাস বয়স থেকে নিজে নিজে হাত দিয়ে খাবার ধরে মুখে দিতে পারে, এই কারণে এই বয়সে নাস্তা হিসাবে খাবার ছোট ছোট টুকরা করে যেমন- মিষ্টি কুমড়া ভাজি, কলা ভাজি, মুরগির কলিজা, ডিম, (ডিম শিশু যেভাবে খেতে পছন্দ করে) এছাড়াও ফল যেমন: পাকা আম, পেপে, কাঁঠাল ছোট ছোট টুকরা করে দিলে সে নিজে নিজে হাত দিয়ে তুলে মুখে দিতে ও খেতে পারবে।
খাবারের পরিমাণ:
ছয় মাস পর থেকে শিশু খুব তাড়াতাড়ি বাড়ে। তাই তার খাবরের পরিমাণও সেভাবে বাড়াতে হবে। শিশুর ৬ মাস বয়সের পর থেকে ২৪মাস বয়স পর্যন্ত সয়স অনুযায়ী বাড়তি খাবার এর পরিমাণ-
বয়স ৬-৮ হলে বাড়তি খাবার থেকে প্রাপ্ত ক্যালরি ১৯৫। বয়স ৯-১১ হলে প্রাপ্ত ক্যালরির পরিমাণ ২৮৫ এবং বয়স ১২-২৩ এর মধ্যে হলে বাড়তি খাবার থেকে প্রাপ্ত ক্যালরির পরিমাণ দাঁড়ায় ৫৯৪।
শিশুর বয়স অনুযায়ী প্রতিদিনের নির্ধারিত পরিমাণ খাবার শিশুর পক্ষে সারা দিনে খাওয়া সম্ভব হয় না। এ ক্ষেত্রে শিশুর ক্যালরির চাহিদা পূরণ করার জন্য খাবার থেকে অধিক শক্তি কিভাবে পাওয়া যায় সেসব খাবার শিশুকে খাওয়াতে হবে।

বিভাগীয় প্রধান, শিশুস্বাস্থ্য বিভাগ, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল

x