শিশুর পায়ুপথ দিয়ে রক্তপাত?

ডা. একেএম ফজলুল

শনিবার , ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ৯:০৩ পূর্বাহ্ণ
115

 

 

মূলকথা হলো শিশুদের মলের সাথে রক্ত গেলেই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাধারণ চিকিৎসার মাধ্যমে এটি ভালো করা সম্ভব। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিতে পারে। সেই জন্য সচেতনতা ও দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। শিশুদের জন্য ন্যাচারাল বা প্রাকৃতিক চিকিৎসা হিসাবে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা উপরে উল্লেখিত রোগগুলির চিকিৎসায় দ্রুত, নিরাপদ ও কার্যকর ভাবে প্রমাণিত। একজন রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিলে সহজে এরোগ বা উপসর্গ হতে আরোগ্য লাভ করতে পারবে।

শিশুদের যেকোনো অসুখবিসুখকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ এমনিতেই শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বড়দের তুলনায় অনেক কম। এছাড়া শিশুদের রোগের উপসর্গগুলি বা রোগের বর্ণনা শিশুরা নিজের মতো করে প্রকাশ করতে পারে না। শিশুদের এসব অসুখবিসুখের মধ্যে একটি কমন উপসর্গ হচ্ছে মলের সাথে রক্ত যাওয়া। অনেক কারণে শিশুদের মলের সাথে রক্ত যেতে পারে, তবে তাতে আতঙ্কিত না হয়ে যথাযথ চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করলে শিশুদের মলদ্বারের রোগসহ যেকোন কারণে মলের সাথে রক্তপাতের উপসর্গ বা সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব।

নিম্নে শিশুদের মলের সাথে রক্ত যাওয়ার যেসব কারণ রয়েছে তার বর্ণনা সংক্ষেপে দেয়া হলো : রেকটাল পলিপ, এনাল ফিসার, পাইলস, এনাল আলসারেশন, প্রোকটাইটিস ইত্যাদি। রেকটাল পলিপ হচ্ছে একটি ছোঁ গেঁ বা আঙুলের মতো অংশ, যা পায়ুপথের ভিতরে রেকটামে হয়। এই আঙুলের মতো অংশে যখন মলত্যাগের সময় মলের ঘষা লাগে তখন তাজা রক্ত বের হয় এবং আস্তে আস্তে এফুলাটি রেকটামের ভিতর হতে মলদ্বারের বাহিরে বেরিয়ে পড়ে। এ রোগের অতিসাধারণ একটি পরীক্ষার নাম প্রকটোস্কোপি’র মাধ্যমে এ রোগ সহজেই নির্ণয় করা যায়। এই পলিপ কোলোনোস্কোপি বা সিগময়ডোস্কোপি নামক একটি যন্ত্রের সাহায্যেও সহজে নির্ণয় করা যায়। এজন্য রোগীকে অজ্ঞান করতে হয় না। কিছু কিছু পলিপ আছে যা কোলন বা বৃহদন্ত্রে হয় এবং এগুলো পরবর্তীতে ক্যান্সারে রূপান্তরিত হয়। তাই এ জাতীয় পলিপ শিশুদের আছে কিনা তা আগেই নিশ্চিত হওয়া একান্ত জরুরি। এনাল ফিসার শিশুদের একটি সাধারণ রোগ, প্রায়শই শিশুর মল কষা বা শক্ত হতে দেখা যায়। সেক্ষেত্রে জোরে বা প্রেসার দিয়ে মলত্যাগ করতে চাইলে সেই শক্ত মল মলদ্বারের পেছন বা সামনের দিকে জোরে ঘষা দেয়, ফলে ওই অংশে একটুখানি ছিঁড়ে যেতে পারে। ছিঁড়ে যাওয়াকেই এনাল ফিসার বলে। এতে মলের সঙ্গে বা টিস্যুপেপারে কয়েক ফেঁাঁটা তাজা রক্ত দেখা যায়। শিশুদের এই রোগে ভীত হওয়ার কিছু নেই। মল নরম করলে, যেমন শাকসবজি ও পাকা পেঁপে খেয়ে বা মিল্ক অব ম্যাগনেশিয়া জাতীয় ওষুধ খেয়ে কোষ্ঠ স্বাভাবিক হলে এই রোগ প্রাথমিক ক্ষেত্রে আপনাআপনি সেরে যায়। কিন্তু যদি সেরে না যায় বা বার বার হতে থাকে তাহলে অবশ্যই রোগীকে একজন কোলোরেক্টাল ডক্টরের কাছে যেতে হবে। পাইলসও শিশুদের হতে পারে, তবে খুব সাধারণতঃ কম হয়, শিশুদেরক্ষেত্রে যেটা বেশি হয় সেটা হলো রেকটাল পলিপ। সাধারণতঃ খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের মাধ্যমে সহজে এই রোগের চিকিৎসা করা সম্ভব।এনাল আলসার বা ক্ষত শিশুদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত গুড়াকৃমি জনিত মলদ্বারের মুখের বাহিরের অংশে হয়ে থাকে। নিয়মিত কৃমিনাশক ঔষধ সেবনে এরোগ হতে নিরাপদ রাখা যায়।

মূলকথা হলো শিশুদের মলের সাথে রক্ত গেলেই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাধারণ চিকিৎসার মাধ্যমে এটি ভালো করা সম্ভব। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিতে পারে। সেই জন্য সচেতনতা ও দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। শিশুদের জন্য ন্যাচারাল বা প্রাকৃতিক চিকিৎসা হিসাবে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা উপরে উল্লেখিত রোগগুলির চিকিৎসায় দ্রুত, নিরাপদ ও কার্যকর ভাবে প্রমাণিত। একজন রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিলে সহজে এরোগ বা উপসর্গ হতে আরোগ্য লাভ করতে পারবে।

x