শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানোর সঠিক পদ্ধতি

প্রফেসর ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী

শনিবার , ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ at ৬:২৭ পূর্বাহ্ণ
79

শিশুকে পর্যাপ্ত পরিমাণে মায়ের দুধ খাওয়াতে হলে মা ও শিশুর সঠিক অবস্থান ও মায়ের বুকে শিশুর সংস্থাপন নিশ্চিত করা চায়। মা তার শিশুকে কোলে নিয়ে বসে অথবা শুয়ে যেভাবে মা আরাম বোধ করবে ঠিক সেভাবেই অবস্থান হবে। মাকে আরামদায়কভাবে বসতে অথবা শুতে হবে। প্রয়োজনে বসার জন্য পিঠে অথবা সাইডে বালিশ দিয়ে সোজা হয়ে হেলান দিয়ে বসতে হবে। দুধ খাওয়ানোর সময় শিশুর মুখ মায়ের স্তনের বোঁটার কাছে থাকতে হবে।

 শিশুর মাথা থাকবে মা’র কনুইতে ও কোমরের নিচের অংশ থাকবে মায়ের হাতের তালুতে।

 শিশুর মাথা, পিঠ ও কোমরের নিচের অংশ একই সরলরেখায় থাকতে হবে এবং শিশুর সমস্ত শরীর ভালভাবে ধরে রাখতে হবে।

 শিশুর পেট মায়ের শরীরের সাথে লেগে থাকতে হবে।

ঊমা শিশুকে দুধ খাওয়ানোর সময় হাতের বুড়ো আঙ্গুল স্তনের উপর এবং বাকী চার আঙ্গুল স্তনের নীচে রেখে ইংরেজি ‘ঈ’ আকৃতিতে স্তনকে ধরতে হবে।

ঊমা শিশুকে শুয়ে অথবা বসে যেভাবেই খাওয়াতে চান সেভাবে শিশুকে পুরোপুরি তার দিকে ঘুরিয়ে খাওয়াতে হবে। শিশুকে যেন ঘাড় বাঁকা করতে না হয়। কারণ ঘাড় বাঁকা থাকলে শিশু আরাম করে পেট ভরে খেতে পারবে না।

ঊখাওয়ানোর সময় কখনোই শিশুর মাথায় হাত দিবেন না। মাথায় হাত থাকলে শিশু বিরক্ত হয় এবং দুধ মুখে নিতে চায় না।

ঊমাকে চিন্তামুক্ত থাকতে হবে কেননা বিশ্রামরত ও চিন্তামুক্ত অবস্থায় মায়ের দুধ বেশী তৈরী হয়।

সংস্থাপন বলতে মায়ের স্তনে শিশুর মুখ কিভাবে লেগে থাকলে শিশু দুধ খেতে পারবে তা বোঝায়।

 শিশুর মুখ বড় করে হা করতে হবে।

শিশুর থুতনি মায়ের স্তনে লেগে থাকবে।

 নিচের ঠোঁট বাইরের দিকে উল্টানো থাকবে।

ঊস্তনের উপরের কালো অংশ নিচের অংশের চেয়ে বেশী দেখা যাবে।

শিশুকে দুধ খাওয়ানোর সময় স্তনের বেশিরভাগ কালো অংশসহ শিশুর মুখে দিতে হবে। কারণ কালো অংশের নীচে দুধ জমা থাকে। শিশু যদি শুধুমাত্র দুধের চুষে তাহলে শিশু পরিমাণ মত দুধ পাবে না। আবার বোঁটা ফেঁটে যেতে পারে যা দীর্ঘ সময় একইভাবে চুষলে বোঁটায় ঘা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং মা প্রচন্ড ব্যাথা পাবে ফলে শিশুকে দুধ দিতে চাইবে না।

মা শিশুকে একবারে অনেকক্ষণ (শিশু যতক্ষণ চায় ) এক পাশের স্তন খাওয়াবেন তাহলে শিশু মায়ের দুধের প্রথমের পাতলা দুধ ও পরের ঘন দুধও পাবে, যেটা শিশুর শরীরে পুষ্টি ও শক্তি যোগায়। শিশুকে পরিতৃপ্ত রাখে ও শিশুর ওজন বাড়ায়।

একদিকের স্তনের দুধ খাওয়া শেষ হলে অন্যদিকের স্তনের দুধ শিশুকে খাওয়াতে হবে। ক্ষুধা থাকলে শিশু হা করবে এবং দুধ খাবে, না হলে পরবর্তী খাবারের সময় অন্যদিকের স্তন থেকে খাওয়ানো শুধু করতে হবে।

 শিশুকে প্রথম বার স্তনে ধরার সময় প্রয়োজনে দুধ চিপে বের করে বোঁটায় লাগিয়ে শিশুর মুখে দিলে খুব সহজেই শিশু বড় করে হা করবে এবং তখন স্তনের কালো অংশ সহ শিশুর মুখে দিলে শিশু ভালো করে দুধ টানা শুরু করবে।

 নবজাতক শিশু একটু বেশী সময় ঘুমিয়ে থাকে তাই দুধ খাওয়ানোর জন্য কিছুক্ষণ পরে তাকে একটু নাড়াচাড়া দিয়ে জাগিয়ে বুকে জরায়ে ধরতে হবে। অনেক সময় নবজাতক শিশু আধাঘন্টা থেকে ১ ঘন্টা পরপর মায়ের দুধ খায়। রাতের বেলায় শিশুকে একই পদ্ধতিতে খাওয়াতে হবে কারণ রাতে দুধ বেশী তৈরি হয়।

শিশু দুধ খাবার সময় নিঃশ্বাসপ্রশ্বাস নিতে এবং দুধ টানতে টানতে ক্লান্ত হয়ে যায়, বিশ্রাম নেওয়ার জন্য কিছুক্ষণ পর পর থামে। এই সময় অনেক মা মনে করেন শিশুর পেট ভরে গেছে এবং শিশুকে স্তন থেকে ছাড়িয়ে নেন যার ফলে মায়ের স্তনে কিছুটা দুধ জমা থাকে ও পরবর্তীতে ধীরে ধীরে দুধ তৈরি কমতে থাকে, অন্যদিকে শিশুর পেট ঠিকমত ভরে না, শিশু অতৃপ্ত থাকে ফলে কিছুক্ষণ পর পর কান্নাকাটি করতে থাকে। মা মনে করে আমার মনে হয় পর্যাপ্ত দুধ নেই বা তৈরি হচ্ছেনা। তাই প্রয়োজনে মা শিশুর হাতে বা পায়ে সুড়সুড়ি দিয়ে ঘুম ভাঙিয়ে দিলে জেগে উঠবে এবং আবার দুধ খেতে শুরু করবে।

লেখক : বিভাগীয় প্রধান, শিশুস্বাস্থ্য বিভাগ, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল

x