শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় একজনের ফাঁসি

১০ বছর আগের মামলা

আজাদী প্রতিবেদন

সোমবার , ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ৬:৫০ পূর্বাহ্ণ
43

শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা ১০ বছর আগের মামলায় একজনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। আসামির নাম আমির হোসেন। গতকাল রোববার বিকেলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক মোতাহির আলী এই রায় দেন। একই সঙ্গে আদালত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন। আসামি আমির ফটিকছড়ির ভূজপুর থানার ওমর আলীর ছেলে। মৃত্যুদন্ড ও জরিমানা প্রাপ্ত আসামি আমির হোসেন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এবিষয়ে ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট এম এ নাসের জানান, মামলায় একমাত্র আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। এ কারণে মোট ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালতের বিচারক এ রায় ঘোষণা করেন। জানা গেছে, ২০০৮ সালের ১৬ মে জেলার হাটহাজারী উপজেলার মেখল গ্রামে ফুফুর বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া ১০ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ করেন কৃষক আমির হোসেন। পরে শিশুটিকে হত্যা করে লাশ খালে ফেলে দেয়া হয়। পরদিন লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় শিশুটির বাবা আবদুর রহিম বাদী হয়ে হাটহাজারী থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ২০০৮ সালের ২৫ আগস্ট আমিরের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। পরের বছরের ৮ অক্টোবর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। রায়ে শিশুটিকে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ফাঁসির আদেশ এবং ধর্ষণের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় আসামি উপস্থিত ছিলেন। পরে আসামি আমিরকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন মামলার বাদী আবদুর রহিম জানান, ১০ বছর এ রায়ের অপেক্ষায় দিন কেটেছে। সন্তান হারানোর যন্ত্রণা এতদিন বুকের উপর পাথরের মতো চেপে বসেছিল। রায় কার্যকর হলে আত্মা শান্তি পাবে।
তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার পরে ২০১০ সালের ১৯ মে এ ঘটনায় জামাল নামে একজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন আবদুর রহিম। পরে পু্ি‌লশী তদন্তে জানা যায়, জামালের আসল নাম আমির হোসেন। তাকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেয় পু্ি‌লশ। আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দিও দেন আমির হোসেন। গতকাল আলোচিত এ ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণা করলেন বিচারক।

x