শিমে সফল দশ সহস্রাধিক কৃষক

চন্দনাইশ সাতকানিয়া

চৌধুরী শহীদ, চন্দনাইশ

শুক্রবার , ১১ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৪:৫৬ পূর্বাহ্ণ
24

শীতের অন্যতম সবজি শিম চাষ করে সফলতার মুখ দেখেছেন চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার উপজেলার ৯ ইউনিয়ন ও ১ পৌরসভার ১০ সহস্রাধিক কৃষক। এসব কৃষকের মুখে এখন সাফল্যের হাসি। গত কয়েক বছরে শিমের চাষ করে এসব কৃষক পরিবর্তন করতে পেরেছেন নিজেদের ভাগ্যের চাকা এবং ফিরিয়ে এনেছেন পরিবারের সচ্ছলতা।
এ দুই উপজেলার কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, দুই উপজেলার দোহাজারী পৌরসভা, ধোপাছড়ি, সাতবাড়িয়া, বৈলতলী, বরমা এবং সাতকানিয়া উপজেলার পুরানগড়, বাজালিয়া, ধর্মপুর, কালিয়াইশ, খাগরিয়া ইউনিয়নসহ আশপাশের আরো কয়েকটি ইউনিয়নে চলতি বছরে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে শিমের চাষ হয়েছে। এসব এলাকায় উৎপাদিত শিম এবং কাঁচা শিমের বিচির স্বাদ বেশি হওয়ায় পুরো চট্টগ্রাম জেলায় এখানকার শিম ও বিচির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ফলে এ এলাকায় উৎপাদিত শিম বাজারজাত করতে কৃষকদের তেমন বেগ পেতে হয় না। প্রতিদিন সকালে চন্দনাইশের দোহাজারী রেলওয়ে স্টেশন ময়দানে বসা পাইকারি বাজারে কৃষকদের আনা শিম বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পাইকাররা কিনে নিয়ে যান। চলতি বছর শিমের দাম তুলনামূলকভাবে অন্য সময়ের চেয়ে বেশি পাওয়া যাচ্ছে যা কৃষকদের জন্য সুখের বিষয় হিসাবে দেখছে কৃষি বিভাগ। সূত্রটি জানায়, এ বছর মৌসুমের শুরুতে প্রতি কেজি শিম ১৫০ টাকা থেকে ১৮০ টাকায় এবং প্রতি কেজি বিচি ২৮০ টাকা থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
চন্দনাইশের ধোপাছড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোরশেদুল আলম জানান, তার ইউনিয়নে কমপক্ষে দেড় থেকে দুই হাজার কৃষক শিমচাষ করে সফল হওয়ায় তাদের পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতা এসেছে।
একই কথা জানালেন সাতকানিয়ার কালিয়াইশ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাফেজ আহমদ। তিনি জানান, তার ইউনিয়নের ৩০ শতাংশ লোক কৃষি কাজের সাথে জড়িত। এদের মধ্যে বেশিরভাগই শিমচাষ করে সারা বছরই পরিবারের খরচ জুগিয়ে থাকে।
শিমচাষ করে সফল চাষি হিসাবে দোহাজারী কালিয়াইশসহ আশপাশের এলাকায় খ্যাতি ছড়িয়ে পড়া নুরুল ইসলাম নুরু জানান, যদি প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ হানা না দেয় শিমচাষে কোনো লোকসান নেই। চলতি বছর নুরু নিজেই দেড় একরের মতো জমিতে শিমের চাষ করেছেন। দেড় একর জমিতে চাষ করতে বীজ, সার, কীটনাশক ও খুঁটিসহ অন্যান্য খাতে তার খরচ হয়েছে আড়াই থেকে তিন লাখ টাকার মতো। ইতোমধ্যে উৎপাদিত শিম বিক্রি করে খরচ তুলে নিতে পেরেছেন। আরো দুই থেকে তিন লাখ টাকার শিম ও বিচি বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন। নুরু জানান, শুধু শংখচরেই ৫ হাজারের উপরে কৃষক শিমচাষের সাথে জড়িত। তিনি এ অঞ্চলে সরকারিভাবে একটি সবজি হিমাগার স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে দাবি জানান।
চন্দনাইশ উপজেলা কৃষি সমপ্রসারণ কর্মকর্তা হাসান ইমাম বলেন, চন্দনাইশে প্রায় তিন হাজার হেক্টর জমিতে শিমের চাষ হয়েছে। কৃষি বিভাগের সরাসরি তদারকি ও প্রয়োজনীয় পরামর্শের কারণে চলতি বছর শিমের ফলন খুব ভালো হয়েছে। তিনি জানান, এ অঞ্চলের শিমের চাহিদা থাকায় কৃষকরা শিমচাষের দিকেই ঝুঁকছে বেশি। চট্টগ্রাম এবং আশপাশের এলাকায় ব্যাপক চাহিদা থাকায় এ এলাকায় উৎপাদিত শিম ও বিচি খুব দ্রুত বাজারজাত করা সম্ভব হচ্ছে। এ কারণে শিমচাষে জড়িত কৃষকরা আর্থিকভাবে সুবিধা পাচ্ছে।

Advertisement