শিমুল মুস্তাফার আবৃত্তিতে মুগ্ধ শ্রোতা

সনেট দেব

বৃহস্পতিবার , ১৬ মে, ২০১৯ at ৪:১৪ পূর্বাহ্ণ
7

পুরো অডিটরিয়াম জুড়ে পিনপতন নীরবতা। মৃদু মৃদু আলোর এক অন্য রকম আবহ। সব নীরবতা ভেঙে হঠাৎ আলো ভেদ করে বেরিয়ে আসলেন এ সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় আবৃত্তিশিল্পী শিমুল মুস্তফা। মুখে তাঁর ‘পরিচয়ে আমি বাঙালি, আমার আছে ইতিহাস গর্বের/ কখনোই ভয় করিনাকো আমি উদ্যত কোন খড়গের, একই হাসিমুখে বাজায়েছি বাঁশি, গলায় পড়েছি ফাঁস/ আপস করিনি কখনোই আমি এই হলো ইতিহাস’..। মঞ্চের আলো আঁধারি থেকে ভরাট কন্ঠে সৈয়দ শামসুল হকের এই কবিতাটি দৃপ্ত উচ্চারণে আবৃত্তি করতে করতে আলোতে আসার এ আবহ দেখে উপস্থিত দর্শকও একটু নড়েচড়ে বসেন।
গত ২৫ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নগরীর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এভাবেই শুরু হয় আবৃত্তিশিল্পী শিমুল মুস্তাফার একক আবৃত্তিসন্ধ্যা। আবৃত্তি সংগঠন তারুণ্যের উচ্ছ্বাস প্রতিষ্ঠার যুগপূর্তি উপলক্ষে দর্শনীর বিনিময়ে বছরব্যাপী যুগপূর্তি অনুষ্ঠানমালার চতুর্থ নিবেদন হিসেবে ‘আপস করিনি কখনোই আমি, এই হলো ইতিহাস’ শিরোনামে শিমুল মুস্তাফার এই একক আবৃত্তি সন্ধ্যার আয়োজন করেছে। বারকোড রেস্টুরেন্ট গ্রুপের সহযোগিতায় এ আয়োজনে আবৃত্তিশিল্পী মুজাহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন, তরুণ শিল্পোদ্যেক্তা এবং বারকোড রেস্টুরেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল হক। এসময় তিনি শিমুল মুস্তাফাকে উত্তরীয় এবং স্মারক উপহার তুলে দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
মঞ্চে শিমুল মুস্তাফা প্রেম, দ্রোহ, প্রকৃতি ও ইতিহাসমাখা প্রায় ত্রিশটি কবিতা আবৃত্তি করেন। তিনি একে একে আবৃত্তি করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাঁশি, কাজী নজরুল ইসলামের কামাল পাশা, শক্তি চট্টাপাধ্যায়ের অবণী বাড়ী আছো, হুমায়ূন আজাদের আমাদের মা -সহ কবি শামসুর রাহমান, নির্মলেন্দু গুণ, সলিল চৌধুরী, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, পুর্ণেন্দু পত্রী, জয় গোস্বামী ও রফিক আজাদের বেশকিছু কবিতা। অনুষ্ঠানের আবহ প্রক্ষেপণে ছিলেন নিখিলেশ বড়ুয়া এবং রনি দে।

x