শিবরাম চক্রবর্তী : হাস্য-রসের অনবদ্য স্রষ্টা

বুধবার , ২৮ আগস্ট, ২০১৯ at ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ
25

শিবরাম চক্রবর্তী রসস্রষ্টা, বিশেষ করে শিশুতোষ হাসির কাহিনি রচনা করে বিশিষ্টতা অর্জন করেন। কিন্তু পাশাপাশি রাজনীতি ও সাংবাদিকতায়ও সনিষ্ঠ অবদান রেখেছেন তিনি। সাহিত্য জীবনের শুরু কবিতা দিয়ে, পরবর্তী সময়ে কথাশিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। শিশু সাহিত্যিক হিসেবে তাঁর জনপ্রিয়তা কালোত্তীর্ণ। আজ তাঁর ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকী।
শিবরাম চক্রবর্তীর জন্ম ১৯০৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর কলকাতায়। কৈশোর কেটেছে মালদহে। বাবা শিবপ্রসাদ ছিলেন কিছুটা আধ্যাত্মিক স্বভাবের, বোহেমিয়ান জীবনে অভ্যস্ত। পুত্র শিবরাম বাবার কাছ থেকেই পেয়েছিলেন ঘরপালানো স্বভাব। জীবন-জীবিকার কথা চিন্তা না করে কৈশোরেই ঘর ছেড়ে বেড়িয়ে পড়েছিলেন। মালদহে মাধ্যমিক স্কুলে পড়ার সময় থেকে সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ। এ সময় রাজনীতির সাথেও জড়িয়ে পড়েন। স্বদেশী কাগজ মাথায় নিয়ে ফেরি করে বেড়িয়েছেন। স্বদেশী আন্দোলনের কর্মী হিসেবে জেল খাটতে হয়েছে তাঁকে। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। কাজ করেছেন ‘বিজলী’ ও ‘ফরোয়ার্ড’ পত্রিকায়। ‘যুগান্তর’ নামে নিজেই একটা পত্রিকা চালিয়েছেন কিছুদিন। শিশু সাহিত্যে ‘হর্ষবর্ধন’, ‘গোবর্ধন’ ও ‘বিনি’ চরিত্রটি শিবরাম চক্রবর্তীর অনবদ্য সৃষ্টি। ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন ভীষণ অগোছালো। শিশুদের জন্য লিখেছেন বিস্তর। সেই সংখ্যা তাঁর নিজেরও জানা ছিলনা। তাই অনেক রচনাই অপ্রকাশিত থেকে গেছে। শিবরামের উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে : ‘বাড়ি থেকে পালিয়ে’, শরৎচন্দ্রের দেনাপাওনা উপন্যাসের নাট্যরূপ ‘ষোড়শী’, নাটক ‘যখন তারা কথা বলবে’, রাজনীতিবিষয়ক ‘মস্কো বনাম পণ্ডিচেরী’, আত্মজীবনী ‘ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা’ প্রভৃতি। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে তাঁর প্রচুর লেখা প্রকাশিত হয়েছে ‘বসুমতী’, ‘রবীবাসরীয় আনন্দবাজার’, ‘দেশ’ প্রভৃতি পত্রিকায়। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য : ‘বাঁকা চোখে’, ‘অল্পবিস্তর’, ‘বিসংবাদ’, ‘আপনি কি হারাইতেছেন আপনি জানেন না’ ইত্যাদি। এগুলোর সবই অম্লমধুর ফিচার ও টিকা-টিপ্পনি। ১৯৮০ সালের ২৮ আগস্ট প্রয়াত হন হাস্যরসের এই অনবদ্য স্রষ্টা।

x