শিপইয়ার্ডে প্রাণহানি

বুধবার , ২৯ মে, ২০১৯ at ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ
26

সীতাকুণ্ড শিপইয়ার্ডে প্রায় সময় শ্রমিক মৃত্যু ও অগ্নিদগ্ধ খবর আজাদীসহ বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়। জাহাজ ভাঙা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফোরামের উদ্যোগে শ্রমিক মৃত্যুর প্রতিবাদে সীতাকুণ্ডে মানববন্ধন করে। শিপ ইয়ার্ডে প্রায়ই গ্যাস বিস্ফোরণ, স্ক্র্যাপ জাহাজ থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যুসহ ছোট বড় বিভিন্ন দুর্ঘটনায় শ্রমিকের মৃত্যু আর পঙ্গু হওয়ার ঘটনা বেড়েই চলেছে। এই শিল্পের গোড়া পত্তনের শুরু থেকে জাহাজ কাটতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে কয়েক হাজার শ্রমিক। আহত হয়েছে হাজার হাজার। এবং পঙ্গুত্ব জীবন যাপন করছে ৪ হাজারেরও উপরে। অভিযোগ রয়েছে গ্যাস ফ্রি না করে কাটার কারণেই এ শিল্পে ভয়াবহ সব দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে। এর জন্য দায়ী বিস্ফোরক অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের গাফেলতি। যোগাযোগের সুবিধাসহ বিভিন্ন কারণে দেশের মধ্যে একমাত্র সীতাকুণ্ডের সমুদ্র উপকূলেই শিপ ব্রেকিং শিল্প গড়ে উঠেছে। মূলত: মেয়াদোত্তীর্ণ পুরানো জাহাজ বিদেশ থেকে স্ক্র্যাপ হিসেবে কিনে ইয়ার্ডগুলোতে কাটা হয়। জানা যায় এখানে প্রায় ৩০০টি ইয়ার্ড গড়ে উঠেছে। ফৌজদারহাট থেকে বার আউলিয়া পর্যন্ত প্রায় ১০/১২ মাইলব্যাপী জাহাজ ভাঙার ইয়ার্ডগুলো রাত দিন হাজার হাজার লোকের সমাগমে কর্মমুখর হয়ে উঠে। ঐসব পুরানো জাহাজ কাটার দিয়ে কেটে টুকরো টুকরো করে লোহার পাত হিসেবে বিক্রি করা হয়। প্রধানত: নৌ বাণিজ্য অধিদপ্তর জাহাজ কাটার ব্যাপারে অনুমোদিত ঠিকাদার নিয়োগ, বিস্ফোরক অধিদপ্তর থেকে গ্যাস ফ্রি সার্টিফিকেট এবং পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক সরেজমিনে জাহাজ পরীক্ষার পরই গ্যাস ফ্রি সার্টিফিকেট ইস্যুর নির্দেশ দেয়ার কঠোর বিধিনিষেধ থাকলেও কার্যতঃ এসবের কিছুই করা হয় না। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, আধুনিক পদ্ধতি ছাড়া অতি মুনাফা অর্জনে শ্রমিকদের গায়ে গতরে খাটিয়ে ন্যূনতম ব্যয়ে জাহাজ কাটার কাজ সমাধা করার কারণে অহরহ দুর্ঘটনা, পঙ্গুত্ব বরণ ও প্রাণহানির ঘটনা এবং মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয় ঘটছে। সংশ্লিষ্টদের স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির কারণে নিয়ম বহির্ভূত কাজ চলছে অবাধে। অথচ ঘণ্টায় ন্যূনতম মূল্যে কাটিং কন্ট্রাক্টরের অধীনে শ্রমিকদের কাজ করতে হয়। তাদের জাহাজ কাটা থেকে শুরু করে লোহারপাত ট্রাকে তোলা পর্যন্ত সব কাজই করতে হয়। বিস্ফোরক অগ্নিকাণ্ড এবং প্লেট চাপা পড়া ইয়ার্ডে নিহত হওয়া শ্রমিকদের খোঁজ-খবর কেউ রাখে না। অবশ্য দুর্ঘটনার শিকার হয়ে কোন শ্রমিক নিহত হলে কিছু নগদ অর্থ ক্ষতিপূরণ দিয়েই দায় সেরে যান মালিকপক্ষ। জাহাজ কাটার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দায়িত্বশীল সংস্থার দেয়া সনদগুলো যদি যথার্থরূপে ইস্যু করা হতো তাহলে শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের দুর্ঘটনা বহুলাংশে হ্রাস পেতো।
-এম.এ. গফুর, বলুয়ার দীঘির দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়, কোরবানীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

x