শিক্ষিত বেকার: কেন বিদেশি জনশক্তির উপর নির্ভর করতে হয়?

মঙ্গলবার , ২০ নভেম্বর, ২০১৮ at ৬:৪১ পূর্বাহ্ণ
61

প্রায় ২৫ লাখ শিক্ষিত বেকারের দেশে থেকে প্রতি বছর বিদেশি কর্মীরা নিয়ে যাচ্ছে দু’ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (সাড়ে ষোল হাজার কোটি টাকার বেশি)। বাংলাদেশে প্রায় ৮৬ হাজার বিদেশি কর্মজীবী বিভিন্ন বিশেষায়িত পেশায় নিয়োজিত। এদের বড় অংশ ভারত, শ্রীলংকা, কোরিয়ান ও চীনের নাগরিক। শুধুমাত্র ভারতীয় আছেন ৩৫ হাজার। জনশক্তি রপ্তানি বড় দেশটিতে এত শিক্ষিত বেকার থাকতেও কেন বিদেশি জনশক্তির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। বাংলাদেশে যেসব বিদেশি কাজ করেন তাদের হিসেব সরকারের কাছে আছে। অনেকে বলেন, বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশিদের সংখ্যা আরো অনেক বেশি হতে পারে। তাদের পাঠানো রেমিটেন্সের পরিমাণও বেশি। ঘরে রাস্তায় চায়ের দোকান তথা সবখানে যখন মলিন মুখ, বেকারের ছড়াছড়ি, মানে যে দেশে এত বেকার, সে দেশের বছরে ১৬ হাজার কোটি টাকা বিদেশে চলে যাচ্ছে? আমাদের ছেলেরা চাকরি পায় না আর তারা এসে এতগুলো টাকা নিয়ে যাচ্ছে? জানা যায়, বাংলাদেশে কাজ করা শুধু ভারতীয়রাই বছরে ৩২ হাজার কোটি টাকা দেশে নিয়ে যান বা দেশে পাঠান। বিদেশিদের বেতন বাংলাদেশিদেরই চেয়ে দুই থেকে তিন গুণ বেশি। বিশ্বের কোন দেশে কাজ করতে গিয়ে বাংলাদেশিরা সে দেশের স্থানীয়দের চেয়ে দুই তিন গুণ বেশি বেতন পান কিনা জানা নেই। উদ্বেগের ক্ষেত্র হচ্ছে যে বহু বিদেশিই আছেন যারা নিয়মানুযায়ী ওয়ার্ক পারমিট ছাড়াই এখানে কাজ করেন। কারা ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া কাজ করছেন তাদের হিসাব সরকারের কাছে আছে বলে মনে হয় না। জানা গেছে, ভ্রমণ ভিসায় বাংলাদেশে আসেন ভারত, শ্রীলংকা, পাকিস্তান ও থাইল্যান্ডের নাগরিকেরা। এরপর তারা নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কাজ করে ভিসার মেয়াদ শেষের আগেই চলে যান। নতুন করে আবার ভ্রমণ ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে আসেন। নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান এসব বিদেশি কর্মীর বেতন পরিশোধ করে রাজস্বমুক্ত বিভিন্ন খাত থেকে। বিদেশি কর্মীরা ডলার করে টাকা নিয়ে যান নিজের দেশে। বরং সাধারণ মানুষের পক্ষেই বুঝে ওঠা মুশকিল যে, দেশের ছেলেরা যেখানে পৈতৃক ভিটেমাটি, সোনাদানাসহ শেষ সম্বল বিক্রি করে বিশ পঁচিশ হাজার টাকা চাকরির জন্য বিদেশে পাড়ি জমায়।অনেকে বিদেশে গিয়েও মৃত্যুর শিকার হচ্ছে। যে দেশে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি মানুষ বেকার, সে দেশে এসে বিদেশিরা কিভাবে বছরে প্রায় পঞ্চাশ হাজার কোটি টাকা নিয়ে যায়। বাংলাদেশের বেকার জনশক্তিকে কারিগরি দিক থেকে দক্ষ না করা পর্যন্ত বাংলাদেশের বেকারত্ব কমবে না। অন্যদিকে বিদেশিদের বছরে ৪০ হাজার কোটি টাকা নিয়ে যাওয়াও বন্ধ হবে না বরং এর পরিমাণ আরো বাড়বে। এ বিদেশী নিয়োগ ও বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশের বাইরে চলে যাওয়া নিয়ে সরকারি পর্যায়ে কোন মাথা ব্যথা থাকার কথা জানা যায়নি। তবে বেসরকারি পর্যায়ে ক্ষোভ উদ্বেগ আছে।
এম. এ. গফুর, বলুয়ার দীঘির দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়, কোরবানীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

x