শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাস্তানি চলবে না

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী ।। আবরার হত্যাকারীদের কঠিনতম শাস্তি হবে ।। ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের বিপক্ষে, বুয়েট চাইলে বন্ধ করতে পারে ।। বন্দরে কেউ একা একা ব্যবহার করে না ।। কেউ পানি চাইলে না দিলে কেমন দেখায়

আজাদী ডেস্ক

বৃহস্পতিবার , ১০ অক্টোবর, ২০১৯ at ৫:১১ পূর্বাহ্ণ
337

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে যারা ‘পিটিয়ে পিটিয়ে অমানবিকভাবে’ হত্যা করেছে, তাদের কঠিনতম শাস্তি হবে। জাতিসংঘ ও ভারত সফর নিয়ে গতকাল বুধবার গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নোত্তরে তিনি বলেন, কেউ যদি কোনো অপরাধ করে, সে কোন দল, কী করে না করে, আমি কিন্তু সেটা দেখি না। আমার কাছে অপরাধী অপরাধীই। আমরা অপরাধী হিসেবেই দেখি।
রোববার সন্ধ্যায় বুয়েটের তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও শেরে বাংলা হলের আবাসিক ছাত্র আবরারকে ডেকে নিয়ে যায় হলের কিছু ছাত্রলীগ নেতা। শিবির সন্দেহে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও নির্যাতনের এক পর্যায়ে গভীর রাতে হলেই তার মৃত্যু হয়। দীর্ঘ সাড়ে ছয় ঘণ্টা আবরারের ওপর কীভাবে নির্যাতন চালানো হয়েছে, ছাত্রলীগ কর্মীরা মাতাল অবস্থায় কীভাবে ক্রিকেট খেলার স্টাম্প দিয়ে আবরারকে পিটিয়েছে, সেই বিবরণ ইতোমধ্যে সংবাদমাধ্যমে এসেছে। ফেইসবুকে মন্তব্যের সূত্র ধরে শিবির সন্দেহে আবরারকে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে বুয়েট ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাকে হলের একটি কক্ষে পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে সংগঠনটির তদন্তেই উঠে এসেছে। খবর বিডিনিউজের।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ নৃশংসতা কেন? এই জঘন্য কাজ কেন? এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। যত রকমের উচ্চ শাস্তি আছে সেটা দেওয়া হবে। কোনো সন্দেহ নেই। দল-টল বুঝি না। অপরাধের বিচার হবেই।
আওয়ামী লীগের কেউ এ ধরনের ঘটনা ঘটাবে, তা কখনোই মেনে নেবেন না মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ঘটনা জানার পর তিনি সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রলীগকে ডেকে বলেছেন, জড়িতদের যেন বহিষ্কার করা হয়। এখানে আমি বিবেচনা করব না কিসের ছাত্রলীগ। অপরাধী অপরাধীই। অন্যায় করেছে, সে অন্যায়কারী। তার বিচার হবে। কারো দাবি-টাবির অপেক্ষায় থাকি না। আগেই আমি নির্দেশ দিয়ে দিয়েছি। গ্রেপ্তার হয়েছে। ওই ঘটনায় বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলসহ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ওই ১৩ জনসহ মোট ১৯ জনের নামে চকবাজার থানায় মামলা করেছেন আবরারের বাবা।
ঘটনার পর থেকেই খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তিসহ দশ দফা দাবিতে আন্দোলন করছে বুয়েট শিক্ষার্থীরা। তাদের আন্দোলনের মুখে শেরেবাংলা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক জাফর ইকবাল খান ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন। ফুটেজ সংগ্রহে বাধা দিল কারা? : সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বুয়েটে যে ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনা খুব সকালবেলা জানার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিলাম আলামত সংগ্রহ করার জন্য। সাথে সাথে এটাও বলেছিলাম যে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করতে। তারা সেখানে পৌঁছে যায়। আলামত সংগ্রহ করে এবং সিসিটিভি ফুটেজগুলো দীর্ঘসময় ধরে সংগ্রহ করে। যখন পুলিশ সিসি ক্যামেরা থেকে ফুটেজ হার্ডডিস্কে নিয়ে আসছে তখন তাদেরকে ঘেরাও করা হলো। তাদেরকে ফুটেজ নিয়ে আসতে দেওয়া হবে না। আইজিপি যোগাযোগ করল, বলল, আমাদের লোকদের আটকে রেখে দিয়েছে। আলামত নিয়ে আসতে দিচ্ছে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফুটেজগুলো আনতে দেবে না কেন? তারা বলছে, ফুটেজগুলো পুলিশ নষ্ট করবে। পুলিশ গেছে আলামত সংগ্রহ করতে। ডেডবডির যাতে পোস্টমর্টেম হয়, সে ব্যবস্থা করা হলো। ছাত্ররা নামার আগেই সাথে সাথে ব্যবস্থা নেওয়া, কোন রুম, কোথায়, কারা ছিল যেটাকে পারো সবকটাকে ধরে অ্যারেস্ট করো। যে ক’টাকে হাতে পেয়েছি সবগুলোকে অ্যারেস্ট করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে প্রশ্নটা আমার। পুলিশকে আসতে দেবে না, আলামত নিতে দেবে না। আমি আইজিকে বললাম, বলা যায় না এর মধ্যে কী যারা ঘটনা ঘটিয়েছে তারা আছে? ফুটেজ পেলে পরে তারা ধরা পড়ে যাবে এজন্য তারা পরবর্তীতে এই ফুটেজগুলো সংগ্রহ করে এবং একটা কপি কর্তৃপক্ষকে দিয়ে আসে। সেগুলো দেখে আইডেন্টিফাই করা দরকার ছিল, যেটা করা হচ্ছে এখন।
তিনি বলেন, কে ছাত্রলীগ, কে ছাত্রদল কে, কী করে আমি সেটা বিবেচনা করিনি। আমি বিবেচনা করেছি অন্যায়ভাবে একটা বাচ্চা ছেলে, ২১ বছরের ছেলে পিটিয়ে পিটিয়ে… কি অমানবিক! পোস্টমর্টেম রিপোর্ট দেখেছেন। বাইরে অত ইনজুরি নেই, সমস্ত ইনজুরি ভিতরে। যে জিনিসটা আমার মনে পড়ল… ২০০১ সালে বহু নেতাকর্মীকে এমনভাবে পিটানো হতো, বাইরে থেকে ইনজুরি নেই, তারা মারা যেত।
শেখ হাসিনা বলেন, স্বাভাবিকভাবে এটা সন্দেহের বিষয়। এরা কারা? হ্যাঁ, ক্ষমতায় থাকলে অনেকে দল করতে আসে। কিছু লোক তো আছে পার্মানেন্ট গভর্মেন্ট পার্টি। এরকম কিছু থাকে। যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটায় তারা আমার পার্টির এটা তো আমি কখনোই মেনে নেব না। আমি সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রলীগকে ডেকেছি। সবগুলোকে বহিষ্কার করতে বলেছি। পুলিশকে বলেছি অ্যারেস্ট করতে।
কারা পুলিশকে ফুটেজ নিতে বাধা দিয়েছে, তা খুঁজে দেখতে বলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফুটেজ হাতে পাওয়ার পর বেছে বেছে বের করতে পুলিশের জন্য সুবিধা হয়েছে। এটা একটু খোঁজ করেন, কেন বাধা দেওয়া হলো। তিনটে ঘণ্টা সময় কেন নষ্ট করল? আমি জানি না এর উত্তর আছে কিনা। আন্দোলনই বা কিসের জন্য? বিচার হবেই।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাস্তানি চলবে না : শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘মাস্তানিতে’ জড়িতদের ধরতে সারা দেশের সব কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তল্লাশির কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই অভিযানে কারও দলীয় পরিচয় দেখা হবে না বলেও হুঁশিয়ার করেছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নোত্তরে শেখ হাসিনা বলেন, প্রত্যেকটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রতিটি হল; শুধু ঢাকা না, সারা বাংলাদেশে প্রত্যেকটা জায়গায় সার্চ করা হবে। সেই নির্দেশটাও আমি দিয়ে দেব।
উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এখানে আমি আপনাদের মাঝেই বলে দিচ্ছি, সেটা করব করব। আপনাদের সহযোগিতা চাই। আপনারা বের করে দেন যে, কোথায়, কারা এই ধরনের অনিয়ম, উচ্ছৃঙ্খলতা করছে। কোনো দল টল আমি বুঝি না। পরিষ্কার কথা, কোনো দল আমি বুঝি না।
সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রতিটি ছাত্রের পেছনে সরকারি অর্থ খরচের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সামান্য টাকা, ১০ টাকা, ২০ টাকা, ৩০ টাকায় সিট ভাড়ায় একেকজন রুমে থাকবে। আর তারপর সেখানে বসে এই ধরনের মাস্তানি করবে। আর সমস্ত খরচ বহন করতে হবে জনগণের পয়সা দিয়ে। এটা কখনো গ্রহণযোগ্য না।
ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের বিপক্ষে : আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের পর বুয়েট শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ থেকে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের যে দাবি উঠেছে তা নাকচ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে তিনি বলেছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বুয়েট তাদের ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে পারে।
আবরার হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল বুয়েটে শিক্ষার্থীরা ১০ দফা দাবি তুলেছেন, যার একটি হল ছাত্র সংগঠনের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা।
এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, একটা ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি উঠাবে যে ছাত্র রাজনীতি ব্যান। আমি নিজেই যেহেতু ছাত্র রাজনীতি করে এসেছি। সেখানে আমি ছাত্র রাজনীতি ব্যান বলব কেন? বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের উজ্জ্বল ইতিহাস তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, আসলে এই দেশের প্রতিটি সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা কিন্তু ছাত্ররাই নিয়েছেন। আমি ছাত্র রাজনীতি করেই কিন্তু এখানে এসেছি। দেশের ভালো-মন্দের বিষয়টা ওই ছাত্রজীবন থেকে আছে বলেই আমরা দেশের জন্য কাজ করতে পারি। কিন্তু যারা উড়ে এসে বসে, তারা আসে ক্ষমতাটাকে উপভোগ করতে। তাদের কাছে তো দেশের ওই চিন্তা-ভাবনা থাকে না। রাজনীতি একটা শিক্ষার ব্যাপার, প্রশিক্ষণের ব্যাপার, জানার ব্যাপার। সেটা ছাত্ররাজনীতি থেকেই কিন্তু ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে।
বাংলাদেশে ছাত্র রাজনীতি কলুষিত করার জন্য সামরিক শাসকদের দায়ী করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, নষ্ট রাজনীতি যেটা, সেটা তো আইয়ুব খান শুরু করে দিয়েছিল, আবার জিয়াউর রহমান এসে শুরু করল একইভাবে এবং দুইজনের ক্ষমতা দখলের চরিত্র একই রকম। আমাদের দেশের অসুবিধাটা হলো, বারবার মিলিটারি রুলাররা এসেছে। আর এসে এসে মানুষের চরিত্র হরণ করে গেছে। একবারে ছাত্র রাজনীতি ব্যান করে দিতে হবে, এটা তো মিলিটারি ডিক্টেটরদের কথা। আসলে তারা এসে তো সবসময় পলিটিকস ব্যান, স্টুডেন্ট পলিটিঙ ব্যান তারাই করে গেছে।
আবরার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে রাজনীতির কোনো যোগসূত্র নেই দাবি করে তিনি বলেন, এটা তো রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড না। ছাত্র রাজনীতিকে দোষারোপ করার কোনো মানে হয় না। এই যে ছেলেকে হত্যা করল, এর সাথে রাজনীতিটা কোথায়? এর পেছনের কারণটা কী, খুঁজে বের করতে হবে। এই যে একটা সন্ত্রাসী ঘটনা বা এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই তো সংগঠন করা নিষিদ্ধ আছে। বুয়েট যদি মনে করে, তাহলে তারা বন্ধ করে দিতে পারে। এখানে আমরা কোনো হস্তক্ষেপ করব না।
এর আগে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার শাসনামলে ছাত্রলীগ নেতাদের ‘রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের’ শিকার হওয়ার কথা তুলে ধরেন তিনি। স্বায়ত্তশাসিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সরকারের অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা একবার হিসাব করে দেখেন একজন ছাত্রের পেছনে সরকার কত টাকা খরচ করে। একজন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা এক গ্রাজুয়েট তৈরি করতে সরকার কত টাকা খরচ করে? স্বাধীনতা ভালো, তবে তাহা বালকের জন্য নহে। এটাও একটা কথা আছে। কারণ স্বাধীনতার যে মর্যাদা দিতে পারবে, তার জন্যই ভালো। সেটাও মাথায় রাখতে হবে।
ফেনী নদী থেকে সামান্য পানি দেয়া হয়েছে : চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ভারতকে ব্যবহার করতে দেয়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীতে যত বন্দর আছে সেটা সব দেশ নিজেদের সুবিধার জন্য ব্যবহার করে। কেউ বন্দর বানিয়ে একা একা ব্যবহার করে না।
ফেনী নদীর পানি ভারতে দেওয়া প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কেউ পান করার জন্য পানি চাইলে তা না দিলে কেমন দেখায়? ত্রিপুরার রাজ্যের একটি এলাকায় সামান্য পানি দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ফেনী নদীর উৎপত্তিস্থল খাগড়াছড়িতে। এটা ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী একটি নদী। সীমান্তবর্তী নদীতে দুই দেশেরই অধিকার থাকে। ত্রিপুরার সাবরুম এলাকার মানুষ খাবার পানির জন্য ভু-গর্ভস্থ পানি তোলে। সীমান্তবর্তী হওয়ায় এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ে। তাই সামান্য পানি তাদের দেওয়া হবে।
দেশের স্বার্থ শেখ হাসিনা বিক্রি করবে না : বাংলানিউজ জানায়, সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের সঙ্গে গ্যাস নিয়ে চুক্তি বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের স্বার্থ শেখ হাসিনা বিক্রি করে দেবে এটা কখনো হতে পারে না। তিনি বলেন, আমরা বিদেশ থেকে এলপিজি গ্যাস এনে প্রক্রিয়াজাত করে ভারতে রপ্তানি করব। এটা প্রাকৃতিক গ্যাস নয়। অন্য পণ্য যেমন আমরা রপ্তানি করি ঠিক তেমন। এটা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির কিছু নেই।
শেখ হাসিনা বলেন, এলপিজি গ্যাস আমাদের দেশে উৎপন্ন হয় না। এখন এই গ্যাস আমরা আমদানি করছি। রান্নায় সিলিন্ডারে সরবরাহ করছি। আগে স্বল্প পরিমাণে এলপিজি উৎপাদন হতো। আমদানি করা গ্যাস গ্রামে বিভিন্ন কোম্পানি সরবরাহ করছে। আগে ১০ কেজির সিলিন্ডার ১৬শ টাকা দাম পড়ত। বাজার উন্মুক্ত করে দেওয়ায় এখন ৯শ টাকা। এখন অনুমোদিত ২৬টি কোম্পানি কাজ করছে।
তিনি আরো বলেন, আমরা ত্রিপুরায় যে গ্যাস দিচ্ছি সেটি এলপিজি। আমাদের দেশে যেমন সরবরাহ করছি সেটিই ত্রিপুরায় দিচ্ছি। যারা এর বিরোধিতায় সোচ্চার, মানে বিএনপি ২০০১ সালের কথা মনে করিয়ে দিতে চাই। আমেরিকা গ্যাস বিক্রির জন্য বলেছিল, আমি বলেছিলাম দেশের চাহিদা মিটিয়ে আমরা তারপর বিক্রি করব। যে কারণে ২০০১ সালে আমরা ক্ষমতায় আসতে পারিনি। আর যারা গ্যাস বিক্রি করে দিচ্ছে বলেছে তারাই গ্যাস দেবে বলে মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল।
বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে গতির সঞ্চার : বাসস জানায়, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জাতিসংঘে এবারের অধিবেশনে জলবায়ু পরিবর্তন, দারিদ্র্য দূরীকরণ, মানসম্মত শিক্ষা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে। এছাড়া টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট তথা এসডিজি ও সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি বলেন, তাঁর ভারত সফরের মাধ্যমে সামগ্রিকভাবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন গতির সঞ্চার এবং ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এক বিশেষ উচ্চতায় উন্নীত হয়েছে।
তিনি বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকে অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন, সীমান্ত সুরক্ষা, নিরাপত্তা সহযোগিতা, আন্তঃযোগাযোগ, জনযোগাযোগ, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সমপ্রসারণ, উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বিষয়ে আলোচনা হয়। এসময় তিস্তা নদীর পানি বণ্টনের বিষয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী জানান, সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তিনি এ সমস্যার দ্রুত সমাধানে আগ্রহী। বৈঠকে আমি মুহুরি নদীর সীমান্ত নির্ধারণের বিষয়ে প্রস্তাব করলে তিনি জানান, এ সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে তাঁর সরকার সচেষ্ট।
রোহিঙ্গা সমস্যা নিরসনের বিষয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে এবং এ সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবেন। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অনিষ্পন্ন সমুদ্র সীমা বিরোধের নিষ্পত্তির অনুরোধ জানালে তিনি এ সমস্যা নিরসনে তার আগ্রহের কথা ব্যক্ত করেন। আসামের এনআরসির প্রসঙ্গে জানান, এর আইনগত প্রক্রিয়া অত্যন্ত স্বচ্ছ। সুষ্ঠুভাবে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে এবং এনআরসি নিয়ে এখনো কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি হয়নি এবং ভবিষ্যতেও এ নিয়ে কোনো ধরনের কিছু ঘটতে দেওয়া হবে না। যারা এ তালিকা হতে বাদ পড়েছেন তারা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হতে পারবেন।

x