শিক্ষা ও বিজ্ঞান গবেষণায় অনন্য পথিকৃৎ ড. কুদরত-এ-খুদা

শুক্রবার , ১ ডিসেম্বর, ২০১৭ at ৬:৫২ পূর্বাহ্ণ
110

. কুদরতখুদা প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও বিজ্ঞানী। স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে গঠিত ‘জাতীয় শিক্ষা কমিশনে’র তিনি ছিলেন সভাপতি। তাঁর তত্ত্বাবধানেই প্রণীত হয় বাংলাদেশ শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট, যা কুদরতখুদা শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট নামেও পরিচিত। আজ এই বিজ্ঞান সাধকের ১১৭তম জন্মবার্ষিকী।

. কুদরতখুদার জন্ম ১৯০০ সালের ১ ডিসেম্বর ভারতের বীরভূমে। ১৯২৫ সালে কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে রসায়নে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করে লন্ডনে যান এবং ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। দেশে ফিরে যোগ দেন শিক্ষকতায়। দেশ বিভাগের পর কুদরতখুদা পূর্ব পাকিস্তানে চলে আসেন। এরপর একে একে জন শিক্ষা পরিচালক, পাকিস্তান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞান বিষয়ক উপদেষ্টা, মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং পাকিস্তান বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের পূর্বাঞ্চলীয় গবেষণাগারগুলোর পরিচালকের দায়িত্বে নিয়োজিত থেকে শিক্ষার উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। অবসর গ্রহণের পর তিনি পাকিস্তান কেন্দ্রীয় বাংলা উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। সমাজ গঠনমূলক শিক্ষাব্যবস্থার রূপরেখা প্রণয়নের লক্ষ্যে জাতীয় শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট প্রণয়ন করে তিনি বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। পঠিত বিষয় রসায়ন শাস্ত্রেও প্রচুর গবেষণা করেছেন তিনি। গবেষণা করেছেন পাট, লবণ, কয়লা, মাটি, বনৌষধি নিয়ে।

কুদরতখুদা বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ, অসংখ্য প্রবন্ধ ও পাঠ্যপুস্তক রচনা করে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা এবং বিজ্ঞান গবেষণার উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৭৬ সালে শিক্ষায় একুশে পদক এবং ১৯৮৪ সালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার পান। কুদরতখুদা রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে ‘যুদ্ধোত্তর বাংলায় কৃষি ও শিল্প’, ‘বিচিত্র বিজ্ঞান’, ‘পূর্ব পাকিস্তানের শিল্প সম্ভাবনা’, ‘বিজ্ঞানের বিচিত্র কাহিনি’, ‘জৈব রসায়ন’ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। ১৯৭৭ সালের ৩ নভেম্বর এই শিক্ষাব্রতী ও গবেষক প্রয়াত হন।

x