শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের আস্থা ক্যামব্রিয়ান

মো. ইরফান

শনিবার , ২৬ মে, ২০১৮ at ৪:১৪ পূর্বাহ্ণ
124

শিক্ষা ব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে ক্যামব্রিয়ান কলেজ ২০০৪ সালে যাত্রা শুরু হয়। বেসরকারি পর্যায়ে হলেও এদেশে ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তনের ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ক্যামব্রিয়ান। শুধুমাত্র উন্নত অবকাঠামো ও ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থাপনা নয় বরং মানসম্মত আধুনিক শিক্ষার প্রচলনের ক্ষেত্রেও রয়েছে এই কলেজের সাফল্য। বিদেশে উচ্চ শিক্ষার বিষয়েও সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছে ক্যামব্রিয়ানের সহপ্রতিষ্ঠান বিএসবি গ্লোবাল নেটওয়ার্ক। যেখানে ক্যামব্রিয়ানের আগ্রহী শিক্ষার্থীরা বিশেষ স্কলারশিপসহ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ফাইল প্রসেসিং এর সুবিধা পেয়ে থাকে।

ক্যামব্রিয়ানে রয়েছে সকল নিয়ামকের সমাবেশ যেখানে ৩০৪০ জন জনের আসন বিশিষ্ট শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি ও বিজ্ঞানাগার, হোস্টেল ও ট্রান্সপোর্ট সুবিধা ইত্যাদি। এছাড়াও সহশিক্ষা কার্যক্রমের জন্য কালচারাল একাডেমী, বিএনসিসি, স্কাউটিং, ডিবেট ক্লাব, ল্যাংগুয়েজ ক্লাব, ক্যারিয়ার কাউন্সিলিং এবং সৃজনশীল ও ডিজিটাল কন্টেন্টের মাধ্যমে পাঠদানে পারদর্শী শতাধিক দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষক রয়েছে। এক কথায় বলা যায়বর্তমান শিক্ষানীতি সঠিকভাবে পাঠ্যক্রম অনুসরণ, সৃজনশীল পদ্ধতির সঠিক প্রয়োগ ও তথ্য প্রযুক্তির সর্বোচ্ছ ব্যবহারে ক্যামব্রিয়ান অনন্য দৃষ্টান্তের অধিকারী। শিক্ষা ও প্রযুক্তির সেতুবন্ধন ক্যামব্রিয়ান এখন সারা দেশে একটি আস্থার নাম।

বর্তমানে ক্যামব্রিয়ান একটি বৃহৎ শিক্ষা পরিবার। ২০০৫ থেকে ২০১৭ অবধি প্রায় ১৭,০০০ শিক্ষার্থী এই বিদ্যাপীঠে অধ্যয়ন করে সফলতার সাথে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেছে। এই প্রতিষ্ঠানকে আরোও সমৃদ্ধ করেছে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা, যাদের অনেকেই এখন বাংলাদেশের বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আর্মি অফিসার হিসেবে দেশ সেবায় নিয়োজিত রয়েছে।

অপেক্ষাকৃত কম জিপিএ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী নিয়ে অধিক জিপিএ প্রাপ্তির অনন্য দৃষ্টান্তের অধিকারী ক্যামব্রিয়ান এডুকেশন গ্রুপের প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ সুবিধাসহ মফস্বলের শিক্ষার্থীদের ৫০% আসন সংরক্ষিত রয়েছে। বর্তমানে ৬০০০ শিক্ষার্থী, দক্ষঅভিজ্ঞ শিক্ষকদের নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে লেখাপড়া করছে। যার মধ্যে ১৩টি হোস্টেল (বয়েজ১১ ও গার্লস) ১৫০০ শিক্ষার্থী রয়েছে।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আধুনিক শিক্ষা পদ্ধতির সাথে পরিচিত ও উৎসাহী করার লক্ষ্যে প্রতি বছর বিএসবিক্যামব্রিয়ান এসএসসি কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় গত ১৪ মে চট্টগ্রাম নগরীর হল ২৪এ এস এস সি কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিএসবি ক্যামব্রিয়ান এডুকেশন গ্রুপ। এই বছর চট্টগ্রামের প্রায় ২৬০০ জন কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ক্যামব্রিয়ানে ভর্তিচ্ছু আগ্রহী শিক্ষার্থীর মধ্য থেকেই প্রায় ৪১৬ জন শিক্ষার্থীকে ৫০% স্কলারশীপ এবং ০৫ জন অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থীকে সম্পূর্ণ বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে জানানো হয়। ঘোষিত স্কলারশীপের সমমূল্য প্রায় ০৪ (চার) কোটি ২৬ লক্ষ টাকা।

২০১৫ সালে বন্দর নগরী চট্টগ্রামে ক্যামব্রিয়ান কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। এইচএসসি ২০১৬ প্রথম ব্যাচ চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে শতভাগ পাসের ভিত্তিতে ১ম স্থান এবং শতকরা জিপিএ ৫ এর ভিত্তিতে ৩য় স্থান অর্জন করে। এছাড়াও ২০১৭ সালে ২য় ব্যাচও প্রায় শতভাগ পাসসহ সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে।

তাকসির আহমেদ ক্যামব্রিয়ান কলেজের এক অদম্য কৃতী শিক্ষার্থী। পড়ালেখার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রম যেমন৭ম জাতীয় রসায়ন অলিম্পিয়াডে চট্টগ্রাম বিভাগে ১ম স্থান এবং ভর্তিযুদ্ধেও তার কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে তন্মধ্যে ২০১৭১৮ শিক্ষাবর্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘এ’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষায় ১ম স্থান অর্জন করে। পরবর্তীতে মেডিকেল ভর্তি পরিক্ষায় কৃতকার্য হয়ে বর্তমানে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত। তাকসিরের ন্যায় ক্যামব্রিয়ানের অনেক শিক্ষার্থী সরকারি মেডিকেল কলেজ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে।

ক্যামব্রিয়ান কলেজ চট্টগ্রামের প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন লায়ন মাহবুব হাসান লিংকন। চট্টগ্রাম ক্যামব্রিয়ানে সুযোগসুবিধা নিয়ে তিনি বলেনঢাকার আদলে চট্টগ্রাম ক্যামব্রিয়ানেও শিক্ষার্থীদের জন্য সকল আধুনিক সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। এখানে কেন্দ্রীয়ভাবে সকল কার্যক্রম নিয়ন্ত্রিত হয়। শুরু থেকেই সম্মানিত অভিভাবকগণ ক্যামব্রিয়ানে আস্থা রেখেছেন। তাই আমরাও তাদের আস্থার মর্যাদা সমুন্নত রাখতে সচেষ্ট আছি। ইতোমধ্যে অত্যন্ত সফলভাবে ২টি ব্যাচ চট্টগ্রাম ক্যামব্রিয়ান থেকে পাঠ শেষ করেছে। ফলাফল তারা যেমন একাডেমিক সাফল্য রেখেছে তেমনিভাবে উচ্চ শিক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সোপান ভর্তিযুদ্ধেও তারা উল্লেখযোগ্য সাফল্যের নজীর স্থাপন করেছে।

ক্যামব্রিয়ান শিক্ষার্থীদের পাঠদানে রয়েছে নানা উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। বছরের শুরুতেই একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুসরণ, সুনির্দিষ্ট পাঠ পরিকল্পনা, ডিজিটাল কন্টেন্ট ও আধুনিক শিক্ষা উপকরণ ব্যবহার, সৃজনশীল পদ্ধতির যথাযথ অনুসরণ, কোকারিকুলাম সুবিধা বাস্তবায়ন এবং ক্লাসের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ। এছাড়াও নিয়মিত পরীক্ষার যেমনসাপ্তাহিক, টার্ম, বার্ষিক পরীক্ষা, প্রিটেস্ট, মডেল টেস্টগুলোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করা হয়। সেই সাথে হোম টিচিং সার্ভিস, ক্লাস ও গাইড টিচার্স সাপোর্ট, অপেক্ষাকৃত দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য “ওয়ান টু ওয়ান” টিচিং সাপোর্ট, অভিভাবকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ, কলেজে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা, সহশিক্ষা কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধকরণ ও বাস্তবায়ন, ডিজিটাল পদ্ধতিতে উপস্থিতি নির্ণয় ইত্যাদি কার্যক্রম নিয়মিত বাস্তবায়িত হয়ে থাকে। এখানেই অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ক্যামব্রিয়ানের বিশেষ পার্থক্য। যার সঠিক প্রতিফলন ঘটে শিক্ষার্থীদের ফলাফলে।

বর্তমানে চট্টগ্রাম ক্যামব্রিয়ানেও অনলাইনে আবেদনের মাধ্যমে ভর্তির সুযোগ রয়েছে। এই বছর ক্যামব্রিয়ানে কলেজ চট্টগ্রামে বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষায় ভর্তির ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে জিপিএ ৪.০০ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম ক্যামব্রিয়ান কলেজে ভর্তির সুযোগ পাবে। চট্টগ্রামস্থ হালিশহর জিব্লকে ক্যামব্রিয়ান কলেজের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তবে স্কলারশিপসহ ভর্তি সংক্রান্ত যে কোন তথ্য সেবা প্রদানের লক্ষ্যে বিশেষ হট লাইন নম্বর ০১৭৬২৬৮৮১৮০ অথবা ০১৭৬২৬৮৮১৮১ চালু আছে।

x