শিক্ষার্থীর চাপ সামলাতে প্রয়োজনে দুই শিফটে পাঠদান

হেফাজত আমিরের বক্তব্য রাষ্ট্রীয় নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় মতবিনিময় সভায় শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার নওফেল

আজাদী প্রতিবেদন

রবিবার , ১৩ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৮:১২ পূর্বাহ্ণ
1191

চট্টগ্রাম মহানগরীতে নতুন সরকারি স্কুল-কলেজ করার মতো ভূমি পাওয়া অনেক কষ্টকর ব্যাপার উল্লেখ করে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেছেন, নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বানিয়ে সেটিকে প্রতিষ্ঠিত করতে যে সময় ও অর্থ ব্যয় হবে, তার চাইতে বিভিন্ন এলাকার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন করে শিক্ষক সংখ্যা বাড়ানোর দিকেই নজর দিচ্ছি। গতকাল শনিবার সকালে নগরীর চশমা হিলস্থ নিজ বাসভবনে চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ব্যারিস্টার নওফেল নগরীর নামিদামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি অভিভাবকদের নির্ভরশীলতা কমাতে প্রান্তিক এলাকার শিক্ষাঙ্গনে লেখাপড়ার মান বৃদ্ধির জন্য যোগ্যতাসম্পন্ন
শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। প্রয়োজনে সরকারিকরণ করে অধিক শিক্ষার্থীর চাপ সামলাতে দুই শিফটে পাঠদানের ব্যবস্থা করার পরামর্শও এসেছে তৃণমূল থেকে।
উপমন্ত্রী বলেন, ইতোপূর্বে জেলা প্রশাসন থেকে প্রস্তাব করা হয়েছে চট্টগ্রামে বিদ্যমান সরকারি স্কুলগুলোর অবকাঠামো ও ধারণক্ষমতা বাড়িয়ে দ্বিতীয় শিফট চালু করা। পাশাপাশি কিছু এলাকায় পুরনো ও প্রতিষ্ঠিত স্কুলকে সরকারি করা। এটা আমরা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবো। এছাড়া জনপ্রতিনিধিদের না দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দিয়ে স্কুল পরিচালনা করা। এতে জনপ্রতিনিধিদের ওপর মানুষের চাপ ও ব্যবস্থাপনার যে দায় থাকে তাতে ভারসাম্য আনা যাবে।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই শিক্ষার মানোন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে উল্লেখ করে শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে শিক্ষাখাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন হয়েছে। ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে আমাদের চেষ্টা থাকবে। ১৮ বছর আগেও দেশে শিক্ষা ব্যবস্থার এমন চিত্র ছিল না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে গেলে পুনরায় স্নাতক শ্রেণিতে পড়তে হতো। এখন দেশে শিক্ষার মান উন্নত হয়েছে এবং সনদও আন্তর্জাতিক মানের হওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সহজেই মেধাবী শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা নিতে পারছে। এই মান ধরে রাখতে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাবো।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পাঠ্যপুস্তকে সামপ্রদায়িকীকরণ এবং বিখ্যাত লেখকের লেখা বাদ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার নওফেল বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাস করে। এবং বাংলাদেশের সংবিধান ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ সৃষ্টি করতে আমাদের বাধ্য করেছে।
সংবিধান অনুসারে অসামপ্রদায়িক-ধর্মনিরপেক্ষ কারিকুলাম অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষার ক্ষেত্রে মানের উন্নয়ন ও ধর্মীয় শিক্ষার যে বিশেষায়িত ব্যবস্থাপনা আছে সেখানে সার্বিক মানের উন্নয়ন হলে সামাজিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হবে না। পড়াশোনার মধ্যে সামপ্রদায়িকীকরণ যদি করা হয় অদূর ভবিষ্যতে তা আমাদের জন্য বিপদজনক হয়ে দাঁড়াবে, এটা আমরা সকলেই বিশ্বাস করি। যারা এটার সাথে (পাঠ্যপুস্তকে পরিবর্তন) জড়িত ছিলেন, এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেল বলেন, আগামীতে আমরা প্রথম থেকেই সতর্ক থাকব। যাতে এ ধরনের কার্যকলাপ না ঘটে। তখন আগে থেকে জানা ছিল না, তবুও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এখন আমরা আগে থেকে জানি, অগ্রিম ব্যবস্থা নেব।
মেয়েদেরকে স্কুল-কলেজে না দিতে এবং দিলেও সর্বোচ্চ ক্লাস ফোর বা ফাইভ পর্যন্ত পড়ানোর জন্য ‘হেফাজত আমীরের’ ওয়াদা নেয়ার বিষয়ে শিক্ষা উপমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল হেফাজতে আমীরের নাম উল্লেখ না করে বলেন, দেশের যে কোনো নাগরিকেরই বাকস্বাধীনতা আছে। তার মনের ভাবনা প্রকাশ করার অধিকার আছে। তবে আমি সম্মানের সাথে বলব, আমরা সকলেই যারা বাকস্বাধীনতার চর্চা করছি, আমরা যেন এই বিষয়টা মাথায় রাখি যে-সংবিধান অনুসারে আমাদের সকলের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। আমরা যেন বৈষম্যমূলক মন্তব্য না করি।
যিনি এই মন্তব্যটা করেছেন, তিনি তার ব্যক্তিগত অভিমত দিয়েছেন। বাংলাদেশের শিক্ষানীতি প্রণয়ন, শিক্ষা ব্যবস্থাপনা বা পরিচালনা অথবা শিক্ষা খাতে কোনো নির্বাহী দায়িত্বে তিনি নেই। যেহেতু তিনি কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের অবস্থানে নেই, তিনি অভিমত দিলেই সেটা রাষ্ট্রীয় নীতিতে অন্তর্ভূক্ত বা প্রতিফলিত হবে, এমন চিন্তা করবার অবকাশ নেই। এটি রাষ্ট্রীয় নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বর্তমান সরকার নারীশিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। আওয়ামী লীগ ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসী উল্লেখ করে তিনি বলেন, হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান প্রত্যেকেই যার যার ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলবে। ধর্মীয় শিক্ষার মানোন্নয়ন হলে সমাজে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হবে না।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম, চট্টগ্রাম সেক্লাবের সভাপতি কলিম সরওয়ার ও সাধারণ সম্পাদক শুকলাল দাশ, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি নাজিমউদ্দিন শ্যামল, স্বাচিপ নেতা ডা. শেখ শফিউল আজম, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গিয়াস উদ্দিন, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক বেদারুল আলম চৌধুরীসহ নেতাকর্মীরা।

Advertisement