শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে

শুক্রবার , ১৯ জুলাই, ২০১৯ at ৭:১৩ পূর্বাহ্ণ
52

উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় এ বছর জিপিএ-৫ এর হার বেড়েছে। সার্বিকভাবে পাস করেছে ৭৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ শিক্ষার্থী। এ বছর আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ড মিলিয়ে ১০টি বোর্ডের অধীনে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১৩ লাখ ৩৬ হাজার ৬২৯ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৯ লাখ ৮৮ হাজার ১৭২ জন। সারা দেশে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৭ হাজার ৫৮৬ জন। গড়ে এ বছর ৭৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। গত বছর ২০১৮ সালে এ পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৬৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ। এ বছর জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৭ হাজার ৫৮৬ জন। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২৯ হাজার ২৬২ জন। সেই হিসাবে এবার উচ্চ মাধ্যমিকে পাসের হার বেড়েছে ৭ দশমিক ২৯ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ১৮ হাজার ২৪ জন। তবে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে পাসের হার কিছুটা কমেছে। উল্লেখ করার বিষয় হচ্ছে, এবার রেকর্ড সংখ্যক শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এ সংখ্যা ২ হাজার ৮৬০ জন পরীক্ষার্থী। গত ৭ বছরে এটা সর্বোচ্চ। গতবারের তুলনায় একলাফে জিপিএ-৫ বেড়েছে ১ হাজার ২৪৭। ২০১৮ সালে এ সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৬১৩। আজাদীতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবার জিপিএ-৫ পাওয়া পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ২ হাজার ২৫৮ জন বিজ্ঞান বিভাগ থেকে, ৪৭৩ জন ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে এবং ১২৯ জন মানবিক বিভাগ থেকে। শিক্ষাবোর্ড সূত্র জানায়, এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় ৯৯ হাজার ৭৯৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও অংশ নেয় ৯৮ হাজার ৯২৬ জন পরীক্ষার্থী। পাসের হার ৬২ দশমিক ১৯ শতাংশ। গত বছর পাস করেছিল ৬২ দশমিক ৭৩ শতাংশ। ফলে পাসের হার কমেছে দশমিক ৫৪ শতাংশ। তবে এবছর ফেল করেছে ৩৭ দশমিক ৮১ শতাংশ শিক্ষার্থী। গতবারের ফেল করা শিক্ষার্থী ছিল ৩৭ দশমিক ২৭ শতাংশ। এক্ষেত্রে ফেলের হার বেড়েছে দশমিক ৫৪ শতাংশ।
প্রথমেই অভিনন্দন জানাই যারা পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়েছে, তাদের। এর পর সরকারকেও অভিনন্দিত করতে চাই, কেননা
সময়মত ফল প্রকাশ করা, সেটা বড় দায়িত্বের কাজ। এখন সময়মত ফল প্রকাশ প্রায় নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলাফল বিশ্লেষণ করে শিক্ষাবিদরা বলছেন, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে গতবারের চেয়ে পাসের হার এবার সামান্য কমলেও সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক জিপিএ-৫ প্রাপ্তি মানসম্মত শিক্ষার বিষয়টিরই ইঙ্গিত বহন করে। কিন্তু এ ফলাফল সন্তোষজনক কিংবা আশানুরূপ নয়। এটা মন ভাল হওয়ার মতো ফলাফল নয়। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মাহবুব হাসান বলেন, পাসের হার গতবছরের চেয়ে সামান্য কমলেও আমরা জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে অনেক এগিয়ে গেছি। এটা শিক্ষার মানোন্নয়নের দিকেই ইঙ্গিত করে। আসলে বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়টা পাল্টেছে। শিক্ষার প্রসারের সঙ্গে এখন গুণগত মানকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাস্তবিকভাবেই গুণগত ও মানসম্মত শিক্ষা এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। জাতীয় উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন ও গতিশীল সমাজ গঠনে গুণগত শিক্ষা চালকের ভূমিকা নিতে পারে। গুণগত ধারার এ শিক্ষার শুরু হতে হবে প্রাথমিক অবস্থা থেকেই। শিশুদের কচি মনে প্রকৃত শিক্ষার বীজটা বপন করে দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলো শিক্ষার প্রারম্ভিক পর্যায়। সন্দেহ নেই, প্রাথমিক শিক্ষাই হচ্ছে সব শিক্ষার মূল ভিত্তি। ভৌত অবকাঠামোগত সুবিধাদির পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দক্ষ ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক। এর মাধ্যমে শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, সংরক্ষণ ও প্রসার সম্ভব। একটি স্বনির্ভর জাতিগঠনের পূর্বশর্ত যোগ্য নাগরিক গড়ে তোলা। আজকের কচি প্রাণ আগামী দিনের নেতা। এদের যথোপযুক্ত ও যোগ্য করে গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদেরই। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে প্রাথমিক শিক্ষাকেন্দ্র ও এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক। প্রকৃত ব্যাপার হলো, শিক্ষকের এসব গুণাবলির অভাবে বা দক্ষ শিক্ষকের অভাবে শিক্ষার মানোন্নয়নে গৃহীত কোনো পদক্ষেপই কাজে আসছে না।
পাস করা শিক্ষার্থীরা যাতে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ পায় সেটি নিশ্চিত করতে হবে। এই ফল ধরে রেখে ভবিষ্যতে শতভাগ পাসের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে। এ জন্য বেশকিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। শিক্ষাকে কিছুসংখ্যক লোকের অনৈতিক বাণিজ্যের ধারা থেকে বের করে আনতে মানসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে শিক্ষকদের পূর্ণ প্রস্তুতি ও মনোযোগ দিতে হবে।

x