শিক্ষকসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরাও নির্বাচনী প্রচারণায় নয়

রতন বড়ুয়া

বৃহস্পতিবার , ৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ at ৫:৩৩ পূর্বাহ্ণ
84

কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না। জাতীয় সংসদ নির্বাচন আচরণ বিধিতে এ বিধান যুক্ত থাকায় শিক্ষকসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টদের এ ধরণের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে হবে। কোন প্রার্থীও তাঁদের নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহার করতে পারবেন না। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ সংশ্লিষ্ট কেউ প্রার্থী হলে তিনি ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোন কাজে জড়িত থাকতে পারবেন না। আচরণ বিধির এ বিধান মেনে চলার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সমপ্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়।
চিঠিতে আচরণবিধির কপিও সংযুক্ত করে দেওয়া হয়। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের চিঠির প্রেক্ষিতে ইউজিসি, মাউশি ও সবকয়টি শিক্ষাবোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সব দফতরে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব (অধিশাখা-সমন্বয়) মো. সারওয়ার হোসেনের স্বাক্ষরে গত ২৫ নভেম্বর এ নির্দেশনা জারি করা হয়। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের প্রেরিত চিঠি ও সংযুক্ত আচরণ বিধিমালার ১০তম পৃষ্ঠার ১৪(২) এবং ১৪(৪ ) ধারা উল্লেখ করা হয় নির্দেশনায়।
আচরণ বিধিমালার ১৪(২) অনুযায়ী- ‘সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি তাহার নিজের বা অন্যের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় সরকারি যানবাহন, সরকারি প্রচারযন্ত্রের ব্যবহার বা অন্যবিধ সরকারি সুবিধা ভোগ করিতে পারিবেন না এবং এতদুদ্দেশ্যে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্ত্বশাসিত সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারী বা কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বা কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ব্যবহার করিতে পারিবেন না।’
১৪(৪) ধারায় বলা হয়েছে- কোন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে পূর্বে সভাপতি বা সদস্য হিসেবে নির্বাচিত বা মনোনীত হইয়া থাকিলে বা তদ্‌কর্তৃক কেউ মনোনয়ন প্রদত্ত হইয়া থাকিলে নির্বাচন-পূর্ব সময়ে তিনি বা তদ্‌কর্তৃক মনোনীত ব্যক্তি উক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোন সভায় সভাপতিত্ব বা অংশগ্রহণ করিবেন না অথবা উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোন কাজে জড়িত হইবেন না।’
বিধান লঙ্ঘন সংক্রান্ত আচরণ বিধিমালার ১৭(১) ধারায় বলা হয়েছে- বিধিমালার যে কোন বিধানের লঙ্ঘন ‘নির্বাচন পূর্ব অনিয়ম’ হিসেবে গণ্য হইবে এবং উক্তরুপ অনিয়মের দ্বারা সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল প্রতিকার চাহিয়া নির্বাচনী তদন্ত কমিটি বা কমিশন বরাবরে দরখাস্ত পেশ করিতে পারিবে।
১৭(২) অনুযায়ী-উপ-বিধি (১) এর অধীন প্রাপ্ত দরখাস্ত কমিশনের বিবেচনায় বস্তুনিষ্ঠ হইলে কমিশন উহা তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট বা যে কোন নির্বাচনী তদন্ত কমিটির নিকট প্রেরণ করিবে।
১৭(৩)-এ বলা হয়েছে- কোন তথ্যের ভিত্তিতে বা অন্য কোন ভাবে কমিশনের নিকট কোন নির্বাচন-পূর্ব অনিয়ম দৃষ্টিগোচর হইলে কমিশন- (ক) উহা প্রয়োজনীয় তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট বা অন্য কোন নির্বাচনী তদন্ত কমিটির নিকট প্রেরণ করিতে পারিবে। অথবা (খ) তাৎক্ষনিক ভাবে রিটার্নিং অফিসার বা প্রিজাইডিং অফিসার অথবা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য নির্দেশ দিতে পারিবে।
আচরণ বিধিমালার আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট সকল দফতরকে নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের বিষয়টি অবহিত করা হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর শাহেদা ইসলাম। বোর্ডের নিজস্ব ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে একই নির্দেশনা জারি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি)। মাউশির পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) প্রফেসর মোহাম্মদ শামছুল হুদার স্বাক্ষরে গত ২৭ নভেম্বর এ নির্দেশনা জারি করা হয়। মাউশির সকল আঞ্চলিক পরিচালকসহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষকের প্রতি এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট সকলকে বিষয়টি অবহিত করার জন্যও বলা হয়েছে নির্দেশনায়।

x